শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৯:৫৫
ইরানের হয়ে লড়ার ঘোষণা দিল ইরাকের কাতায়েব হিজবুল্লাহ

চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভূমিতে আগ্রাসন চালাতে পারে বলে আশঙ্কা আছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তেহরানের পক্ষে লড়াই করার ঘোষণা দিচ্ছে একের পর এক সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দেশ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন হামলার হুমকি ক্রমেই বাড়ছে। চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভূমিতে আগ্রাসন চালাতে পারে বলে আশঙ্কা আছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে তেহরানের পক্ষে লড়াই করার ঘোষণা দিচ্ছে একের পর এক সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দেশ। সেই সহযোগীর কাতারে যুক্ত হলো ইরাকের কাতায়েব হিজবুল্লাহ।

ইরান-সমর্থিত একটি শক্তিশালী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম কাতায়েব হিজবুল্লাহ।  যোদ্ধা সংগঠনটি তাদের সৈনিকদের নির্দেশ দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তবে প্রতিবেশী দেশটিতে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতির জন্য যেন তারা প্রস্তুত থাকে।

কাতায়েব হিজবুল্লাহ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে যে, এ অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু করলে তাদের ‘প্রচণ্ড ক্ষতির’ সম্মুখীন হতে হবে। অন্যদিকে একটি সশস্ত্র উপদলের একজন কমান্ডার জানিয়েছেন যে, হামলা হলে তাদের গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ করার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ আছে।

কাতায়েব হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন হুমকি এবং সামরিক সমাবেশের মধ্যে এ অঞ্চলে একটি বিপজ্জনক উত্তেজনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তাই সব যোদ্ধার জন্য একটি সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন।

ওই কমান্ডার বলেন, তার গোষ্ঠী ইরানকে তাদের নিজস্ব স্বার্থের জন্য কৌশলগত মিত্র মনে করে, তাই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর যেকোনো আক্রমণ ‘সরাসরি আমাদের জন্য হুমকি।’

গত বছর ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হস্তক্ষেপ করেনি। তবে এবার ওই কমান্ডার জানান, তারা কম সংযত থাকবে, বিশেষ করে যদি হামলাগুলো ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের উদ্দেশ্যে করা হয়।

গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের সময় কয়েক মাস ধরে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এ অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ আক্রমণ চালিয়েছে। পরে মার্কিন ও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে হামলাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার চাপ বাড়তে থাকে।

ইরান-সমর্থিত এসব গোষ্ঠী তথাকথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এর অংশ, যার মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও আছে। 

হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা এ সপ্তাহে বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যদি ‘সীমিত’ হয় তবে লেবানিজ এই গোষ্ঠী সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ওপর যেকোনো আক্রমণকে তারা ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা হিসেবে বিবেচনা করবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে হামলার যে হুমকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তা কার্যকর করতে তিনি ইরানের কাছে যুদ্ধজাহাজ ও ফাইটার জেট মোতায়েন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফা বৈঠকে বসেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, আলোচনায় ‘খুব ভালো অগ্রগতি হয়েছে’।

এর আগে আফগানিস্তান জানিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে তারা তেহরানের চাহিদা অনুযায়ী সহযোগীতা করতে প্রস্তুত। এছাড়া ইয়েমেনের হুথি ও লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারাও ইরানের হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha