সোমবার ১৮ মে ২০২৬ - ১২:০৩
শহিদ রায়সি অহংকারীদের প্রতি ছিলেন দৃঢ়, সাধারণ মানুষের প্রতি ছিলেন বিনয়ী

শহিদ রায়সি অহংকারীদের প্রতি ছিলেন দৃঢ়, আর সাধারণ মানুষের প্রতি ছিলেন বিনয়ী। শহিদ আইয়াতুল্লাহ রায়সি ছিলেন একজন বিশ্বস্ত, বিপ্লবী, নেতৃত্বের প্রতি অনুগত এবং দুর্নীতিবিরোধী প্রশাসক, যিনি অহংকারীদের প্রতি ছিলেন দৃঢ় সহিব।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় প্রশাসনিক ও কর্মীসংস্থান সংস্থার প্রধান ডাঃ মিঃ লতিফি জানান, শহিদ রায়সি যখন মাশহাদের ইমাম রেজার (আ.) দরগাহর ট্রাস্টি হিসেবে নিযুক্ত হন, তখন থেকেই আমাদের তার সাথে পরিচয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে, যুবক ও মেধাবীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকে তার অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, শহিদ রায়সি মাশহাদের ইমাম রেজার (আ.) দরগাহর ট্রাস্টি হওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে, আমি জনগণের সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও জনগণের শাসন সম্পর্কিত কাজ করেছি, এ কারণে তিনি তেহরানে একটি সভার আয়োজন করেন এবং ইমাম রেজার (আ.) এর প্রতি সেবার ক্ষেত্রে জনগণের সক্ষমতা ব্যবহারের ধারণা উত্থাপিত হয়, যা পরবর্তীতে 'খাদেমিয়ারানে রেজভী' বা 'রেজভীর সেবকদের' নেতৃত্ব দেয়।

জনগণের প্রতি শহিদ রায়সির বিনয় এবং অহংকারীদের প্রতি দৃঢ়তা

শহিদ রায়সির ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে লতিফি বলেন, তিনি ছিলেন খুবই বিনয়ী ব্যক্তি, তিনি কখনোই কাউকে সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতেন না। নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি তিনি ছিলেন খুবই নম্র, কিন্তু অহংকারীদের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়, স্পষ্টবক্তা ও সাহসী। তিনি কখনোই ধর্মীয় বিষয়ে ভান করা ব্যক্তি ছিলেন না। প্রদেশ সফরে যদি জামাতে নামাজ প্রতিষ্ঠিত হতো, তাহলে তিনি মুজতাহিদ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও নামাজের ইমামের অনুসরণ করতেন।

ত্রয়োদশ সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় প্রশাসনিক ও কর্মীসংস্থান সংস্থার প্রধান অক্লান্ত পরিশ্রমকে শহিদ রায়িসীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তিনি ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করতেন। আমাদের নেতা, মহান হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেই তাকে সতর্ক করে বলেন যে, আপনি বিশ্রাম নিন, কিন্তু শহিদ রায়িসী বলেন, আমি কাজ করতে করতে ক্লান্ত হই না।

আমরা সৈনিক; নেতার পরিকল্পনাই দেশের একমাত্র সুর

ইমাম সাদিক (আ.) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সদস্য শহিদ রায়িসীর নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যকে অসাধারণ বলে বর্ণনা করে বলেন, তিনি কখনোই নেতাকে তার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেননি, বরং তিনি নিজেই নেতার ঢাল হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সেনাপতি শিরাজীকে বলেছিলেন, আমাদের দেশে একটি সুর রয়েছে এবং তা হল মহান নেতার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা এবং আমরা সৈন্য, আমাদের কর্তব্য হল তার চিন্তাগুলো বাস্তবায়ন করা।

তিনি আরও বলেন, শহিদ রায়িসী ছিলেন 'সাইয়্যেদুল মাহরুমিন' বা 'বঞ্চিতদের নেতা'। তিনি তার ট্রাস্টিশিপের অংশ হিসেবে যে নযরানা পেতেন তা দরিদ্র অঞ্চলে ক্লিনিক ও হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় করতেন। মন্ত্রিসভার সভায় তিনি নাহজুল বালাগা থেকে পাঠ করতেন যে, সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি অভিজাতদের সন্তুষ্টির চেয়ে বেশি (অগ্রাধিকার পায়)। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল খুবই সাধারণ এবং তিনি তার আয়ের বেশির ভাগ অংশই দান-খয়রাত ও প্রয়োজনীয় লোকেদের সাহায্য করতে ব্যয় করতেন।

লতিফি শহিদ রায়িসীর প্রশাসনিক শৈলীকে অংশগ্রহণমূলক বলে উল্লেখ করে বলেন, এমনকি যদি তার ব্যক্তিগত মতমন্ত্রীদের ভোটের থেকে ভিন্ন হতো, তবুও তিনি তা মেনে নিতেন। তিনি বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং মন্ত্রিসভার সভায় তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানাতেন। এক কথায়, শহিদ রায়িসী ছিলেন একজন 'বিশ্বস্ত, বিপ্লবী, নেতৃত্বের প্রতি অনুগত, দুর্নীতিবিরোধী প্রশাসক'।

যুবকদের প্রতি পরামর্শ: ক্লান্ত হইও না, পরামর্শ কর, আধ্যাত্মিকতাকে গুরুত্ব দাও

যুবকদের জন্য শহিদ রায়িসীর প্রশাসনিক পরামর্শ সম্পর্কে লতিফি বলেন, তিনি জোর দিয়ে বলতেন, ক্লান্ত বা হতাশ হইও না, বড়দের কাছ থেকে এমনকি বিরোধী দল থেকেও পরামর্শ নাও, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দাও, আধুন্ঞানে পারদর্শী যুবকদের সক্ষমতা কাজে লাগাও এবং ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত কাজগুলো অনুসরণ কর।

অনুসরণ করাই ছিল শহিদ রায়িসীর প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্য

তিনি শহিদ রায়িসীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে 'অনুসরণ করা'র কথা উল্লেখ করে একটি উদাহরণ দেন: কিছু সংস্থার আপত্তি সত্ত্বেও তিনি উত্তরাঞ্চলের ৬০ মিটার সৈকত খোলার আদেশ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সভাগুলোতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরিবেশমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চাইতেন যে, এটি কোন অবস্থায় পৌঁছেছে।

ত্রয়োদশ সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট শত্রুর প্রতি শহিদ রায়িসীর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে বলেন, তিনি ছিলেন 'আশিদ্দাউ আলাল কুফফার' (কাফেরদের প্রতি কঠোর) এর উদাহরণ এবং তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, যদি শত্রু আঘাত করে, তাহলে পিছিয়ে আসা ও দুর্বলতা তাকে আরও সাহসী করে তোলে। এই লক্ষ্য নিয়েই শহিদ রায়সির জোর দেওয়ার কারণে 'ওয়াদা সাদেক-১' (সত্যের প্রতিশ্রুতি-১) অপারেশন সংঘটিত হয়। এমনকি গাজা ইস্যুতেও, তাঁর নিজের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে মুসলিম দেশগুলোর একটি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল, তিনি সৌদি আরবে একটি জরুরী বৈঠকে (অংশ) নেন, কিন্তু বৈঠক শেষে তাকে মক্কা ও মদীনা জিয়ারতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি বলেন, 'আমি জিয়ারত করতে আসিনি, গাজা নিয়ে আলোচনায় এসেছি' এবং জিয়ারত ছাড়াই ফিরে আসেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha