হাওজা নিউজ নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হাওজায়ে ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আলীরেজা পানাহিয়ান সোমবার টেলিভিশনের ‘সামতে খোদা’ অনুষ্ঠানে মহররম ও সফর মাসের শোকানুষ্ঠানের দর্শন এবং এর সময়ক্রম সম্পর্কে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, আমরা আশুরার ১০ দিন আগে থেকেই শোক পালন করি। স্পষ্টতই এই ১০ দিন আমাদের আশুরার জন্য প্রস্তুত করে। আশুরার আগের রাতগুলোতে শোক পালনের জন্য বিভিন্ন বিষয় ও মুসিবত রয়েছে। আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর অনুসারীরা যদি শুধু আশুরার দিন থেকে শোক পালন শুরু করেন, তাহলে বাস্তবে তাঁরা বহু গুরুত্বপূর্ণ মুসিবত থেকে বঞ্চিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, এক রাত হযরত আবুল ফজল আব্বাস (আ.)-এর জন্য, এক রাত হযরত আলী আকবর (আ.)-এর জন্য এবং প্রতিটি রাতে কারবালার একজন করে শহীদের জন্য শোক পালন করা অত্যন্ত সুন্দর একটি রীতি। এটি আল্লাহর ওলিদের অনুসৃত পদ্ধতিও ছিল; এটি কোনো মনগড়া বিষয় নয়। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) মহররমের প্রথম দিন থেকেই শোকে বিমর্ষ হয়ে পড়তেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মুমিনদের অন্তর বাহ্যিক দৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের মতো মনে হলেও তা সুন্দর ও গভীর জ্ঞানে পরিপূর্ণ। এ কারণেই আল্লাহ ও তাঁর ওলিরা আমাদের পথনির্দেশ করেছেন। মহররমের প্রথম ১০ দিন এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। এরপর আশুরার পরও আমরা ৪০ দিন শোক পালন করি এবং শেষ পর্যন্ত আরবাঈনে পৌঁছাই।
চল্লিশ দিনের সাধনা ও শোকের তাৎপর্য
হাওজায়ে ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক ৪০ দিনের সাধনার তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘চিল্লা’ বা চল্লিশ দিনের সাধনারও একটি অর্থ রয়েছে। সাধারণত একজন মানুষ যদি আধ্যাত্মিক উন্নতি অর্জন করতে চান এবং কোনো একটি আচরণ বা সাধনায় ধারাবাহিকভাবে অভ্যস্ত হতে চান, তাহলে ন্যূনতম সময় হিসেবে ৪০ দিন বিবেচনা করা হয়। এক বছরের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর শোকে এই ৪০ দিনের সাধনাও স্বাভাবিক বিষয়। আর আজ ২ কোটি মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মহিমান্বিত আরবাঈন এই আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রকাশে পরিণত হয়েছে। এই আন্দোলন একজন মুমিনের জ্ঞানগত ও ভালোবাসাগত-উভয় ধরনের উন্নতি সাধন করে।
কেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শোকের দশক আরবাঈনের পর?
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শোক পালনের দশক আরবাঈনের পর হওয়ার প্রসঙ্গে হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান বলেন, কেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শোকের দশক এর পরে রাখা হয়েছে-এর একটি হিকমত সম্ভবত এই যে, মানুষকে প্রথমে এমন একটি পরিপক্বতা অর্জন করতে হবে, যাতে সে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুসিবতের মজলিসে পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুসিবত উপলব্ধি করা অত্যন্ত কঠিন। এমনকি ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)-এর মুসিবত উপলব্ধি করাও খুব কঠিন। ইমাম রেজা (আ.)-এর মুসিবত উপলব্ধির ক্ষেত্রেও বিশেষ জটিলতা রয়েছে।
হাওজায়ে ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, সাইয়্যেদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মুসিবত অত্যন্ত প্রকাশ্য ও স্পষ্ট। তীর ও বর্শার আঘাত, তৃষ্ণা, তাঁবু লুট এবং কারবালার অন্যান্য ঘটনা-সবকিছু এমনভাবে ঘটেছে, যা সবাই সহজেই বুঝতে পারে। এ কারণেই মানুষ এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। এমনকি যার চিন্তার স্তর খুব বেশি উন্নত নয়, সেও এসব মুসিবত বুঝতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, এটি মানুষের জন্য এমন একটি দরজা খুলে দেয়, যার মাধ্যমে সে প্রবেশ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)-এর মজলুমিয়ত এতটাই জটিল যে, তাঁর কিছু অনুসারীও তাঁর কাছে এসে ‘হে মুমিনদের অপমানকারী!’ বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং তাঁকে নিয়ে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। সুতরাং আমরা যদি বলি যে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মুসিবতকে প্রথমে উপলব্ধি করার মাধ্যমে মানুষ ইমাম হাসান (আ.)-এর মুসিবত বোঝার পর্যায়ে পৌঁছায়, তাহলে তা অমূলক হবে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুসিবত-কারবালার বহু ঘটনার মূল
হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুসিবত ছিল অনেক বেশি ব্যাপক ও জটিল। আমরা বলতে পারি না যে, ইমাম হুসাইন (আ.) সাইয়্যেদুল মুরসালিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি মুসিবতের শিকার হয়েছেন। বরং আবা আবদিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র দেহে যে সব আঘাত এসেছিল, সেগুলো মূলত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সৃষ্ট বিচ্যুতি ও বক্রতার এবং তাঁর বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা প্রতিরোধের ফল।
তিনি বলেন, ইয়াজিদ তার কর্মকাণ্ডের শেষ পর্যায়ে বলেছিল: “বনু হাশিম রাজত্ব নিয়ে খেলেছে; কোনো ওহি আসেনি এবং কোনো বার্তাও অবতীর্ণ হয়নি।” অর্থাৎ তার অন্তর্গত ক্ষোভ ও বিদ্বেষের শিকড়ও সেই একই জায়গায় ফিরে যায়।
হাওজায়ে ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, সাইয়্যেদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মুসিবত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হৃদয়েও বিদ্যমান। আমরা যখন ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য মজলিস করি, তখন এসব মুসিবতের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো সম্পর্ক নেই-বিষয়টি এমন নয়। এগুলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুসিবতেরই একটি অংশ; এর সঙ্গে আহলে বাইত (আ.)-এর অন্যান্য মুসিবত এবং স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুসিবতও যুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বাণীতে বলেছেন, ‘আমার মতো কোনো নবীকে এতটা কষ্ট দেওয়া হয়নি।‘ তবে এসব কষ্ট অবশ্যই বাহ্যিক ও দৃশ্যমান ছিল না; বরং তা ছিল আরও জটিল ও গোপন। পবিত্র কুরআনেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন: ‘আমি তোমার ওপর কুরআন অবতীর্ণ করিনি যাতে তুমি দুর্ভোগে পতিত হও’ এবং “সম্ভবত তুমি তাদের জন্য দুঃখে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবে।”
হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করেছেন। কিন্তু তাঁর সেই কষ্ট উপলব্ধি করার জন্য সাইয়্যেদুশ শুহাদা (আ.)-এর শোকে একটি পূর্ণ আরবাঈন অতিক্রম করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ সেই উপলব্ধির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম রেজা (আ.)-এর মুসিবত-গভীর ও জটিল
ইমাম রেজা (আ.)-এর মুসিবত সম্পর্কে তিনি বলেন, ইমাম রেজা (আ.)-এর মুসিবতও বিশেষ ধরনের জটিলতায় পরিপূর্ণ। একসময় কিছু শিয়া ইমাম মুসা কাযিম (আ.)-কে ইমাম হিসেবে মেনে নিয়েছিল; কিন্তু তারা বলেছিল, এরপর অষ্টম ইমাম আর ইমাম নন। এ কারণেই কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, ইমাম রেজা (আ.)-এর জিয়ারতের ফজিলত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতের চেয়েও বেশি। কারণ এখানে এমন লোকেরা উপস্থিত হন, যারা বারো ইমামের বেলায়েত মেনে নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এটি মুসিবত উপলব্ধিতে উন্নতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র। ‘মুসিবত বোঝার ক্ষেত্রে উন্নতি’ কথাটির অর্থ আমরা যে শব্দগুলো ব্যবহার করি, তার চেয়েও অনেক গভীর। মুসিবত বোঝার ক্ষেত্রে উন্নতি বলতে আসলে দ্বীনি জ্ঞান বোঝার ক্ষেত্রে উন্নতিকে বোঝায়। কারণ দ্বীনের গভীরতম জ্ঞান এসব মুসিবত ও শোকের মজলিসের মধ্যেই নিহিত রয়েছে।
মজলিস শুধু অনুভূতি নয়; আহলে বাইতের মুসিবতের মধ্যেই রয়েছে দ্বীনের গভীরতম জ্ঞান
কুরআন ও শোক পালনে অনুভূতি ও জ্ঞানের অবস্থান সম্পর্কে হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান বলেন, আমরা কুরআন সুর করে তিলাওয়াত করি এবং এ বিষয়ে অনেক উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কুরআন কি জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ নয়? কুরআন বিধান ও গভীর অর্থে পরিপূর্ণ। তাহলে আমরা কেন তা সুর করে পড়ি? অতএব অনুভূতি চিন্তার পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে।
তিনি বলেন, নওহার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। নওহা সুর ও আবেগের সঙ্গে পাঠ করা হয়-এর অর্থ এই নয় যে, এতে গভীর অর্থ থাকতে পারে না অথবা সুরের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ পাচ্ছে বলে এর মধ্যে জ্ঞানগত দিক নেই।
হাওজায়ে ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, নৈতিকতা, বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা এবং অন্যান্য সব ক্ষেত্রের সবচেয়ে গভীর জ্ঞান আমরা এসব মুসিবতের মধ্যেই পেয়েছি। এমনকি আমাদের গভীরতম রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলোও এসব মুসিবতের মধ্যেই রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক একটি পরামর্শের ভিত্তিতে-যে পরামর্শ ইমাম রেজা (আ.) আন্তরিকতার সঙ্গে তাকে দিয়েছিলেন-মামুন ইমামকে শহীদ করেছিল। এটি ইমামদের মধ্যে সবচেয়ে রাজনৈতিক প্রকৃতির শাহাদাতগুলোর একটি। ইমাম রেজা (আ.)-এর সঙ্গে একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল। ইমাম রেজা (আ.) মামুনের প্রতি রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও উদারতার পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, তার শাসনকেন্দ্র বাগদাদে নিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে তার ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু নিজের ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য মামুন প্রথমে ইমাম রেজা (আ.)-কে শহীদ করেছিল।
তিনি বলেন, এটি এমন একটি বিষয়, যা মানুষকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হয় এবং যা খুব সহজে চোখে পড়ে না। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর প্রকাশ্য ও দৃশ্যমান শাহাদাতের মতো এটি নয়। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ক্ষেত্রে হযরত আবুল ফজল আব্বাস (আ.)-এর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা হযরত আলী আসগরের (আ.) পবিত্র গলায় তীর বিদ্ধ হওয়ার মতো মজলিস রয়েছে, যা সবাই সহজে বুঝতে পারে। কিন্তু এখানে সফর মাসের শেষের মজলিসগুলো আরও গভীর; এগুলো উপলব্ধি করার জন্য চিন্তা-ভাবনা প্রয়োজন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যাপারে আমাদের জ্ঞানগত ঋণ এখনো রয়ে গেছে
হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান বলেন, শিয়াদের এমন মনে করা উচিত নয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের পর্যায় আমরা অতিক্রম করে ফেলেছি।
তিনি বলেন, আমরা শিয়ারা কখনো কখনো মনে করি, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচয় ও জ্ঞান সম্পর্কে আমরা যেন দুটি কোর্স সম্পন্ন করে ফেলেছি; এখন আর কোনো সমস্যা নেই, শুধু বাকি ইমামদের (আ.) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, যেন এখন শুধু পুরো বিশ্বকে আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর বেলায়েত গ্রহণে রাজি করানোই বাকি। অথচ বিষয়টি এমন নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচয় ও জ্ঞান অর্জনের সেই দুই পাঠও আমরা এখনো উত্তীর্ণ হতে পারিনি; তাঁর প্রতি আমাদের ঋণ এখনো রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি এমন নয় যে, আমরা প্রাথমিক স্তর শেষ করেছি, সনদও পেয়েছি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকও শেষ করেছি, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পালা। বরং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচয় এবং আমাদের প্রতি তাঁর প্রত্যাশা সম্পর্কে আমাদের এখনো পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধি অর্জিত হয়নি।
‘আমরা কুফার অধিবাসী নই’ যথেষ্ট নয়; বলতে হবে ‘আমরা মক্কার অধিবাসী নই’
‘আমরা কুফার অধিবাসী নই, আলীকে একা থাকতে দেব না; আমরা কুফার অধিবাসী নই, হুসাইনকে একা থাকতে দেব না’-এই স্লোগানের প্রসঙ্গে হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান বলেন, এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি স্লোগান এবং তিনি এর বিরোধিতা করছেন না। তবে এর পাশাপাশি আরও একটি স্লোগানের প্রতি আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত:
‘আমরা মক্কার অধিবাসী নই, যাতে মুহাম্মদ (সা.) একা থাকেন।‘
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় ১৩ বছর একাকী অবস্থায় ছিলেন। আমাদের এমনটি বলা উচিত নয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যদি আজ আমাদের মাঝে নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে আসতেন, তাহলে আমরা অবশ্যই তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করতাম।
হাওজায়ে ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, আমি চাই এই দিনগুলোতে কিছুটা এ বিষয়ে আলোচনা করতে-রাসুলুল্লাহ (সা.) যদি আজ তেহরানে নবুয়তপ্রাপ্ত হতেন, তাহলে আমরা তাঁর কথাকে কতটা গ্রহণ করতাম? অবশ্য ইমাম খোমেনির ভাষায়, আমাদের তেহরান প্রাথমিক ইসলামের সময়ের চেয়ে উত্তম-এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এমনও নয় যে, আমরা মনে করব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিচয় ও জ্ঞান সম্পর্কিত সব পাঠ আমরা সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে পাস করে ফেলেছি এবং এখন অন্য বিষয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বেলায়েত-আমিরুল মুমিনীন (আ.)-এর বেলায়েত গ্রহণের পূর্বশর্ত
‘যার মাওলা আমি, আলীও তার মাওলা’-এই হাদিসের প্রসঙ্গে হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা।” অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার বেলায়েত গ্রহণ করেছে, সে আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর বেলায়েতও গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, এই বক্তব্যের অর্থ কী? এর অর্থ হলো, মূল সমস্যা আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর বেলায়েতের ক্ষেত্রে নয়; বরং সমস্যা ছিল আমার-অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর-বেলায়েতের ক্ষেত্রে। আমরা আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর বেলায়েত নিয়ে বেশি আলোচনা করি; অথচ আমাদের দেখা উচিত, কেন মানুষ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বেলায়েত গ্রহণ করত না।
হাওজায়ে ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, বিষয়টি শুধু মক্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না; মদিনাতেও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বেলায়েত নিয়ে আলোচনা ও বিরোধ ছিল। এ বিষয়ে আমাদের আলোচনা করা প্রয়োজন। কারণ যে ব্যক্তি মহান রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বেলায়েত গ্রহণ করে, সে আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর বেলায়েতও গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ঈমান আনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা এবং তাঁর বিরোধিতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল পূর্বপুরুষদের চিন্তার অন্ধ অনুসরণ। তারা বলত, ‘আমরা এভাবে চিন্তা করি না, কারণ আমাদের পিতৃপুরুষেরা এভাবেই চিন্তা করতেন।‘
হুজ্জাতুল ইসলাম পানাহিয়ান জড়তা ও অন্ধ রক্ষণশীলতার শৃঙ্খল ভাঙার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মহান ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মহত্ত্ব এখানেই যে, তিনি মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক জড়তা ভেঙে দিয়েছিলেন এবং তাদের এমনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিলেন, যার ফলে চিন্তার গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং মনের ওপর জমে থাকা পুরোনো ধারণার আস্তরণ থেকে মানুষ মুক্তি পায়।
আপনার কমেন্ট