হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পবিত্র মহররম মাসের প্রাক্কালে ইরানের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও আহকাম বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ওয়াহিদপুরের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এতে তিনি শোকানুষ্ঠানের বিধান ও সাইয়্যেদুশ শুহাদা (আ.)-এর শোক পালনের আদব সম্পর্কে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন— বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সাল্লাল্লাহু আলাইকা ইয়া আবা আবদিল্লাহ।
ফিকহি বিষয়গুলোর বিস্তৃতি কতটা—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আকিদার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পাঁচটি মূলনীতি রয়েছে: তাওহিদ, নবুওয়ত, মা‘আদ, আদল ও ইমামত। অনুরূপভাবে নৈতিকতার ক্ষেত্রেও কিছু নির্ধারিত মূল্যবোধ ও অবমূল্যবোধ রয়েছে।
কিন্তু শরিয়তের বিধান এভাবে সীমিত নয়। নতুন নতুন বিষয়, পরিবর্তিত সামাজিক পরিস্থিতি ও আধুনিক সমস্যার সাথে সাথে শরিয়তের পরিসরও ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর আমরা নানা নতুন বিষয়ের মুখোমুখি হয়েছি। যেমন—পূর্বে সাধারণ ক্রয়-বিক্রয় প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে ডিজিটাল মুদ্রা, অনলাইন লেনদেন ইত্যাদি নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে, যেগুলোর শরয়ি বিধান জানা জরুরি।
অতএব ফিকহের ক্ষেত্র সীমিত নয়; বরং এটি মানুষের সব ইচ্ছাধীন কাজের সমান বিস্তৃত। মানুষের প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রেই প্রশ্ন ওঠে—এর শরয়ি বিধান কী? এবং তা জানা যায় মারজায়ে তাকলিদের ফতোয়া অনুসরণের মাধ্যমে।
এই বিশাল ফিকহি পরিসরের একটি অংশ হলো মহররম মাসে আমাদের আচরণ ও শোক পালনের পদ্ধতি। কোন ধরনের শোক পালন বৈধ এবং কোনটি বৈধ নয়—তা শরিয়তের মানদণ্ডেই নির্ধারিত।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ নিজের রুচি ও ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনোভাবে শোক পালন করে, তবে তা শরয়ি বিধান নয়; বরং তা প্রবৃত্তির অনুসরণ। এটি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নয়।
অতএব, আমরা যদি আন্তরিকভাবে এবং আল্লাহ তাআলা ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শোক পালন করতে চাই, তবে অবশ্যই শরিয়তের পূর্ণ অনুসরণ করতে হবে।
ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
আপনার কমেন্ট