হাওজা নিউজ এজেন্সি: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ফাতিমাতুজ যাহরা (সা.আ.) মহিলা হাওজা ইলমিয়ার অধ্যক্ষ রাযিয়েহ আগাবাবায়ী-বানি বলেন, মহররমকে কেবল শোকানুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে এর প্রকৃত শিক্ষা ও তাৎপর্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়। বরং এই মাস সত্যকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা, মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা সৃষ্টি এবং আশুরার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
তিনি মহিলা তালিবাত (মহিলা ধর্মীয় শিক্ষার্থী)-এর বিশেষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, মহিলা হাওজা ইলমিয়াগুলো সমাজের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, নারীরা পরিবার গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার মাধ্যমে সমাজের সাংস্কৃতিক ভিত্তি নির্মাণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
রাযিয়েহ আগাবাবায়ী-বানি বলেন, মহিলা তালিবাত আশুরার প্রকৃত শিক্ষা সঠিকভাবে উপস্থাপন, মানুষের বিশ্বাস ও ইতিহাস-সম্পর্কিত সংশয়ের জবাব প্রদান, প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত করা এবং আশা ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করার মাধ্যমে ‘জিহাদে তাবয়ীন’ (সত্যকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনের সংগ্রাম)-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, আজকের সমাজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আন্দোলনের শিক্ষা—সত্যের পক্ষে অবস্থান, জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আত্মত্যাগ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ—সময়ের ভাষায় ও মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উপস্থাপনের অধিক প্রয়োজন অনুভব করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক প্রচলিত ও গতানুগতিক দাওয়াতি পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একজন দাঈ বা ধর্মপ্রচারক তখনই কার্যকর হতে পারেন, যখন তিনি শ্রোতার প্রকৃত চাহিদা, বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের চিন্তাধারা, প্রশ্ন ও মানসিকতা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন। বর্তমান প্রজন্ম কেবল একমুখী বক্তৃতায় সন্তুষ্ট নয়; তারা সংলাপ, আন্তরিকতা, প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর এবং আধুনিক ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনা প্রত্যাশা করে।
তিনি ধর্মীয় প্রচারে পরিবর্তনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, শ্রোতাকে সঠিকভাবে জানা, প্রশ্নোত্তর পর্ব, আলোচনা চক্র, ঘটনাভিত্তিক বর্ণনা এবং সংক্ষিপ্ত অথচ প্রভাবশালী বিষয়বস্তু তৈরি—এসবই সফল ধর্মীয় প্রচারের অন্যতম প্রধান উপাদান।
বেন শহরের ফাতিমাতুজ যাহরা (সা.আ.) মহিলা হাওজা ইলমিয়ার অধ্যক্ষ বলেন, জিহাদে তাবয়ীনে সফল হতে মহিলা তালিবাতদের গভীর ধর্মীয় জ্ঞান, গণমাধ্যম-সচেতনতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সাবলীল বক্তব্য উপস্থাপনের ক্ষমতা, সমসাময়িক সংশয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা এবং সৃজনশীলভাবে বিষয়বস্তু নির্মাণের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এসব গুণ যদি আন্তরিকতা ও তাকওয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে ধর্মীয় প্রচারের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
তিনি মহররম উপলক্ষে তাদের প্রতিষ্ঠানের দাওয়াতি কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি যেন আমাদের কার্যক্রম কেবল শোকানুষ্ঠানকেন্দ্রিক না হয়ে সচেতনতামূলক, আশাব্যঞ্জক এবং সমাজের বাস্তব সমস্যাভিত্তিক হয়। এ লক্ষ্যে নারী ও কিশোরীদের জন্য বিশেষ আলোচনা সভা, গৃহভিত্তিক ধর্মীয় মাহফিলের (হাইআত) সক্ষমতা কাজে লাগানো, আকিদা ও ইতিহাস-সম্পর্কিত সংশয়ের জবাব প্রদান এবং হুসাইনি জীবনাদর্শ, শালীনতা ও হিজাব, ধৈর্য এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি বলেন, তালিবাতদের মেধা ও সক্ষমতা চিহ্নিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও সাংস্কৃতিক বিভাগের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের উচিত ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর যোগ্যতা নির্ণয় করে সেই অনুযায়ী গণমাধ্যমভিত্তিক বা সরাসরি দাওয়াতি দায়িত্ব অর্পণ করা। ব্যবস্থাপকদের দৃষ্টিভঙ্গি যদি সহযোগিতামূলক, উৎসাহব্যঞ্জক ও সক্ষমতা বিকাশমুখী হয়, তবে মহিলা তালিবাত আরও অধিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও কার্যকারিতার সঙ্গে জিহাদে তাবয়ীনের অঙ্গনে অবদান রাখতে পারবেন।
আপনার কমেন্ট