হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, কাশান অঞ্চলের হাওজা ইলমিয়ার শিক্ষক ও মেধাবী ব্যক্তিদের বাসিজ ঘাঁটির কমান্ডার হুজ্জাতুল ইসলাম আবুযার শুরাবিয়ান রবিবার হাওজা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শহীদ নেতা ও ইমামের শেষযাত্রায় জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল এক আন্তঃজাতীয় সংহতির বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, এই উপস্থিতি সর্বাগ্রে ‘বিশ্বব্যাপী জাগরণ’ এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টের বিশ্বায়ন’-এরই প্রমাণ।
তিনি বলেন, এই বিশাল জনস্রোত এবং অগণিত অনুরাগী মানুষের সমাবেশ কেবল একটি গণসমাবেশ ছিল না; এটি ছিল এক মহান সত্যের প্রকাশ। সেই সত্য হলো-শহীদদের পথের সঙ্গে এই জাতির সম্পর্ক তাদের আত্মা, ঈমান, আত্মমর্যাদা এবং ঐতিহাসিক পরিচয়ের গভীরে প্রোথিত। একই সঙ্গে ইরাকের জনগণের উৎসাহী ও বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম ও স্বাধীনতাকামী মানুষের কার্যকর উপস্থিতি এই ঘটনাকে ভৌগোলিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ৪ কোটি ৫০ লাখ প্রেমময়, সচেতন ও অবিচল মানুষের উপস্থিতি বিশ্বে এমন এক দৃশ্য সৃষ্টি করেছে, যার মহিমা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। এই মহাকাব্যিক সমাবেশ ছিল সেইসব শত্রুর বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী জবাব, যারা বহু বছর ধরে বিষাক্ত প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে তাদের আদর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরানের জনগণ তাদের দৃঢ় পদক্ষেপ ও অটল সংকল্পের মাধ্যমে সেই সব ভ্রান্ত ধারণাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঐতিহাসিক মহাকাব্য আবারও প্রমাণ করেছে যে, এই দেশের শত্রুরা না ইরানের জনগণকে চিনেছে, না এই উম্মাহর মহান চেতনাকে উপলব্ধি করতে পেরেছে। আমাদের শহীদ নেতা ও ইমামের জাঁকজমকপূর্ণ শেষযাত্রা ছিল প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসা, ঈমান ও অঙ্গীকারের এক বিশাল গণভোট। একই সঙ্গে এটি ছিল সেই সব বিদ্বেষী শক্তির প্রতি এক স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন ও কঠোর জবাব, যারা এই জাতির মহত্ত্ব এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের ঐক্য সহ্য করতে পারে না।
হুজ্জাতুল ইসলাম শুরাবিয়ান আরও বলেন, এই মহিমার সামনে কেবল কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হৃদয় নিয়ে বলা যায়-হে ইরানের মহান ও সম্মানিত জনগণ, এবং বিশ্বের সর্বত্র থেকে আগত স্বাধীনতাকামী সহযাত্রীরা, আপনারা আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আপনারা প্রমাণ করেছেন যে, শহীদদের পথ আজও জীবন্ত; শহীদ ইমাম ও নেতার পতাকা মাটিতে পড়ে থাকেনি; এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট প্রজ্ঞা, বিশ্বস্ততা ও দৃঢ়তার সঙ্গে মানবিক ও ঐশী আদর্শ রক্ষায় অবিচল থাকবে। এই বিশ্বব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই প্রয়াত নেতার স্মৃতি আরও চিরস্থায়ী হয়েছে এবং ইতিহাসের গৌরবময় পাতায় ইরানি জাতির নাম আগের চেয়ে আরও উজ্জ্বলভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-এই বিপুল জনসমাগম ও উত্তাল জনস্রোত উপস্থিত জনগণের পক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ গ্রহণের এক স্পষ্ট দাবি ও গুরুতর আহ্বান প্রকাশ করেছে। এই পবিত্র ক্ষোভ এবং জাতীয় দাবি দায়িত্বশীলদের ওপর গুরুতর দায়িত্ব অর্পণ করে, যাতে তারা এই গণসমাবেশের বার্তা সঠিকভাবে উপলব্ধি করে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের পদক্ষেপ নির্ধারণ করেন, কোনো দ্বিধা বা বিলম্ব না করে।
কাশান অঞ্চলের হাওজার শিক্ষক ও মেধাবী ব্যক্তিদের বাসিজ ঘাঁটির কমান্ডার বলেন, গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের এই মহান, ঈমানদার, বিশ্বস্ত এবং ইতিহাস-স্রষ্টা ইরানি জাতির সামনে মাথা নত করা উচিত। কারণ, আমাদের শহীদ নেতা ও ইমামের শেষযাত্রায় তাঁদের অসাধারণ, ব্যাপক এবং বিস্ময়কর উপস্থিতি আবারও তাঁদের ঈমানের দৃঢ়তা, আনুগত্যের গভীরতা এবং বিপ্লব ও শহীদদের উচ্চ আদর্শের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।
শেষে তিনি বলেন, এই বিশাল সমাবেশ প্রকৃতপক্ষে সেই প্রিয় শহীদের মহান ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন এবং ইসলাম ও ইসলামী বিপ্লবের উন্নতির লক্ষ্যে তাঁর সারাজীবনের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফল। কারণ আল্লাহর অপরিবর্তনীয় বিধান হলো-যে ব্যক্তি সত্যের পথে এবং তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে চলবে, আল্লাহ তাকেই মানুষের মধ্যে সম্মানিত ও প্রিয় করে তুলবেন।
আপনার কমেন্ট