বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ - ০৯:৩০
শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী তাঁর বরকতময় জীবন ও গৌরবোজ্জ্বল শাহাদাতের মাধ্যমে ইসলামী উম্মাহর মর্যাদা ও সম্মান পুনরুজ্জীবিত করেছেন

পাকিস্তানের জাফরিয়া জোটের (ইত্তেহাদে জাফরিয়া পাকিস্তান) সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ শাহেনশাহ হুসাইন নাকাভী বলেছেন, আয়াতুল্লাহিল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী তাঁর মুজাহিদ ও সংগ্রামী জীবন এবং মজলুম শাহাদাতের মাধ্যমে ইসলামী উম্মাহর হারিয়ে যাওয়া মর্যাদা ও সম্মান পুনরুদ্ধার করেছেন। তিনি প্রতিরোধের সংস্কৃতি এবং হুসাইনি আদর্শের প্রসারের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে আশুরার চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করে গেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ মুহসিন কোম্মির আমন্ত্রণে শহীদ নেতার জানাজার নামাজ ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য তাঁর হয়েছে। এ সফরে পবিত্র নগরী কোমের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত আন্তরিক আতিথেয়তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অতিথিদের সর্বোত্তম সেবা প্রদান করেছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় একশত দেশের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ইসলামী উম্মাহর অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা লাভের সুযোগ হয়েছে, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা।

মাওলানা সাইয়্যেদ শাহেনশাহ হুসাইন নাকাভী বলেন, শহীদ নেতার পবিত্র মরদেহের পাশে উপস্থিত থাকা, জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করা, শেষ বিদায় জানানো এবং কিছু সময় তাঁর কফিন বহনের সৌভাগ্য অর্জন করা—এসব তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ সম্মান ও এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

তিনি আরও বলেন, পবিত্র নগরী কোমে অনুষ্ঠিত শেষ বিদায় অনুষ্ঠান মহিমা, আধ্যাত্মিকতা ও জনসমাগমের দিক থেকে ছিল অনন্য। আয়াতুল্লাহিল উযমা জাওয়াদি আমুলীর ইমামতিতে অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজ, বিশেষ করে তাঁর দোয়া ও তাকবির, পুরো পরিবেশকে ঈমান ও আধ্যাত্মিক আবহে মুখরিত করেছিল এবং উপস্থিত সবার হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

পাকিস্তানের জাফরিয়া জোটের সভাপতি মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে বলেন, আমার আহ্বান শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে সব মুসলমানের প্রতি; যারা আল্লাহর একত্ববাদ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাত, কাবাঘরের কেন্দ্রীয়তা, আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-এর বেলায়েত এবং ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও আন্দোলানে বিশ্বাসী, তাদের জানা উচিত—ইসলামী উম্মাহর মর্যাদা, সম্মান ও শক্তির এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফী, আয়াতুল্লাহ মুহসিন কোম্মি এবং অনুষ্ঠানের আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই শোকাবহ সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থাকার এবং ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা, উম্মাহর শহীদ আয়াতুল্লাহুিল উযমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী তাঁর বরকতময় জীবন এবং মজলুম শাহাদাতের মাধ্যমে ইসলামী উম্মাহর মর্যাদা, সম্মান ও অবস্থানকে আরও উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। তাঁর জীবন ছিল প্রতিরোধ, স্বাধীনচেতা মনোভাব, আত্মমর্যাদাবোধ এবং হুসাইনি আদর্শের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর শাহাদাত মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে আশুরার সংস্কৃতি ও কারবালার চেতনাকে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ইসলামী উম্মাহর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল ও আশাব্যঞ্জক। আল্লাহর শিক্ষা, মহানবী (সা.)-এর আদর্শ এবং আহলুল বাইত (আ.)-এর দিকনির্দেশনার আলোকে ইসলামী বিপ্লবের পতাকা সমুন্নত থাকবে। ইনশাআল্লাহ, সেই দিন অবশ্যই আসবে, যখন এই পতাকা ইমাম মাহদী (আজ্জাল্লাহু তাআলা ফারাজাহুশ শরীফ)-এর হাতে অর্পিত হবে এবং তাওহিদ, ন্যায়বিচার ও ইসলামের বাণী সমগ্র বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha