শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ - ১২:১২
ঐশী প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাসই ইরানের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

ইরানের সাফল্যের মূল ভিত্তি সামরিক শক্তি নয়, বরং ঐশী প্রতিশ্রুতির প্রতি অটল বিশ্বাস এবং জাতীয় সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দৃঢ় আস্থা-এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মেহেদি মোলায়ি। ঢাকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইরানের প্রতিরোধ ও স্থিতিস্থাপকতা: বিশ্বের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক এক সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের বিজয়ের পেছনে কঠোর শক্তির পাশাপাশি নরম শক্তিই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকা: বাংলাদেশের ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মেহেদি মোলায়ি বলেছেন, ঐশী প্রতিশ্রুতির প্রতি অটল বিশ্বাসই ইরানের সাফল্যের মূল রহস্য। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরানের বিজয়ের পেছনে এই বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইরানের প্রতিরোধ ও স্থিতিস্থাপকতা: বিশ্বের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের বিজয়ের কারণ এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।

মেহেদি মোলায়ি বলেন, যুদ্ধের শুরুতেই শীর্ষ নেতৃত্ব ও একাধিক সামরিক কমান্ডারের নিহত হওয়ার পরও ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী এমন একটি রাষ্ট্র পরিচালনা ও সামাজিক প্রস্তুতির মডেল গড়ে তুলেছিলেন, যা অনুসরণ করলে যে কোনো মুসলিম দেশ সাফল্য অর্জন করতে পারে।

তিনি বলেন, ইরানের সাফল্যের ভিত্তি ছিল দুটি প্রধান উপাদান-কঠোর শক্তি (হার্ড পাওয়ার) এবং নরম শক্তি (সফট পাওয়ার)। এর মধ্যে নরম শক্তিই ছিল বিজয়ের মূল চালিকাশক্তি।

মোলায়ির মতে, এই নরম শক্তির তিনটি প্রধান ভিত্তি হলো-ঐশী প্রতিশ্রুতির প্রতি দৃঢ় ঈমান ও বিশ্বাস, ফারসি ভাষা ও সাহিত্যকে জাতীয় গৌরব হিসেবে ধারণ করা এবং ইরানের ইতিহাস ও সাহিত্যকে জীবন্ত রাখা।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম আলিজাদেহ মুসাভি। তিনি সাম্প্রতিক যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইসলামী সভ্যতার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha