হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসফাহান প্রদেশের মহিলা হাওজা ইলমিয়ার সাংস্কৃতিক ও দাওয়াতবিষয়ক উপ-পরিচালক রাযিয়ে শোকরানি হাওজা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশুরার শিক্ষা ও মূল্যবোধ তুলে ধরার ক্ষেত্রে আরবাঈনের পদযাত্রার অনন্য সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন:
আরবাঈন আশুরার আন্দোলনের প্রকৃত বর্ণনা উপস্থাপন এবং বিকৃত বর্ণনার মোকাবিলার জন্য এক অনন্য ক্ষেত্র। নারীরা সচেতন, লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রভাবসৃষ্টিকারী উপস্থিতির মাধ্যমে হোসাইনি মহাকাব্যের "প্রথম ও প্রকৃত বর্ণনা" ইরানি ও অ-ইরানি উভয় ধরনের যিয়ারতকারীদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।
তিনি বলেন, সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘নারীর তৃতীয় মডেল’-অর্থাৎ এমন একজন মুসলিম নারী, যিনি সমাজে সক্রিয়, পরিবারকেন্দ্রিক এবং তাওহিদভিত্তিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন-এই আদর্শের ভিত্তিতে নারীরা মুখোমুখি বর্ণনা, মাওকিবে বহুভাষিক সংলাপ এবং আধুনিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার করে আশুরার প্রকৃত বার্তা বৈশ্বিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
শোকরানি জোর দিয়ে বলেন, আরবাঈনে ‘জিহাদে তাবইন’ যেন শুধু মৌসুমি কার্যক্রম না হয়ে একটি ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ কেবল আরবাঈনের দিনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং সারা বছর ধরে তাঁদের সুসংগঠিত, উদ্দেশ্যপূর্ণ ও কার্যকর উপস্থিতির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে তাঁরা সাংস্কৃতিক নেতৃত্বদানকারী এবং আশুরার চিন্তাধারার প্রচারক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।
হযরত জয়নাব (সা.)-এর জীবনধারা আরবাঈনের পথে নারীদের জন্য কী আদর্শ উপস্থাপন করে-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন:
হযরত জয়নাব (সা.) মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, শ্রোতাদের যুক্তির মাধ্যমে বোঝানো, শত্রুর প্রকৃত চেহারা উন্মোচন এবং ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আন্দোলনের সত্য তুলে ধরার মাধ্যমে আশুরার আন্দোলনকে চিরস্থায়ী করে তুলেছিলেন। আজও নারীরা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে আরবাঈনের ময়দানে কার্যকর ও প্রভাবশালীভাবে ‘জিহাদে তাবইন’ পরিচালনা করতে পারেন।
ইসফাহানের মহিলা হাওযার সাংস্কৃতিক ও দাওয়াতবিষয়ক উপ-পরিচালক আরও বলেন:
আলোচনাচক্র গঠন, যিয়ারতকারীদের সঙ্গে সরাসরি ও আন্তরিক যোগাযোগ, প্রশ্ন ও সংশয়ের উত্তর দেওয়া এবং প্রতিরোধ, আশা ও সত্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া-এসবই আরবাঈনের পথে ‘জিহাদে তাবইন’-এর গুরুত্বপূর্ণ দিক। এসব কার্যক্রম আশুরার সংস্কৃতিকে বর্তমান বিশ্বের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।
ইরানি ও অ-ইরানি যিয়ারতকারীদের সঙ্গে যোগাযোগে নারী শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:
ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তি সম্পর্কে জ্ঞান, ঐতিহাসিক উৎসের ওপর দক্ষতা, সমসাময়িক সংশয় সম্পর্কে অবহিত থাকা এবং সংলাপ ও সহমর্মিতার মানসিকতা-এসব গুণ নারী তালিবাদের (ধর্মীয় শিক্ষার্থী) আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আহলুল বাইতের (আ.) শিক্ষার কার্যকর প্রচারকে সক্ষম করে তুলেছে। তাঁরা মাওকিবগুলোতে সাংস্কৃতিক নেতৃত্বদানকারী এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ভূমিকা পালন করতে পারেন।
শোকরানি আরও বলেন, হযরত জয়নাব (সা.)-এর আদর্শ থেকে উৎসারিত ইসলামী জীবনধারা প্রদর্শনও আরবাঈনে নারীদের উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
তিনি বলেন, ইরানি নারীরা হিজাব ও পবিত্রতার প্রতি অঙ্গীকার, নিঃস্বার্থ সেবাদান, ধৈর্য ও দৃঢ়তা, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সংহতি, সরল জীবনযাপনের প্রচার এবং পরিবারের ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে একটি সভ্যতা নির্মাণকারী মুসলিম নারীর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।
শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন: আরবাঈনের পদযাত্রায় নারীরা কেবল যিয়ারতকারী বা সেবাদানকারী নন; তাঁরা আশুরার সংস্কৃতির দূত, সত্যের বর্ণনাকারী এবং ‘জিহাদে তাবইন’-এর পতাকাবাহী। হযরত জয়নাব (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে তাঁরা বিশুদ্ধ ইসলামের পরিচয় তুলে ধরা, গণমাধ্যমে প্রচারিত বিকৃত বর্ণনার মোকাবিলা এবং ‘নতুন ইসলামী সভ্যতা’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন।
আপনার কমেন্ট