হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, রাওয়ালপিন্ডিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহদি তাহেরি ফয়েজুল ইসলাম অ্যাসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে হজরত শেখুল ইসলাম বাহাউদ্দিন জাকারিয়া মুলতানির স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পাকিস্তান হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ অ্যাসোসিয়েশন এবং ফয়েজুল ইসলাম অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সহযোগিতায় রাওয়ালপিন্ডির ফয়েজুল ইসলাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
তাহেরি তাঁর বক্তব্যে ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও সুফিবাদের ইতিহাসে হজরত বাহাউদ্দিন জাকারিয়া মুলতানির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ছিল গভীর ও অবিচ্ছেদ্য।
আধ্যাত্মিকতার মহান সাধকদের সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে তিনি খোরাসান এবং পরে বাগদাদে যান। সেখানে তিনি শায়খ শাহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যুক্ত হন। সোহরাওয়ার্দী ছিলেন একজন মহান সুফি সাধক, যিনি ইরানের সোহরাওয়ার্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইরানের অন্যতম বিশিষ্ট মনীষী হিসেবে পরিচিত।
ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারসি ভাষার মাধ্যমে এই মহান সুফি সাধকের আধ্যাত্মিক চিন্তাধারা প্রচারের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইরানিদের জন্য এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও গৌরবের বিষয় যে বাহাউদ্দিন জাকারিয়ার হৃদয়ের ভাষা ও লেখনীর ভাষা ছিল ফারসি।
তিনি তাঁর উচ্চতর আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও মূল্যবান বাণীর একটি বড় অংশ প্রাঞ্জল ফারসি ভাষায় প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ফারসি ভাষাকে শুধু কবিতা ও সাহিত্যের ভাষা নয়, বরং এই ভূখণ্ডে ভালোবাসা, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার ভাষা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তাহেরি আরও বলেন, এই অভিন্ন ভাষাগত ঐতিহ্য ইরান ও পাকিস্তানের জনগণের হৃদয়ের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে, যা আজও তার দৃঢ়তা ও গুরুত্ব ধরে রেখেছে। দুই দেশের জনগণের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক সম্পর্কের শিকড় এই অভিন্ন ঐতিহ্যের মধ্যেই নিহিত। সুফিবাদ ও সাহিত্যের মহান ব্যক্তিত্বরা দুই দেশের মধ্যকার এই সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য জাইন কুরেশির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
জাইন কুরেশি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইরানের জনগণের সাহস, দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের প্রশংসা করেন। তিনি এই প্রতিরোধকে ইসলামি বিশ্বের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন।
হজরত বাহাউদ্দিন জাকারিয়া মুলতানির দরবারের খাদেমও বলেন, ইরান একমাত্র ইসলামি দেশ, যে সবসময় ইসলামি বিশ্বের মূল্যবোধ ও আদর্শের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্বের মুসলমানদের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
তিনি ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্কের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
আপনার কমেন্ট