বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:৩৮
ইমাম হাসান ইবনে আলী (আ.)’র শাহাদাত উপলক্ষে খুলনায় কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে শোক মজলিস

মজলিসে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী ইমাম হাসান (আ.)-এর মর্যাদা, দানশীলতা, বিনয় ও আল্লাহভীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইমাম হাসান (আ.) ছিলেন ‘করীম আহলুল বাইত’-আহলুল বাইতের মহান দাতা। পরবর্তীতে মুসলিম উম্মাহর রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে তিনি মুয়াবিয়ার সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে সন্ধি করেন। সেই সন্ধিতে কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন পরিচালনা, উত্তরসূরি মনোনয়ন না করা এবং ইমাম আলী (আ.)-এর অবমাননা ও অভিশাপের প্রথা বন্ধসহ গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। কিন্তু মুয়াবিয়া পরবর্তীতে চুক্তি ভঙ্গ করে পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরসূরি মনোনীত করেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ১২ আগষ্ট ২০২৬ (বুধবার), রাত ৮-০০ ঘটিকায় শোক মজলিসের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও মার্সিয়া পাঠ-এর মাধ্যমে|

মজলিসে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) তাঁকে এবং তাঁর ভাই হোসাইন (আ.) সম্পর্কে বলেছেন, হাসান ও হোসাইন জান্নাতির যুবকদের সর্দার। আহলে বায়েত (আ.) সম্পর্কে আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে সুরা আহযাবের ৩৩ নং আয়াত (তাতহীর) নাজিল করেন।

ইমাম হাসান (আ.) তাঁর জীবনের পুরোভাগে বহুবার নিজের সর্বস্ব আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়েছিলেন। তাঁর উপাধি ছিল করীম আহলুল বাইত বা আহলুল বাইতের দাতা। তাঁর দরজায় আগত কোনো দরিদ্র মানুষ কখনো খালি হাতে ফিরে যায়নি।

তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও আল্লাহর প্রতি সমর্পিতপ্রাণ ছিলেন| যখনই তিনি ওযু করতেন, আল্লাহর ভয়ে তাঁর শরীর কেঁপে উঠত এবং তাঁর মুখমণ্ডলের রং বদলে যেত| যখন তিনি কাবা শরিফে হেটে হজ্জ করতে যেতেন, তখন তিনি খালি পায়ে চলতেন-আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ।

তিনি আরও বলেন, ইমাম হাসান (আ.) যখন দেখলেন যে, তাঁর সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, কুফাবাসীদের একাংশ দোদুল্যমান এবং অনেকেই অর্থের লোভে মুয়াবিয়ার সাথে গোপনে হাত মিলিয়েছে, তখন তিনি রক্তক্ষয়ী ও পণ্ডশ্রমের যুদ্ধ এড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি বিনা শর্তে ক্ষমতা ছেড়ে দেননি, বরং এমন কিছু শর্তে সন্ধি করেন যা মুয়াবিয়ার স্বৈরাচারী ও সুবিধাবাদী চরিত্রকে উম্মতের সামনে স্পষ্ট করে দেয়।

সন্ধির একটি মূল শর্ত ছিল য মুয়াবিয়াকে পবিত্র কোরআন, মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ এবং খেলাফায়ে রাশেদীনের পথ অনুসরণে শাসনকার্য পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে শুরুতেই মুয়াবিয়ার মনগড়া ও রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার  বৈধতা অস্বীকার করা হয়।

চুক্তিতে আরো স্পষ্ট বলা হয় যে, মুয়াবিয়া নিজের পরে কাউকে খলিফা বা উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করতে পরবে না। কিন্তু পরবর্তীতে মুয়াবিয়া এই চুক্তি ভঙ্গ করে তার অযোগ্য পুত্র ইয়াজিদকে ক্ষমতায় বসায়। এর মাধ্যমে মুয়াবিয়ার ওয়াদাখেলাপী ও ক্ষমতার লোভ মুসলিম বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যায়।

চুক্তিতে আরো স্পষ্ট বলা হয় যে, মুয়াবিয়ার দরবারে এবং মিম্বারে ইমাম আলী (আ.)-কে অবমাননা ও অভিসম্পাত করার দীর্ঘদিনের যে সংস্কৃতি ছিল, তা বন্ধ করার শর্ত রাখা হয়। কিন্তু সন্ধি গ্রহণের মাধ্যমে ইমাম হাসান (আ.) মুয়াবিয়াকে এমন এক কোণঠাসা অবস্থায় ফেলেন যেখানে মুয়াবিয়ার ভণ্ডামি ও দুনিয়াপ্রীতি সাধারণ মানুষের সামনে উন্মোচিত হয়ে পড়ে| এই সন্ধি পরবর্তীতে কারবালার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করেছিল।

ইমাম হাসান ইবনে আলী (আ.)-এর তাবুত খুলনা কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীর সামনে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইমামবাড়ীতে প্রবেশ করে। এই শোকসভার আয়োজনে মুসলমানদের স্ব্তঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ হযরত হাসান (আ.)-এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও মানবতার বার্তার প্রতি তাঁদের ভালোবাসার বহি:প্রকাশ। মজলিসের শেষে জিয়ারত এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha