রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬ - ১২:০০
বাচ্চাদের সঙ্গে বয়ঃসন্ধি নিয়ে কখন কথা বলা উচিত?

অনেক অভিভাবক সন্তানদের বয়ঃসন্ধি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে সংকোচবোধ করেন এবং এটিকে একটি নিষিদ্ধ বা বিব্রতকর বিষয় হিসেবে দেখেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পরিবারে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই শিশু ও কিশোররা নিজেদের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলে। তাই সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে সন্তানদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকদেরই দায়িত্ব।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়ঃসন্ধির লক্ষণ ও পরিবর্তন সম্পর্কে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার উপযুক্ত সময় প্রায় ৯ বছর বয়স। এ সময় শিশুরা বিষয়টি বোঝার মতো মানসিক সক্ষমতা অর্জন করে।

অভিভাবকদের উচিত বয়ঃসন্ধির প্রাথমিক বা দ্বিতীয়িক লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই সন্তানদের এ বিষয়ে অবহিত করা, যাতে তারা হঠাৎ পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়ে ভয় বা উদ্বেগে না পড়ে। শিশুদের বোঝাতে হবে যে এসব পরিবর্তন শরীরের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক বিকাশের অংশ। এ বিষয়ে আলোচনা সহজ, স্বাভাবিক ও আতঙ্কমুক্ত হওয়া জরুরি।

এছাড়া, সমলিঙ্গের অভিভাবকের মাধ্যমে এসব বিষয় ব্যাখ্যা করা অধিক কার্যকর, কারণ এতে সন্তানের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং তারা সহজে প্রশ্ন করতে পারে।

কিশোরদের যৌনশিক্ষা সম্পর্কে অভিভাবকদের প্রধান দায়িত্ব
কিশোর-কিশোরীদের যৌনশিক্ষার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দুটি মৌলিক দায়িত্ব রয়েছে—

১. জৈবিক ও শারীরিক সত্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা, যাতে তারা শরীরের প্রজননব্যবস্থা, এর কার্যপ্রণালি এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে জানতে পারে।

২. যৌন প্রবৃত্তি ও আবেগকে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে পরিচালনা করার শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা বিভ্রান্তি, উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য মানসিক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পায়।

সন্তানদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

১. পর্যাপ্ত তথ্য দিন: বয়ঃসন্ধিকালে যে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে, সে সম্পর্কে সন্তানদের—বিশেষ করে কন্যাসন্তানদের—যথেষ্ট তথ্য দিন।

২. স্বাভাবিকতা সম্পর্কে আশ্বস্ত করুন: তাদের বোঝান যে বয়ঃসন্ধির সব পরিবর্তনই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক; উদ্বিগ্ন বা ভীত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বয়ঃসন্ধির সময় সন্তান ও অভিভাবকের সম্পর্কেও পরিবর্তন আসতে পারে। আগে যে সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ ও উষ্ণ ছিল, তা কখনো কখনো কিছুটা দূরত্বপূর্ণ বা মতবিরোধপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা জরুরি।

৩. ধৈর্য ও সহমর্মিতা বজায় রাখুন: মেয়েরা সাধারণত তাদের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করে, আর ছেলেদের মধ্যে কখনো কখনো রাগ, উত্তেজনা বা আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দিতে পারে। এর একটি বড় কারণ হলো শরীরে ঘটে যাওয়া হরমোনগত পরিবর্তন।

এ সময় অভিভাবকরা যদি ধৈর্য, শান্তভাব ও কোমল আচরণ বজায় রাখেন, তাহলে সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা থাকে। পারিবারিক স্থিতিশীলতা, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ এবং আন্তরিক সম্পর্ক কিশোরদের আবেগগত ও মানসিক সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিরাপত্তাবোধ, মানসিক সমর্থন এবং অভিভাবকের সক্রিয় উপস্থিতি কিশোরদের বিভিন্ন সামাজিক ঝুঁকি, বিচ্যুতি ও ক্ষতিকর আচরণ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

৪. ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান: সন্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে।

তাদের বোঝান যে বয়ঃসন্ধির পরিবর্তন প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একরকম হয় না। শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি আবেগ, চিন্তাভাবনা ও আচরণেও পরিবর্তন আসতে পারে, এবং এসব অনুভূতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর।

একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের বুঝিয়ে বলা দরকার যে যৌন অনুভূতি ও সুস্থ আবেগ—যেমন ভালোবাসা, মমতা ও আন্তরিকতার—মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

সূত্র: ইসলামের দৃষ্টিতে শিশু ও কিশোরদের যৌনশিক্ষা বিষয়ক গবেষণা (গ্রন্থ)।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha