হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতালির ইনস্টিটিউট ফর দ্য অ্যানালাইসিস অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরান পারস্য উপসাগরে যে নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে বাহরাইন ইরানের প্রতি আরও নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের দিকে এগোতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার চাপে বাহরাইনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ভূরাজনৈতিক ব্যবস্থা সংকটের একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। যুদ্ধের সময় আমেরিকার উপস্থিতি একটি সহায়ক উপাদান থেকে হুমকির উৎসে পরিণত হয়। ফলে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের বৈধ হামলার লক্ষ্যে পরিণত হয় এবং এর ফলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাহরাইনের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানামার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতাই দেশটির ওপর ব্যাপক আঘাতের অন্যতম কারণ। কারণ যুদ্ধের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ওয়াশিংটন সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য বাহরাইনকে একটি প্ল্যাটফর্ম বা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।
এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর থাকায় দেশটি ইরানের পাল্টা হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়। বিশেষ করে সংঘাত যখন হরমুজ প্রণালীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের কাছে মার্কিন নৌ-সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করা সামরিক প্রয়োজনীয়তায় পরিণত হয়, তখন বাহরাইনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ইতালীয় প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইরানি ক্যালেন্ডারে ১০ ইসফান ১৪০৪) তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো ধারাবাহিক হামলার মুখে পড়ে।
বাহরাইন ছিল সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার দেশগুলোর একটি। একই সময়ে দেশটির অভ্যন্তরে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার পর কিছু নাগরিক ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন-এমন ভিডিওও প্রকাশিত হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ বাহরাইনের কর্তৃপক্ষকে তাদের নিরাপত্তা অভিযান আরও জোরদার করতে তৎপর করে তোলে। গত চার মাসে ৪০০-এর বেশি শিয়া নাগরিককে আটক করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘সৈয়দ মোহাম্মদ আল-মুসাভি’ বাহরাইনি কর্তৃপক্ষের হাতে নির্যাতনের পর মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবেদনে এটিকে ২০১১ সালের বিক্ষোভের পর থেকে দেশটিতে দমন-পীড়ন বৃদ্ধির আরেকটি নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আঞ্চলিক যুদ্ধের পর বাহরাইনের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও তীব্র হওয়ার বিষয়েও জোর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ শিয়া, অথচ কর্তৃপক্ষ তাদের ধর্মীয় আনুগত্যকে আল খলিফা শাসক পরিবারের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।
আপনার কমেন্ট