শুক্রবার ২১ আগস্ট ২০২৬ - ১০:৪৯
ইমাম হাসান আসকারি (আ.): নিপীড়নের অন্ধকারে মর্যাদা, সংগ্রাম ও এক মহান ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার

ইমাম হাসান আসকারি (আ.) এমন একজন ইমাম, যাঁর মর্যাদা, জ্ঞান ও সাহসের স্বীকৃতি শুধু তাঁর অনুসারীরাই দেননি; এমনকি তাঁর বিরোধীরাও তাঁর মহত্ত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আয়াতুল্লাহ শহীদ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে এ বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: মাত্র ২৮ বছর বয়সে এই মহান ইমামের শাহাদাত যেমন তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক, তেমনি তরুণ প্রজন্মের জন্য তিনি একজন মহান ঐশী আদর্শ—এ কথারও উজ্জ্বল প্রমাণ।

বিরোধীদেরও স্বীকৃতি: ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর জ্ঞান, মর্যাদা ও সাহস
শহীদ ইমাম খামেনেয়ী বলেন, “এমন একজন ইমাম, যাঁর মর্যাদা, জ্ঞান, তাকওয়া, পবিত্রতা, শত্রুর মোকাবিলায় সাহস এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও অবিচলতার সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর অনুসারী, শিয়া, বিরোধী, এমনকি তাঁর ইমামতে বিশ্বাস না করা লোকেরাও।

এই মহান মানুষ, এই মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব যখন শাহাদাত বরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর।

শিয়াদের গৌরবময় ইতিহাসে এ ধরনের দৃষ্টান্তের অভাব নেই। আমাদের প্রিয় ইমাম মাহদির (আ.) পিতা [ইমাম হাসান আসকারি (আ.)] এতসব ফজিলত, মর্যাদা ও কারামাতের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও শত্রুদের বিষপ্রয়োগ ও অপরাধের কারণে যখন শাহাদাত বরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৮ বছর।

এটাই হতে পারে একটি আদর্শ। একজন তরুণ যখন নিজের সামনে এমন এক মহান আদর্শকে দেখতে পায়, তখন সে উপলব্ধি করতে পারে—তরুণ বয়সেই একজন মানুষ কী অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।

মহান ইমাম জাওয়াদ (আ.) মাত্র ২৫ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেছেন; আর ইমাম হাসান আসকারি (আ.) ২৮ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেছেন। এত অল্প বয়সে তাঁদের এত ফজিলত, এত মর্যাদা ও এত মহানুভবতা—যার শুধু আমরাই স্বীকৃতি দিই না; তাঁদের শত্রু, বিরোধী এবং তাঁদের ইমামতে বিশ্বাস না করা লোকেরাও এর সাক্ষ্য দিয়েছে।”

[বক্তব্য: ১০ মার্চ ২০১২ (১৩৯০/১২/১০), তেহরানে ইমাম খোমেনি (রহ.) হুসাইনিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণির জনগণ, শহীদ পরিবারের সদস্য ও ত্যাগী ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতে।]

আহলুল বাইতের (আ.) প্রতি শাসকদের বিরোধিতার মূল কারণ ছিল ইমামতের দাবি
শহীদ আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, “এই মহান ব্যক্তিরা সর্বদা সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন; আর এই সংগ্রামের মূল চরিত্র ছিল রাজনৈতিক। কারণ, যারা ক্ষমতার আসনে বসেছিল, তারাও নিজেদেরকে ধর্মের দাবিদার মনে করত। তারাও ইসলামের বাহ্যিক বিধি-বিধানকে গুরুত্ব দিত। এমনকি কখনো কখনো ইমামের ধর্মীয় মতামতও গ্রহণ করত। যেমন, আপনারা মামুনের ঘটনাগুলো শুনেছেন—সে প্রকাশ্যেই ইমামের মতামত গ্রহণ করেছিল। অর্থাৎ তারা কখনো কোনো ফিকহি মত গ্রহণ করতেও দ্বিধা করত না।

আহলুল বাইতের সঙ্গে এই সংঘাত ও বিরোধিতার মূল কারণ ছিল—আহলুল বাইত নিজেদেরকে ‘ইমাম’ মনে করতেন। তাঁরা বলতেন: ‘আমরাই ইমাম।’

ইমাম বাকির (আ.) মিনায় গিয়ে বলেছিলেন,

إِنَّ رَسُولَ اللهِ كَانَ الْإِمَامَ

‘নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন ইমাম।’ এরপর তিনি একে একে [ইমামদের] উল্লেখ করতে করতে নিজের কাছে এসে বললেন: ‘আমিই ইমাম।’

শাসকদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সংগ্রামটি মূলত এখানেই ছিল। কারণ যে ব্যক্তি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে নিজেকে ইমাম ও নেতা মনে করত, সে দেখতে পেত—একজন প্রকৃত ইমামের জন্য যেসব বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শন থাকা প্রয়োজন, সেগুলো আহলুল বাইতের মধ্যে রয়েছে, তার মধ্যে নেই। ফলে সে এই ব্যক্তিত্বকে নিজের শাসনের জন্য বিপজ্জনক মনে করত; কারণ তিনি নিজেকে বৈধ নেতৃত্বের দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

শাসকেরা এই সংগ্রামের সঙ্গেই লড়াই করত, আর ইমামগণও পাহাড়ের মতো অটলভাবে দাঁড়িয়ে থাকতেন।

অবশ্যই, এই সংগ্রামের পাশাপাশি ইমামগণ যে জ্ঞান, ফিকহ, নৈতিকতা ও আখলাক প্রচার করতেন, সেগুলোরও নিজস্ব গুরুত্ব ছিল। তাঁরা আরও বেশি সংখ্যক শিষ্য গড়ে তুলেছেন এবং শিয়াদের পারস্পরিক যোগাযোগ দিন দিন বিস্তৃত করেছেন। এরাই শিয়াদের টিকিয়ে রেখেছিলেন।

একটি মতবাদকে ২৫০ বছর ধরে রাষ্ট্রক্ষমতার বিরুদ্ধে অবস্থান করতে হয়েছে—এমন একটি মতবাদকে আপনারা কল্পনা করুন! স্বাভাবিকভাবে এর কোনো অস্তিত্বই থাকার কথা নয়; সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আজ দেখুন, বিশ্বে কী ঘটছে এবং শিয়া মতবাদ কোথায় পৌঁছেছে!

ইমাম সাদিক (আ.), ইমাম হাদি (আ.) ও ইমাম হাসান আসকারি (আ.) সম্পর্কে রচিত কবিতা ও গীতিতে এই বিষয়টি ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। তাঁরা সংগ্রাম করেছেন এবং সেই সংগ্রামের কারণেই নিজেদের জীবন পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছেন। এটি ছিল একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলা পথ। কখনো কেউ ফিরে গেছে, কেউ অন্যদিকে অগ্রসর হয়েছে; কিন্তু লক্ষ্য ছিল অভিন্ন।”

[বক্তব্যের তারিখ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০১ (১৩৮০/০৬/৩০)]

ইমাম জাওয়াদ (আ.) থেকে ইমাম হাসান আসকারি (আ.): শিয়া যোগাযোগ ও সাংগঠনিক বিস্তারের অভূতপূর্ব যুগ
ইমাম খামেনেয়ী বলেন, “ইমাম রেজা (আ.), ইমাম জাওয়াদ (আ.), ইমাম হাদি (আ.) এবং ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর যুগে শিয়াদের পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিস্তৃত। ইসলামী বিশ্বের সর্বত্র শিয়াদের যোগাযোগ ও সাংগঠনিক বিস্তার ইমাম জাওয়াদ, ইমাম হাদি ও ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর সময়ের মতো আর কোনো যুগে ছিল না।

ইমামদের নিযুক্ত প্রতিনিধি ও নায়েবদের অস্তিত্ব এবং ইমাম হাদি ও ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর সময়কার বিভিন্ন ঘটনা—যেমন, কেউ অর্থ নিয়ে এলে ইমাম তাকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিতেন—এসবই এ বাস্তবতার প্রমাণ।

অর্থাৎ, সামারায় কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ ও নজরবন্দি থাকা সত্ত্বেও ইমাম হাদি ও ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। এর আগে ইমাম জাওয়াদ (আ.)-এর ক্ষেত্রেও এক ধরনের সীমাবদ্ধতা ছিল। ইমাম রেজা (আ.)-এর ক্ষেত্রেও তা ছিল এক ভিন্ন রূপে। ইমাম রেজা (আ.)-এর খোরাসানে আগমন অবশ্য এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।”

[বক্তব্যের তারিখ: ১৮ আগস্ট ২০০৫, (১৩৮৪/০৫/১৮)]

এরপর তিনি বলেন, “এই মহান ব্যক্তিরা যে অত্যন্ত নিঃসঙ্গ অবস্থায় ছিলেন, তা সত্য—মদিনা থেকে দূরে, পরিবার থেকে দূরে এবং পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে। কিন্তু একই সঙ্গে এই তিন ইমাম—ইমাম জাওয়াদ থেকে ইমাম হাসান আসকারি (আ.) পর্যন্ত—যতই আমরা ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর যুগের দিকে এগিয়ে যাই, তাঁদের নিঃসঙ্গতা ও বিচ্ছিন্নতা ততই বৃদ্ধি পেতে দেখি।

ইমাম জাওয়াদ, ইমাম হাদি ও ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর সময়ে ইমামদের প্রভাববলয় এবং শিয়াদের বিস্তৃতি ইমাম বাকির ও ইমাম সাদিক (আ.)-এর যুগের তুলনায় হয়তো দশ গুণ বেশি ছিল। এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয়। সম্ভবত এ কারণেই তাঁদের ওপর এত কঠোর চাপ ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।”

[বক্তব্যের তারিখ: ১০ মে ২০০৩ (১৩৮২/০২/২০)।]

সামারার নিঃসঙ্গতা পেরিয়ে সমগ্র ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর বিস্তৃত যোগাযোগ
ইমাম খামেনেয়ী বলেন, “ইমাম রেজা (আ.) ইরানের দিকে এবং খোরাসানের উদ্দেশে যাত্রা করার পর যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, এটি তারই একটি দিক। সম্ভবত ইমাম রেজা (আ.)-এর হিসাব-নিকাশের মধ্যেও এই বিষয়টি ছিল।

এর আগে সর্বত্র শিয়ারা বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করত—এখানে একজন, সেখানে দুজন; পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না, তারা ছিল হতাশ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট আশাবাদ তাদের ছিল না। অন্যদিকে, খলিফাদের শাসন সর্বত্র বিস্তৃত ছিল। এর আগে হারুনও তার প্রবল ও স্বৈরাচারী ক্ষমতা নিয়ে উপস্থিত ছিল।

ইমাম রেজা (আ.) যখন খোরাসানের দিকে যাত্রা করলেন এবং এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলেন, তখন মানুষের সামনে এমন এক ব্যক্তিত্ব আবির্ভূত হলেন, যাঁর মধ্যে জ্ঞান, মর্যাদা, মহিমা, সত্যনিষ্ঠা ও আধ্যাত্মিক দীপ্তি একসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল। মানুষ এর আগে এমন ব্যক্তিত্ব দেখেনি।

এর আগে খোরাসানের কতজন শিয়া মদিনা পর্যন্ত গিয়ে ইমাম সাদিক (আ.)-এর সাক্ষাৎ পেতে পারত? কিন্তু এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার সময় সর্বত্র মানুষ ইমামকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেল। ব্যাপারটি ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর—যেন মানুষ কোনো নবীকে প্রত্যক্ষ করছে।

তাঁর আধ্যাত্মিক মর্যাদা, মহিমা, সম্মান, নৈতিকতা, তাকওয়া, আধ্যাত্মিক দীপ্তি এবং বিস্তৃত জ্ঞান—আপনি যা-ই জিজ্ঞেস করুন, যা-ই চান, তাঁর কাছে তার উত্তর রয়েছে; মানুষ এমন কিছু আগে কখনো দেখেনি। ফলে গোটা অঞ্চলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলো।

ইমাম খোরাসান ও মারভে পৌঁছালেন। মারভ ছিল বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের অন্তর্গত একটি অঞ্চল। এক-দুই বছর পরই তাঁর শাহাদাতের ঘটনা ঘটে এবং মানুষ গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

ইমামের আগমন—যা ছিল মানুষের সামনে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ, যা তারা আগে দেখেনি ও শোনেনি—এবং তাঁর শাহাদাত—যা তাদের জন্য এক গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল—এই দুই ঘটনা মিলেই এই অঞ্চলগুলোর জনমনে আহলুল বাইতের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের ব্যাপক বিস্তার ঘটায়। এর অর্থ এই নয় যে সবাই শিয়া হয়ে গিয়েছিল; তবে সবাই আহলুল বাইতের প্রতি ভালোবাসাশীল হয়ে উঠেছিল।”

এরপর তিনি ইমাম হাদি (আ.) ও ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর সামারায় অবস্থান এবং সমগ্র ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে তাঁদের বিস্তৃত যোগাযোগের কথা তুলে ধরে বলেন, “ইমাম রেজা (আ.)-এর পর থেকে ইমাম হাসান আসকারি (আ.)-এর শাহাদাত পর্যন্ত এমন ঘটনাপ্রবাহ অব্যাহত ছিল।

ইমাম হাদি (আ.) ও ইমাম হাসান আসকারি (আ.) সামারার সেই শহরেই—যা মূলত একটি সামরিক ঘাঁটির মতো ছিল—সমগ্র ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে এত বিস্তৃত যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এটি তেমন কোনো প্রাচীন ও বিশাল শহর ছিল না; বরং ‘সুরর মান রা’আ’ নামে প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন রাজধানী ছিল। সেখানে শাসকদের প্রধান কর্মকর্তা, অভিজাত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সাধারণ মানুষ বসবাস করত।

এর পরও ইমাম হাদি (আ.) ও ইমাম হাসান আসকারি (আ.) কীভাবে সমগ্র ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে এত বিস্তৃত যোগাযোগ সমন্বয় করতেন—ইমামদের জীবনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করলে আমরা তা উপলব্ধি করতে পারি।

অতএব, তাঁদের ভূমিকা শুধু নামাজ, রোজা, পবিত্রতা-অপবিত্রতা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ‘ইমাম’-এর অবস্থানে ছিলেন—ইসলামী অর্থে ‘ইমাম’ যে সর্বাঙ্গীন নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করে, সেই অবস্থানে—এবং জনগণের সঙ্গে সেভাবেই সম্পর্ক স্থাপন করতেন।

আমার মতে, তাঁদের জীবনের অন্যান্য দিকের পাশাপাশি এই দিকটিও বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

দেখুন, ইমাম হাদি (আ.)-কে মদিনা থেকে সামারায় নিয়ে আসা হয় এবং ৪২ বছর বয়সে তাঁকে শাহাদাত বরণ করতে হয়। আর ইমাম হাসান আসকারি (আ.) মাত্র ২৮ বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন। এসবই ইতিহাসজুড়ে ইমামগণ, তাঁদের অনুসারী ও সাহাবিদের পরিচালিত মহান আন্দোলনের ব্যাপকতা ও গভীরতার প্রমাণ।

খলিফাদের কঠোর ও সর্বব্যাপী গোয়েন্দা-নজরদারি ও দমন-পীড়ন সত্ত্বেও ইমামগণ এভাবে তাঁদের মিশনে সফল হয়েছিলেন।

সুতরাং, তাঁদের জীবনের দিকে তাকালে শুধু তাঁদের নিঃসঙ্গতা ও কঠিন পরিস্থিতিই নয়; এর পাশাপাশি তাঁদের মর্যাদা, প্রভাব, সফলতা ও মহানুভবতার দিকটিও দেখতে হবে।”

[বক্তব্যের তারিখ: ১০ মে ২০০৩ (১৩৮২/০২/২০)।]

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha