হাওজা নিউজ এজেন্সি: ঘোষণাপত্রে বলা হয়:
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পর্যায়ের অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা ও কৌশল উন্মোচন এবং সাম্প্রতিক হুমকির মোকাবিলার লক্ষ্যে সকল ধর্মীয় প্রচারক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে তাদের প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মুবাল্লিগ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য নির্দেশনা
১. শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল তুলে ধরা: এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে হবে যে, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ ও হতাশ হয়ে শত্রুপক্ষ এখন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে কঠোর ভাষায় হুমকি, আল্টিমেটাম, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং অবরোধের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করা।
২. শত্রুর উদ্দেশ্য ও জাতীয় সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা: শত্রুপক্ষের লক্ষ্য হলো অর্থনীতি, বাজার ও সমাজের দুর্বল ক্ষেত্রগুলোকে উসকে দিয়ে জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সহনশীলতা দুর্বল করা। তাই জনসচেতনতা, সতর্কতা ও বিচক্ষণতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
৩. নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানের সক্ষমতা তুলে ধরা: সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সক্ষমতা ও সুযোগগুলো ব্যাখ্যা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের ১৫টি প্রতিবেশী দেশ রয়েছে; প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার স্থলসীমান্ত এবং প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার জলসীমা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ সীমান্তের উভয় পাশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
৪. পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার নীতি ব্যাখ্যা করা: ইরানের দীর্ঘদিনের “প্রতিদানমূলক প্রতিক্রিয়া” (Reciprocal Response) নীতির বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে হবে, যা ৯ এসফান্দ ১৪০৪ থেকে আরও দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
- যদি পারস্য উপসাগর দিয়ে ইরানের তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে অন্য দেশগুলোর জন্যও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
- যদি শত্রুপক্ষ অবরোধ আরও সম্প্রসারিত করে, তবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে যে নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, তা শত্রুর সহযোগী ও সমমনা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে।
৫. ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগের প্রকৃতি স্পষ্ট করা: এ বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরতে হবে যে, সাম্প্রতিক সময়ে—অর্থাৎ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘটিত যুদ্ধের পর থেকে—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়নি। কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।
এ ধরনের বার্তা আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া কোনো সময়ই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষের দাবি অসত্য এবং তা ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণামূলক নীতির অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
— হাইব্রিড যুদ্ধ মোকাবিলা কেন্দ্র ‘বালাগে মুবিন’
আপনার কমেন্ট