শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬ - ০০:১০
অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় ধর্মীয় প্রচারক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য পাঁচটি নতুন দায়িত্ব

ইরানের হাইব্রিড যুদ্ধ মোকাবিলা কেন্দ্র ‘বালাগে মুবিন’ সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা, হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অর্থনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় প্রচারক তথা মুবাল্লিগ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নতুন কিছু দায়িত্ব ও করণীয় নির্ধারণ করেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ঘোষণাপত্রে বলা হয়:

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পর্যায়ের অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা ও কৌশল উন্মোচন এবং সাম্প্রতিক হুমকির মোকাবিলার লক্ষ্যে সকল ধর্মীয় প্রচারক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে তাদের প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মুবাল্লিগ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য নির্দেশনা

১. শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের কৌশল তুলে ধরা: এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে হবে যে, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ ও হতাশ হয়ে শত্রুপক্ষ এখন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে কঠোর ভাষায় হুমকি, আল্টিমেটাম, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং অবরোধের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করা।

২. শত্রুর উদ্দেশ্য ও জাতীয় সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা: শত্রুপক্ষের লক্ষ্য হলো অর্থনীতি, বাজার ও সমাজের দুর্বল ক্ষেত্রগুলোকে উসকে দিয়ে জাতীয় স্থিতিশীলতা এবং জনগণের সহনশীলতা দুর্বল করা। তাই জনসচেতনতা, সতর্কতা ও বিচক্ষণতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

৩. নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইরানের সক্ষমতা তুলে ধরা: সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সক্ষমতা ও সুযোগগুলো ব্যাখ্যা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের ১৫টি প্রতিবেশী দেশ রয়েছে; প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার স্থলসীমান্ত এবং প্রায় ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার জলসীমা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ সীমান্তের উভয় পাশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

৪. পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার নীতি ব্যাখ্যা করা: ইরানের দীর্ঘদিনের “প্রতিদানমূলক প্রতিক্রিয়া” (Reciprocal Response) নীতির বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে হবে, যা ৯ এসফান্দ ১৪০৪ থেকে আরও দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

- যদি পারস্য উপসাগর দিয়ে ইরানের তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে অন্য দেশগুলোর জন্যও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

- যদি শত্রুপক্ষ অবরোধ আরও সম্প্রসারিত করে, তবে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে যে নীতি অনুসরণ করা হয়েছে, তা শত্রুর সহযোগী ও সমমনা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে।

৫. ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগের প্রকৃতি স্পষ্ট করা: এ বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরতে হবে যে, সাম্প্রতিক সময়ে—অর্থাৎ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘটিত যুদ্ধের পর থেকে—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়নি। কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।

এ ধরনের বার্তা আদান-প্রদানের প্রক্রিয়া কোনো সময়ই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষের দাবি অসত্য এবং তা ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণামূলক নীতির অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

— হাইব্রিড যুদ্ধ মোকাবিলা কেন্দ্র ‘বালাগে মুবিন’

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha