হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইমাম খোমেনি (রহ.) বাসিজকে বিভিন্ন সময়ে ‘পবিত্র বৃক্ষ’, ‘দৃঢ় ও সুউচ্চ বৃক্ষ’, ‘আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ’ এবং ‘প্রেমের বিদ্যালয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বাসিজি হওয়ার গৌরবের কথা বলেছেন, বাসিজিদের পবিত্রতা ও নিষ্ঠার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন এবং আল্লাহর কাছে বাসিজিদের সঙ্গে পুনরুত্থিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। এমনকি ১৩ বছর বয়সী এক বাসিজি কিশোরকে তিনি নিজের নেতা হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন।
ইমাম খামেনেয়ীও বাসিজিদের কাঁধে চাপিয়ে পরিধানের গৌরবের কথা উল্লেখ করে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন যে, বাসিজি চিন্তাধারাই আমাদের বিজয়ের অন্যতম রহস্য ও শক্তির প্রতীক।
তিনি ব্যক্তিগত ও সামাজিক তাকওয়া এবং সৎকর্মকে দেশে বাসিজি আন্দোলনের সাফল্যের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এগুলোকে আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন লাভের কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন। ১৩৯৫ ফারসি সনে (২০১৬ সালে) বাসিজি সদস্য ও কমান্ডারদের এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বাসিজের পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন:
১. বাসিজের কর্মকাণ্ড দূরদর্শিতা ও সচেতনতার ওপর নির্ভরশীল হওয়া।
২. সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য বাসিজের পরিধি বিস্তৃত করা এবং এটিকে কোনো দলীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা।
৩. বাসিজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
৪. বাসিজকে ধর্মীয় ও ইসলামী জনগণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
৫. বাসিজের নেতৃত্ব ও তৃণমূল—উভয় পর্যায়ে চিন্তাশীল পরামর্শ পরিষদ গঠন করা।
ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনেয়ীও বাসিজের নতুন প্রধান নিয়োগের সাম্প্রতিক আদেশে বলেছেন, ‘প্রত্যেক ইরানি, একজন বাসিজি’—এই স্লোগান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের সক্ষমতা এবং লাখো আত্মত্যাগী মানুষের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাসিজ ও প্রতিরোধের সংস্কৃতিকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে হবে। এর লক্ষ্য হলো শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ইরান গঠন এবং ইসলামী বিপ্লবের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সরকার সপ্তাহ উপলক্ষে আমরা শহীদ রাজায়ী, শহীদ বাহনার, শহীদ আয়াতুল্লাহ রাইসি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় শাহাদাতবরণকারী সব শহীদের স্মৃতি, নাম ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড ও প্রচেষ্টার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলতে হয়—শহীদদের পথ অনুসরণ এবং ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা মেনে জনগণের সেবায় আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
এ বছর সরকার সপ্তাহের কেন্দ্রীয় স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জনগণের পাশে দাঁড়ানো’। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব কেবল বাসিজি চিন্তাধারা অনুসরণের মাধ্যমে। জনগণ সমাজের মেরুদণ্ড। বাসিজি চিন্তাধারা ও জিহাদি চেতনা ধারণ করে আমরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করতে পারি।
বাসিজি চিন্তাধারা সংকট ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের বার্তা দেয় এবং দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, গতিশীলতা ও মর্যাদা অর্জনের পাশাপাশি ‘আমরা পারি’—এই কৌশলগত স্লোগান বাস্তবায়নের আশাবাদ জাগায়।
সরকারের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা তখনই জনগণের পাশে থেকে সফল ও গর্বিত হতে পারবেন, যখন তারা ইমাম খোমেনি (রহ.) ও ইমাম খামেনেয়ীর আদর্শের ধারাবাহিকতায় আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনেয়ীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট, লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলপ্রসূ পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন।
দেশের সব কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীলকে বাসিজের গভীর চিন্তাধারা ও অনন্য সক্ষমতার প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। জনগণ ও দেশের কল্যাণ, স্বাচ্ছন্দ্য, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই এই বিশ্বাসের বাস্তব প্রমাণ দিতে হবে।
দেশের অভ্যন্তরে ঐক্য ও সংহতি, জনগণ ও দায়িত্বশীলদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধ, জিহাদি চেতনা, সতর্কতা, শত্রু সম্পর্কে সচেতনতা, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান, সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ, শত্রুর সামনে ভয় না পাওয়া ও নতজানু না হওয়া এবং আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা—এসবই জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অপরিহার্য।
একইভাবে, দুষ্ট ও অপরাধী মার্কিন-ইসরায়েলি শক্তি এবং তাদের স্বভাবগত সন্ত্রাসী সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি, আলোচনা ও সমঝোতার ওপর আস্থা না রাখা; আল্লাহর পথে অবিচল থাকা এবং তাঁর অসীম শক্তির ওপর নির্ভর করা; নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য; দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর আস্থা; স্বনির্ভর ও প্রতিরোধমূলক অর্থনীতির প্রতি বিশ্বাস; জনগণের মাঝে নিয়মিত উপস্থিতি ও তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ; জনগণ ও তরুণদের শক্তি ও সক্ষমতার ওপর আন্তরিক আস্থা; জনগণকে উৎসাহিত ও সন্তুষ্ট করে এমন আচরণ ও বক্তব্য; জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা; দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশা ও বিশ্বাস জাগ্রত করা এবং জনগণের প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা—এসবও ‘জনগণের পাশে দাঁড়ানো’ স্লোগান বাস্তবায়নের মৌলিক শর্ত।
এ ছাড়া কোনো দায়িত্ব, পরিকল্পনা বা প্রকল্প গ্রহণের পর তা বাস্তবায়ন ও ফলাফল অর্জন না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিতভাবে তা অনুসরণ করা এবং চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করা—এটিও এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
বাসিজি চিন্তাধারার বিকাশ এবং এর সংস্কৃতির বিস্তারের মাধ্যমে এসব নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আর এর মাধ্যমেই দেশের সর্বক্ষেত্রে বিজয়, অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।
আপনার কমেন্ট