হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার তেহরানে ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ফায়েক জিদান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইরাকের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং আরবাইঈন পালনের সময় ইরানি জিয়ারতকারীদের আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ইরাকের প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের ৪০তম দিন উপলক্ষে আরবাঈন পালিত হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলোর উচিত সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা। তাঁর মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীসহ অভিন্ন প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো বিভাজন, সংঘাত ও যুদ্ধ সৃষ্টি করে অঞ্চলটির বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত সম্পদ নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তাই অস্থিতিশীলতা থেকে বহিরাগত শক্তিগুলো যাতে লাভবান হতে না পারে, সে জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সতর্কতা, সংহতি ও ঐক্য অপরিহার্য।
তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোগনির্ভর স্থিতিশীলতার একটি মডেল প্রতিষ্ঠা এবং অঞ্চলে বহিরাগত শক্তির ভূমিকা কমানোর প্রস্তাব দেন।
অন্যদিকে, ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রধান ফায়েক জিদান দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের প্রতি ইরানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ইরানের শহীদ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি এবং ইরানি সামরিক উপদেষ্টাদের ইরাকে দায়েশ (আইএস) সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
জিদান বলেন, ইরান ও ইরাকের মধ্যে বিদ্যমান যৌথ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলোকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়া হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুফল বয়ে আনতে পারে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর প্রভাব মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইরাক বিশেষভাবে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে আগ্রহী। পাশাপাশি, যৌথ সম্পদ ও সম্ভাবনার সুফল যাতে সমগ্র অঞ্চলের দেশগুলো ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণেও ইরাক আগ্রহী।
আপনার কমেন্ট