শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ - ০৭:৫৯
ভেড়ার চামড়ায় নেকড়ে: ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার বানানোদের বিষয়ে ইমাম সাদিক (আ.)-এর সতর্কবার্তা

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) ওসায়েলুশ শিয়া গ্রন্থে বর্ণিত একটি হাদিসে পূর্ববর্তী এক নবীর প্রতি আল্লাহর দেওয়া সতর্কবার্তার কথা তুলে ধরেছেন। এতে এমন একদল মানুষের আবির্ভাবের কথা বলা হয়েছে, যারা দুনিয়াবি সম্পদ, মর্যাদা ও নেতৃত্ব অর্জনের জন্য ধর্মকে মানুষের প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: নবীদের ইতিহাসে ধর্মকে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে বিভিন্ন ঐশী সতর্কবার্তা এসেছে। মরহুম আয়াতুল্লাহ মুজতবা তেহরানি ওসায়েলুশ শিয়া গ্রন্থে ইমাম সাদিক (আ.)-এর বর্ণিত এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, কিছু মানুষ দুনিয়াবি স্বার্থ ও ক্ষমতা অর্জনের জন্য ধর্মকে নিজেদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের হাতিয়ার বানায়। বাইরে থেকে তারা ভেড়ার মতো শান্ত ও নিরীহ মনে হলেও অন্তরে লুকিয়ে রাখে নেকড়ের মতো হিংস্র স্বভাব।

উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও মিথ্যাবাদীদের আবির্ভাব সম্পর্কে ঐশী সতর্কবার্তা
ওসায়েলুশ শিয়া গ্রন্থের ‘জিহাদুন নফস’ অধ্যায়ে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) তাঁর পিতা ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন:

 أَنَّ اللَّهَ تَبَارَکَ وَ تَعَالَی أَنْزَلَ کِتَاباً مِنْ کُتُبِهِ عَلَی نَبِیٍّ مِنْ أَنْبِیَائِهِ

অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা তাঁর কোনো এক নবীর প্রতি তাঁর কিতাবসমূহের একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছিলেন।

এরপর সেই কিতাবে বলা হয়েছে:

 وَ فِیهِ أَنَّهُ سَیَکُونُ خَلْقٌ مِنْ خَلْقِی یَلْحَسُونَ الدُّنْیَا بِالدِّینِ

অর্থাৎ, ‘আমার সৃষ্টির মধ্যে এমন একদল মানুষ আসবে, যারা ধর্মের মাধ্যমে দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল করবে।’

এখানে ‘দুনিয়া’ বলতে শুধু অর্থ-সম্পদ বোঝানো হয়নি। এর মধ্যে সম্পদ, পদ-মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও নেতৃত্বও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, তারা এসব অর্জনের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করবে এবং ধর্মীয় পরিচয়কে নিজেদের স্বার্থ পূরণের মাধ্যম বানাবে।

ধর্মের আবরণে লুকিয়ে থাকা নেকড়েরা
হাদিসের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে:

 یَلْبَسُونَ مُسُوکَ الضَّأْنِ عَلَی قُلُوبٍ کَقُلُوبِ الذِّئَاب

অর্থাৎ, ‘তারা ভেড়ার চামড়া পরিধান করবে, অথচ তাদের অন্তর হবে নেকড়ের মতো।’

এই উপমার মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের প্রকৃত চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যারা বাহ্যিকভাবে শান্ত, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মতো নিজেদের উপস্থাপন করে। কিন্তু তাদের অন্তরে লুকিয়ে থাকে হিংস্রতা, স্বার্থপরতা ও ক্ষমতার লোভ।

অর্থাৎ, তাদের বাহ্যিক রূপ দেখে মানুষ সহজেই তাদের ধার্মিক ও কল্যাণকামী মনে করতে পারে। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে ধর্মের মাধ্যমে নিজেদের দুনিয়াবি স্বার্থ, পদ-মর্যাদা ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।

ইমাম সাদিক (আ.)-এর বর্ণিত এই সতর্কবার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শুধু বাহ্যিক ধর্মীয় পরিচয় দেখেই কাউকে মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়; তার কাজ, উদ্দেশ্য ও চরিত্রও বিবেচনা করা জরুরি।

হাদিসে এ ধরনের মানুষের অন্তরের তিক্ততা বোঝাতে আরও বলা হয়েছে যে, তাদের চরিত্র সবর গাছের তিক্ত রসের চেয়েও তিক্ত।

সূত্র: লিসানুল আরব, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৪২।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha