শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬ - ১৫:১৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য নতুন অস্ত্র প্রস্তুত রেখেছে ইরান

সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য ইরান নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকসের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: স্থানীয় ইরানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যৎ যুদ্ধে এসব “চমক” যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রশাসন অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এ সময়ে দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন মোকাবিলা করতে হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, হামলার ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং শত্রুপক্ষের ব্যাপক অগ্নিশক্তি সত্ত্বেও সরকার সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন মেটাতে সেনাবাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং কেন্দ্রীয় খাতামুল আম্বিয়া সদর দপ্তরকে সহায়তা করেছে। এর ফলে শত্রুপক্ষ তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালায়ি-নিক বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ইরান ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও এসব সংঘাত রাজনৈতিক, সামাজিক, বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতির নতুন সুযোগও তৈরি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য নতুন অস্ত্র প্রস্তুত রেখেছে ইরান

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। যুদ্ধ চলাকালেও প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি বিজ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উৎপাদন অব্যাহত ছিল। তালায়ি-নিকের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কোম্পানি ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে সহায়তা করে এবং কিছু সরঞ্জামের উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তালায়ি-নিক আরও বলেন, দীর্ঘপাল্লার ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদনে উদ্বৃত্ত থাকলে অস্ত্র রপ্তানিও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইরান বর্তমানে ১ হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশটির স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি।

তিনি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন আর শুধু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশা উদ্ভাবনের সক্ষমতা অর্জন করেছে।

যুদ্ধের প্রধান “চমক” হিসেবে ইরানের প্রতিরোধক্ষমতাকে উল্লেখ করেন তালায়ি-নিক। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ আশা করেছিল যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সামরিক, প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে এর বিপরীত ঘটেছে।

তালায়ি-নিক বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এখনো সমন্বিত ও অসমমিত। এর আওতায় প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যে আক্রমণাত্মক পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়, যাতে শত্রুপক্ষ যুদ্ধের উদ্যোগ নিজেদের হাতে নিতে না পারে।

তিনি আরও জানান, ড্রোনবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তী যুদ্ধে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করেছে।

তালায়ি-নিক জোর দিয়ে বলেন, “চমক” নীতির আওতায় অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার আরও কিছু নতুন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব সক্ষমতা ভবিষ্যৎ যুদ্ধের “যুদ্ধক্ষেত্রেই” প্রকাশ করা হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha