হাওজা নিউজ এজেন্সি: প্রতিনিধি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মহানবী (সা.) ও ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে রহিমা কনবরি বলেন, যে সপ্তাহে রহমতের বার্তা নিয়ে মহানবী (সা.) ও ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়, তা কেবল একটি ক্যালেন্ডারভুক্ত উপলক্ষ নয়; বরং এটি ‘ওহির বার্তা’ ও ‘ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বের’ পারস্পরিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জন্ম মানবজাতির জন্য হেদায়াতের পথ উন্মোচন এবং জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে মানুষকে মুক্ত করার সূচনা করেছিল। অন্যদিকে, ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর যুগ ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতার এক কঠিন সময়; তাঁর জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার মাধ্যমে ইসলামী চিন্তার বিকাশ ঘটে এবং বিশ্বাসের মৌলিক ভিত্তিগুলো আরও সুদৃঢ় হয়। এ অর্থে, দুই মহান ব্যক্তিত্বের জন্মবার্ষিকী মানবজাতির জন্য আলো ও রহমতের এক মিলন। তাই এ নেয়ামতের জন্য আমাদের আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
তিনি বলেন, আল্লাহর এই বিশেষ নেয়ামত লাভের মাধ্যমে আমরা ওহি ও বিবেকের মধ্যে সমন্বয়ের শিক্ষা পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর রহমতের মাধ্যমে আসমান ও জমিনের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন এবং এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে ন্যায়বিচার ও নৈতিকতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছিল।
তিনি বলেন, অন্যদিকে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বড় বড় ফিতনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সুদৃঢ় জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে ইসলামী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে মুসলমানরা নানা সংকট ও বিভ্রান্তির মধ্যেও সঠিক ঈমানের পথ চিনতে সক্ষম হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই দুই মহান ব্যক্তিত্ব ভিন্ন সময়ে অবস্থান করলেও তাঁদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন—উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের মৌলিকত্ব ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষা।
তিনি প্রশ্ন করেন, এই ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও তা সংরক্ষণে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের জনগণের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? আসমানি এই ঐক্য বাস্তব জীবনে কীভাবে প্রতিফলিত হতে পারে?
তিনি বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের জনগণ এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে ঐক্যের চেতনাকে জীবন্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রথমত, তারা বহিরাগত শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় ঐক্য বজায় রেখেছে। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) যেমন বিভ্রান্ত ও বিপথগামী চিন্তাধারার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন, তেমনি ইসলামি বিপ্লবের জনগণও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে দেখিয়েছে যে জাতীয় ও বিশ্বাসগত ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা-কবচ।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। ইরানের এই ইসলামি বিপ্লবের জনগণ জাতিগত, ভাষাগত ও মাজহাবগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে মহানবী (সা.) প্রতিষ্ঠিত ‘উম্মাহ’র ধারণাকে সমকালীন বিশ্বে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
ফাতেমা মাসুমা (সা.) ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক বলেন, ইমামদের (আ.) ন্যায়বিচারের পথে অবিচল থাকা এবং নবী পরিবারের সংস্কার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আদর্শ অনুসরণ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে জনগণ ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ও আদর্শ সংরক্ষণে সচেষ্ট রয়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামি ঐক্য সপ্তাহ আমাদের নিজেদের শিকড় ও মূল আদর্শের দিকে ফিরে যাওয়ার একটি সুযোগ। মহানবী (সা.)-এর জন্ম থেকে আমাদের ‘রহমত ও ঐক্যের’ শিক্ষা এবং ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর জীবন থেকে ‘সচেতনতা ও দৃঢ়তার’ শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের জনগণ ঐক্যের পথে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে নবী-রাসুল ও নিষ্পাপ ইমামদের (আ.) প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে। একই সঙ্গে তারা প্রমাণ করছে, একটি জাতির শক্তি পবিত্র এই বন্ধন ও ঐক্য অটুট রাখার ওপর নির্ভরশীল।
আপনার কমেন্ট