হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মাওলানা হামিদ জালালাহ গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে দারুস সালামের কিগোগো পোস্টি এলাকায় অনুষ্ঠিত "জাফফা" শোভাযাত্রায় এই কথাগুলো বলেন। তিনি এই অনুষ্ঠানে মানুষের জীবনে অনুসরণীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো:
১. উত্তম চরিত্র ও নৈতিক গুণাবলী
মাওলানা শেখ জালালাহ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চরিত্রকে যে উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্যগুলো শোভিত করেছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল উত্তম চরিত্র ও উচ্চ নৈতিক গুণাবলী। তিনি পবিত্র কুরআনে আল্লাহর বাণী উল্লেখ করে বলেন:
«وَإِنَّکَ لَعَلَیٰ خُلُقٍ عَظِیمٍ»
"নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।"
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.) মানবজাতির জন্য উত্তম চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ আদর্শ ছিলেন। মাওলানা জালালাহ-এর মতে, নবী (সা.)-এর অনুসরণ কেবল কথায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা আচরণে, মানুষের সাথে সম্পর্কের ধরণে, অন্যদের সম্মান করা এবং তাদের সাথে কোমলতা, দয়া ও মানবিক মর্যাদার সাথে আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে হবে।
২. সত্যবাদিতা ও আমানতদারি; নবী (সা.)-এর অনন্য বৈশিষ্ট্য
মাওলানা হামিদ জালালাহ সত্যবাদিতা ও আমানতদারির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের আগেও এই দুটি গুণে পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর সমাজের লোকেরা তাঁকে "আস-সাদিকুল আমিন" (সত্যবাদী ও আমানতদার) উপাধিতে চিনতেন; যা তাঁর চরিত্রে সত্যতা ও আমানতদারির উচ্চ মর্যাদার পরিচয় দেয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বে, যেখানে সত্যতা ও আমানতদারি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে, সেখানে মানুষের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শে ফিরে আসা এবং সত্যবাদিতা, আমানত রক্ষা ও ন্যায় ও সততার সাথে দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে জীবন গড়া অপরিহার্য।
৩. সহনশীলতা ও ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধা
তানজানিয়ার শিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান শেখ ভিন্ন মত সহ্য করা এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি শ্রদ্ধা রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন এবং বলেন, মহানবী (সা.) যারা দৃষ্টিভঙ্গি, মনোভাব ও জীবনযাত্রায় পরস্পর থেকে ভিন্ন ছিল, তাদের তিনি একসাথে সম্মান ও সহযোগিতার সাথে বসবাস করতে শিখিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর মদিনায় হিজরতের পর এই আদর্শ সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়; সেখানে তিনি বিভিন্ন মতের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু তাদের মধ্যে সহাবস্থান ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
সুতরাং, তিনি বলেন, আজকের সমাজকে মহানবী (সা.)-এর কাছ থেকে শিখতে হবে যে মতভেদ ঘৃণা, বিভেদ ও শত্রুতার কারণ হওয়া উচিত নয়; বরং প্রজ্ঞা, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে মতবিরোধ মোকাবিলা করা সম্ভব।
৪. ইসলামি ঐক্য ও জাতীয় ঐক্য
এই বিশিষ্ট শেখ তার বক্তৃতার অন্য অংশে ধর্মীয় পার্থক্য নির্বিশেষে ইসলামি ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, মহানবী (সা.) এমন ভিত্তি স্থাপন করেছেন যার ভিত্তিতে মুসলিমরা একটি ঐক্যবদ্ধ ও সংহত উম্মাহতে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, এই শিক্ষাগুলো কেবল বইয়ে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান-আয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে এবং মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।
মাওলানা জালালাহ জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বও তুলে ধরেন এবং জনগণকে তাদের পার্থক্য সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একসাথে বসবাস করার আহ্বান জানান; কারণ ঐক্য সমাজের অগ্রগতি ও কল্যাণের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি।
৫. শান্তি; নবী (সা.)-এর বিশ্বের জন্য মূল্যবান উত্তরাধিকার
মাওলানা শেখ জালালাহ শান্তির গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়ে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমাজে শান্তি ও সংহতির ভিত্তি স্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা কীভাবে মতবিরোধ সমাধান করতে হয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে হয়, তার স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
সেই ভিত্তিতে, তিনি মুসলিম ও সকল মানুষকে শান্তিকে মহানবী (সা.)-এর রেখে যাওয়া উত্তম সুন্নত হিসেবে সংরক্ষণ করতে এবং তাঁর শিক্ষা থেকে সংঘাত কমাতে, সংহতি জোরদার করতে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে ব্যবহার করার আহ্বান জানান।
শেখ জালালাহ তাঁর বক্তৃতার শেষে জোর দিয়ে বলেন যে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মর্যাদা উদযাপন করতে হলে তাঁর শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়নের সাথে যুক্ত হতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন: সত্যবাদিতা, আমানতদারি, সহনশীলতা, ঐক্য ও শান্তি-এসব নীতি সমাজকে একটি উন্নত সমাজে রূপান্তরিত করতে পারে; তাই মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠান এই শিক্ষাগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে এবং সেগুলোকে মুসলিম ও সমগ্র সমাজের জীবনের অংশ করতে একটি সুযোগ হওয়া উচিত।
আপনার কমেন্ট