রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৯:৩৬
পড়াশোনা নাকি চাকরি—তরুণ মায়েদের জন্য কোনটি বেশি উপযোগী?

বর্তমান সময়ে নারীদের মধ্যে ‘কর্মচাঞ্চল্যের ঘাটতি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে এ সমস্যা আরও তীব্র হচ্ছে; এর ফলে ঘরোয়া সৃজনশীলতাও অনেকাংশে হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ ঘর কখনোই স্থবিরতার কেন্দ্র হওয়া উচিত নয়। একজন সক্রিয় ও প্রাণবন্ত মা দৈনন্দিন পারিবারিক কাজকে কেবল দায়িত্ব হিসেবে না দেখে, পরিবারে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন রেজা ইউসুফজাদে তরুণ মায়েদের জীবনযাপন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং পড়াশোনা, চাকরি ও সৃজনশীলভাবে পারিবারিক জীবন পরিচালনার মধ্যকার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: ২৪ বছর বয়সী একজন নারী, যার পাঁচ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে—তার জন্য কোনটি বেশি উপযোগী: পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নাকি চাকরিতে প্রবেশ করা?

উত্তর: এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই বলতে হয়, বিষয়টি মূলত ওই নারীর জীবনযাপন, পারিবারিক পরিস্থিতি ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। তবে গৃহস্থালির দায়িত্ব পালনকে কখনোই বাইরের চাকরির তুলনায় নিম্নমানের কাজ হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর মূল্য ও গুরুত্ব চাকরির চেয়েও বেশি হতে পারে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সক্রিয় ও কর্মচঞ্চল থাকা। আর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন চিন্তা করা এবং এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মূল্যবান ও প্রশংসনীয়।

দুঃখজনকভাবে, বর্তমানে নারীদের মধ্যে ‘কর্মচাঞ্চল্যের ঘাটতি’ দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা আরও বেড়েছে। অথচ ঘর হওয়া উচিত সৃজনশীলতা ও প্রাণচাঞ্চল্য প্রকাশের একটি ক্ষেত্র।

আমার বিশ্বাস, একজন নারীকে ঘরে সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। ঘরের কাজকে শুধু দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এর মাধ্যমে পরিবারে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করা সম্ভব।

উদাহরণস্বরূপ, একঘেয়েমি দূর করতে ঘরের সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা—অবশ্যই লোক দেখানো বা অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার উদ্দেশ্যে নয়—জীবনে নতুনত্ব আনতে পারে। একইভাবে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও মিষ্টান্ন তৈরি করা কিংবা নতুন নতুন পানীয় প্রস্তুত করাও ঘরের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।

একজন মা যখন সক্রিয় ও সৃজনশীল থাকেন, তখন তাঁর সন্তানরাও এসব নতুনত্বে আনন্দ পায়। অন্যদিকে, স্বামীও পরিবারের এমন প্রাণবন্ত পরিবেশ থেকে নতুন উদ্যম লাভ করেন। প্রকৃতপক্ষে, পরিবারের জীবনে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য সঞ্চার করাই একজন নারীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

এখন যদি ধরে নেওয়া হয়, আপনি তরুণ, আপনার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এবং স্বামীর সহযোগিতাও পাচ্ছেন—কারণ ছোট সন্তান থাকা অবস্থায় একজন মায়ের সামাজিক পরিসরে সক্রিয় হওয়ার জন্য স্বামীর সহমর্মিতা ও পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন—তাহলে মূল প্রশ্নটি হলো:

বাইরের জগতে আপনার জন্য ‘পড়াশোনা’ অগ্রাধিকার পাবে, নাকি ‘চাকরি’?
নিঃসন্দেহে, উভয় পথেরই নিজস্ব সুবিধা ও কিছু বিবেচ্য দিক রয়েছে। চাকরি পরিবারের আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, পড়াশোনা আপনাকে আপনার সন্তানের জন্য একটি মূল্যবান ও অনুপ্রেরণাদায়ী আদর্শে পরিণত করতে পারে। কারণ, এই পৃথিবীতে আমাদের আচরণ ও জীবনযাপন থেকে সবচেয়ে বেশি এবং গভীরভাবে প্রভাবিত হয় আমাদের সন্তানরাই।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha