বুধবার ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৬:১১
শিক্ষক-পরিচয়ের নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক যুদ্ধে অগ্রসেনানী

আরদাবিল: আরদাবিল প্রদেশে ওয়ালিয়ে ফকিহের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ হাসান আমেলি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে তরুণ প্রজন্মের ব্যক্তিত্ব গঠনে শিক্ষকের অনন্য ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেবল একটি প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জাতীয় সম্পদ এবং আধিপত্যবাদীদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মোকাবিলার প্রধান দুর্গ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে আরদাবিল প্রদেশে ওয়ালিয়ে ফকিহের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন সাইয়্যেদ হাসান আমেলি প্রচলিত শিক্ষা-দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে শিক্ষককে শিক্ষার্থীর মন ও আত্মার ওপর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি কৈশোর ও যৌবনের ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সকে পরিচয় নির্মাণের স্বর্ণযুগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যে শিক্ষক কেবল শুষ্ক জ্ঞান ও শিক্ষাগত তথ্য স্থানান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন, তিনি নিজের মূল দায়িত্ব-অর্থাৎ আত্মার চিকিৎসা ও ব্যক্তিত্ব নির্মাণের স্থাপত্য-উপেক্ষা করেছেন। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক শিক্ষার্থীর চিন্তা ও পরিচয়ের নির্মাতা।

আরদাবিল প্রদেশে ওয়ালিয়ে ফকিহের প্রতিনিধি শিক্ষা (শেখা) ও তারবিয়ত (নৈতিক-আধ্যাত্মিক গঠন)-এই দুটি ধারণার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে শত্রুর নরম যুদ্ধের সম্মুখসারির অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে যদি ইসলামী বিপ্লব ও নতুন ধর্মীয় সভ্যতার আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করা না হয়, তাহলে সমাজ চিন্তাগত ও সাংস্কৃতিক আক্রমণের সামনে দুর্বল হয়ে পড়বে।

নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদার চালিকাশক্তি, আর এই দায়িত্ব সরাসরি আমাদের শিক্ষকদের ওপর বর্তায়।

তিনি তাঁর বক্তব্যের অন্য একটি অংশে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে ইসলামী বিশ্বের তরুণদের প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার ফল হলো এমন একটি প্রজন্ম, যারা কঠিনতম চাপ ও আগ্রাসনের মুখেও বিচলিত হয় না।

শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈমানভিত্তিক আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা, যাতে তারা জীবনের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে কেবল নিষ্ক্রিয় না থাকে; বরং একটি অভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়।

শেষে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আমেলি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মীদের শত্রুদের চিন্তাগত ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

তিনি তাঁদের প্রতি আহ্বান জানান, শুধু পাঠ্যসূচির নির্ধারিত বিষয়ের মধ্যে নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে হেদায়েত ও পথনির্দেশের ঐশী দায়িত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং শ্রেণিকক্ষগুলোকে ইসলাম ও বিপ্লবের আদর্শে গড়া মানুষ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করতে হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha