রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৩:৫৪
শিশুদের রক্তে মানবাধিকার

শিশুর রক্তে লেখা কোনো মানবাধিকার হতে পারে না। যারা মানবাধিকার ও সভ্যতার কথা বলে, তাদের বিবেকের সামনে আজ সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন-ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শিশুর জীবন কি সত্যিই সবার কাছে সমান মূল্যবান? রাষ্ট্র, ধর্ম, জাতি কিংবা ক্ষমতার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটি শিশুর জীবনকে পবিত্র মনে করার আহ্বান জানিয়ে এক সাধারণ ভারতীয়ের কণ্ঠে উঠে এসেছে অন্যায়, নিরপরাধ হত্যাকাণ্ড ও নীরবতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শপথ-ঘৃণা বা প্রতিশোধের নয়, মানবতা, সত্য ও ন্যায়ের বিবেকের বিপ্লবের।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,

কলমে —সেখ মঈনুল হক

আমি কোনো রাষ্ট্রের দূত নই,

কোনো দলের মুখপাত্র নই,

কোনো স্লোগানের ভাড়াটে কণ্ঠ নই —

আমি এক সাধারণ ভারতীয়,

যার বুকের গভীরে আজও

শোনা যায়

শিশুর কান্না।

ওরা বলে —

ওরা মানবাধিকারের প্রবক্তা,

ওরা সভ্যতার রক্ষক,

তবু ভাঙা স্কুলের দেয়ালে

লেগে থাকে শিশুর রক্ত,

হাসপাতালের করিডরে

জমে থাকে মৃত্যুর নীরবতা,

আর এক লহমায়

নিষ্পাপ প্রাণগুলো

চিরদিনের মতো থেমে যায়।

বিজ্ঞানী মারা যায়,

হাসপাতাল পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে,

জলের শোধনাগার ভেঙে পড়ে,

খেলতে বেরোনো শিশুটি

আর কোনোদিন

ঘরে ফেরে না।

ওরা কি যুদ্ধ করতে এসেছিল ?

ওদের হাতে কি অস্ত্র ছিল ?

ওরা কি কোনো সেনার সামনে দাঁড়িয়েছিল ?

না —

ওরা ছিল শুধু শিশু।

ওদের অপরাধ —

ওরা বেঁচে ছিল।

তাই আজ আমি প্রশ্ন করি —

কার দম আছে, বলো,

মানবাধিকারের পতাকা হাতে নিয়ে

শিশুর রক্তের ওপর দাঁড়ানোর ?

আমি মুসলিম বলে

কাউকে সন্ত্রাসী বলি না।

আমি হিন্দু বলে

কাউকে সন্ত্রাসী বলি না।

আমি কোনো ধর্মের পরিচয়কে

অপরাধের মাপকাঠি করি না।

সন্ত্রাসী সে —

যে শিশুর বুক লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে,

যে হাসপাতালকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে,

যে নিরস্ত্র মানুষের জীবনে

মৃত্যুর অন্ধকার নামিয়ে আনে,

যে ধর্ম, জাতি কিংবা রাষ্ট্রের নামে

মানুষের রক্তকে বৈধতা দিতে চায়।

কারণ —

ধর্ম মানুষের পরিচয় হতে পারে,

কিন্তু হত্যার লাইসেন্স নয়।

রাষ্ট্র মানুষের আশ্রয় হতে পারে,

কিন্তু নিষ্পাপ রক্তের ঊর্ধ্বে নয়।

আমরা আত্মসমর্পণ করব না —

না ঘৃণার কাছে,

না প্রতিহিংসার কাছে,

না বোমার কাছে,

না সেই নীরবতার কাছে

যে নীরবতা অন্যায়ের সামনে

মানুষের বিবেককে হত্যা করে।

আমরা মানবতায় বিশ্বাস করি।

বিশ্বাস করি —

একটি শিশুর জীবন

কোনো পতাকার চেয়ে ছোট নয়,

কোনো সীমান্তের চেয়ে তুচ্ছ নয়,

কোনো ধর্মের চেয়ে কম পবিত্র নয়।

যে শিশু আজ ধ্বংসস্তূপের নিচে,

সে শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয় —

সে সমগ্র মানবজাতির সন্তান।

তাই তার কান্না

আমাদের কান্না।

তার রক্ত

আমাদের বিবেকের রক্ত।

তার অধিকার

আমাদের সবার অধিকার।

শিশুর রক্তের দাগ

কোনো স্লোগানে মুছবে না,

কোনো কূটনৈতিক ভাষণে চাপা পড়বে না,

কোনো ক্ষমতার প্রাসাদে

তার আর্তনাদ হারিয়ে যাবে না।

ন্যায় প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত

এই প্রশ্ন জ্বলতেই থাকবে —

মানবাধিকার কি সত্যিই সবার,

নাকি শুধু শক্তিশালীদের জন্য ?

আমি এক সাধারণ ভারতীয়।

আমার হাতে কোনো অস্ত্র নেই —

আছে শুধু একটি কণ্ঠ।

আমার পাশে কোনো সেনাবাহিনী নেই —

আছে শুধু বিবেক।

তবু আমি বলব —

শিশুর পাশে দাঁড়াও।

মানুষের পাশে দাঁড়াও।

ন্যায়ের পাশে দাঁড়াও।

আজ আমি শপথ করছি —

ঘৃণার বিরুদ্ধে মানবতা,

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য,

নিরপরাধ হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

আমি আত্মসমর্পণ করি না।

আমি প্রতিশোধের বিপ্লব চাই না —

আমি বিবেকের বিপ্লব চাই।

আমি ধ্বংসের বিপ্লব চাই না —

আমি ন্যায়ের বিপ্লব চাই।

আর আমার সেই বিপ্লবের

একটাই শপথ —

মানবাধিকার হোক সবার।

শিশুর জীবন হোক পবিত্র।

মানুষের রক্তে নয়,

মানবতার হাতেই

লিখিত হোক ভবিষ্যৎ।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha