হাওজা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে আল-আলম টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল মোহেব্বি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয়ের’ মুখোমুখি হয়েছে; তবে ওয়াশিংটন তা স্বীকার করার সাহস দেখাচ্ছে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকও দেশটির পরাজয়কে স্বীকার করছেন। তাঁর মতে, এই ব্যর্থতাকে দুই স্তরে দেখা যায়। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র তার পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি, যার বড় অংশ ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী নির্ধারণ করেছিল। দ্বিতীয়ত, এর চেয়েও গভীর একটি কৌশলগত পরাজয় ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভিত্তিকে প্রভাবিত করেছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। জেনারেল মোহেব্বি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী থাকা এবং জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক উপস্থিতি বজায় রাখলেও যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি খোলা ছিল এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এটি বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন চুক্তি লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতার কারণে প্রণালিটি এখনও বন্ধ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি সংঘাতের নতুন পর্যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল মোহেব্বি বলেন, যুদ্ধ শেষ হয়নি; বরং বিভিন্ন পর্যায়ে তা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য আইআরজিসি নিজেদের প্রস্তুত করেছে এবং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দেশকে রক্ষায় তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইআরজিসির কোনো ধরনের যোগাযোগের বিষয়টিও জেনারেল মোহেব্বি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইরানের সংবিধান অনুযায়ী আইআরজিসির দায়িত্ব সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ; কূটনৈতিক বিষয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। তাঁর দাবি, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কখনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিল না এবং ভবিষ্যতেও তারা কূটনৈতিক বিষয়ে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে না।
ভবিষ্যতে নতুন করে হামলা হলে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে—এ প্রসঙ্গে জেনারেল মোহেব্বি বলেন, পরবর্তী কোনো সংঘাতে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর পরিবর্তিত হবে এবং নতুন অস্ত্র ও সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে, যা বিশ্বকে চমকে দেবে। একই সঙ্গে ইরানের লক্ষ্যবস্তুও আগের সংঘাতের তুলনায় ভিন্ন হবে বলে জানান তিনি।
জেনারেল মোহেব্বি আরও বলেন, যুদ্ধের আগে ও যুদ্ধ চলাকালে ইরান এমন কিছু অস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো এখনো ব্যবহার করা হয়নি। প্রয়োজনের সময় এসব অস্ত্রকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান আইআরজিসির মুখপাত্র।
আপনার কমেন্ট