মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৮:৫৮
সবচেয়ে দূরদর্শী, সৎ ও উত্তম মানুষ কারা?

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিসের ব্যাখ্যায় শহীদ আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) বলেছেন, সবচেয়ে দূরদর্শী মানুষ সে-ই, যে নিজের ক্রোধ সংবরণ করতে পারে। কারণ, ক্রোধ মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। ফলে রাগের সময় মানুষ ভুল কথা বলা, ভুল কাজ করা কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো আচরণ করতে পারে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শহীদ আয়াতুল্লাহ ইমাম খামেনেয়ী (রহ.) ফিকহের উচ্চতর পাঠের ক্লাসের শুরুতে মহানবী (সা.)-এর বিভিন্ন নৈতিক হাদিসের ব্যাখ্যা করতেন। ‘সবচেয়ে দূরদর্শী, সৎ ও উত্তম মানুষ’ শিরোনামে মহানবী (সা.)-এর একটি নৈতিক হাদিসের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন—

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,  এটি মহানবী (সা.)-এর পূর্ববর্তী হাদিসেরই পরবর্তী অংশ।

وَأَحْزَمُ النَّاسِ أَكْظَمُهُمْ لِلْغَيْظِ

“মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দূরদর্শী সে, যে নিজের ক্রোধ সংবরণ করে।”

‘হাযম’ (حزم) অর্থ দূরদর্শিতা, সতর্কতা এবং কোনো কাজের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া। দূরদর্শী ব্যক্তি সে-ই, যে প্রতিটি পদক্ষেপ ও কাজ করার আগে তার বিভিন্ন দিক ও পরিণতি বিবেচনা করে।

হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দূরদর্শী সে-ই, যে নিজের ক্রোধ ও ক্ষোভ সংবরণ করতে পারে।

কেন তাকে দূরদর্শী বলা হয়েছে?
কারণ, ক্রোধ মানুষের বিবেক-বুদ্ধির ওপর পর্দা ফেলে দেয়। মানুষ যখন রাগান্বিত থাকে, তখন অনেক সময় সে নিজের বুদ্ধি-বিবেকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আর তখন তার কাছ থেকে বেপরোয়া ও ভুল কাজ, অনুচিত কথা কিংবা ভুল সিদ্ধান্ত প্রকাশ পেতে পারে।

তাই কেউ যদি জীবনের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সতর্কতার সঙ্গে চলতে এবং ভুল-ত্রুটি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চায়, তাহলে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো রাগের সময় ক্রোধ সংবরণ করা।

অর্থাৎ, ক্রোধ যেন তার কথা, কাজ, আচরণ কিংবা কোনো সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে না পারে। এটাই হলো কাযমে গায়েজ—ক্রোধ সংবরণ।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা। কখনো কখনো আমরা রাগের বশে এমন কোনো কথা বলে ফেলি, যা বলা উচিত ছিল না।

আবার রাগেরও বিভিন্ন ধরন রয়েছে। কখনো মানুষ সাময়িক উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে পড়ে। আজকের ভাষায় বলা যায়, কোনো একটি পরিবেশ বা দলের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে পড়ে সে নিজেও উত্তেজিত হয়ে যায়। হয়তো একা থাকলে সে এতটা রাগ করত না; কিন্তু ওই পরিবেশে গিয়ে সে-ও রাগান্বিত হয়ে পড়ে।

এরপর রাগের বশে মুখে যা আসে, তাই বলে ফেলে। এর ফলে অসংখ্য ভুল ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

وَأَصْلَحُ النَّاسِ أَصْلَحُهُمْ لِلنَّاسِ

“মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সৎ সে, যে মানুষের কল্যাণে সবচেয়ে বেশি কাজ করে।”

আমরা সবাই, ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর সৎ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে চাই। আপনি যদি আল্লাহর সৎ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে চান, তাহলে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে কাজ করুন, তাদের উপকারে আসুন এবং তাদের জন্য কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

وَخَيْرُ النَّاسِ مَنْ انْتَفَعَ بِهِ النَّاسُ

“মানুষের মধ্যে উত্তম সে, যার মাধ্যমে অন্যরা উপকৃত হয়।”

এখানে ‘খাইর’ (خير) শব্দটি শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, মানুষের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে-ই, যার অস্তিত্ব ও কর্মকাণ্ড থেকে অন্য মানুষ উপকৃত হয়।

মানুষ যখন তাদের দুনিয়াবি ও পরকালীন সমস্যা সমাধানের জন্য তার কাছে আসে এবং সে তাদের উপকারে এগিয়ে আসে, তাদের সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করে—তখন এমন ব্যক্তিকেই মানুষের মধ্যে উত্তম বলা হয়।

মূল শিক্ষা হলো—নিজের ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করা, মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং নিজের মাধ্যমে অন্যদের উপকৃত করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক গুণ।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha