বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:২৬
আল্লাহর কাছে পরিবারের মর্যাদা কতটা?

আল্লাহর কাছে পরিবার অত্যন্ত প্রিয় ও পবিত্র একটি প্রতিষ্ঠান। ইসলামী সমাজের কাঠামোর অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো পরিবার। সমাজের সুস্থতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও অগ্রগতি অনেকাংশেই নির্ভর করে সুস্থ, স্থিতিশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারের ওপর।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: পরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মোহসেন আব্বাসি ওয়ালদি ‘আল্লাহর বিধানে পরিবার ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্ক’ বিষয়ে এক প্রশ্নোত্তরে পরিবারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে পরিবারের মর্যাদা

আল্লাহর কাছে পরিবারের মর্যাদা কতটা?

অত্যন্ত বেশি। পরিবার আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাঠামোগুলোর অন্যতম। সমাজের বহু নৈতিক গুণ ও মানবিক মূল্যবোধ একটি সুস্থ, স্থিতিশীল ও নৈতিক পরিবার গড়ে ওঠার ওপর নির্ভরশীল। সুস্থ পরিবার ছাড়া কোনো সমাজই প্রকৃত অর্থে সুস্থ হতে পারে না।

আল্লাহ পরিবারের প্রতি এমন গুরুত্ব দিয়েছেন যে, এর জন্য বিশেষ পুরস্কারের কথাও বর্ণিত হয়েছে। যেমন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য এক ফোঁটা অশ্রু বিসর্জনের সওয়াবের কথা শুনে কেউ বিস্মিত হলে বলা যায়—“হুসাইন (আ.) আল্লাহর প্রিয়; আর আল্লাহ তাঁর প্রিয়জনের জন্য ব্যয় করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা এসব বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারিনি।”

এক সময় নাজাফে হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর প্রাঙ্গণ নির্মাণের সময় এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যেখানে মানুষ সামান্য অর্থ দিয়ে ওই নির্মাণকাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল।

তখন মানুষকে বলা হতো, “আপনি একটি ইট কিনে এই প্রাঙ্গণ নির্মাণে অংশীদার হতে পারেন।” অনেকের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হলেও এ সুযোগ তাদের আনন্দিত করত। কেউ হয়তো বলতেন, “এখন বেশি অর্থ দিতে পারছি না; তবে অন্তত পাঁচটি ইটের নির্মাণে অংশ নেব।”

যারা আরবাঈনের সময় ইরাকের নাজাফে গিয়েছেন, কিংবা বছরের অন্য সময়ে গিয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-এর মাজারের পাশে হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর প্রাঙ্গণ দেখেছেন এবং এর বিশালতা উপলব্ধি করেছেন।

এখন কল্পনা করুন, সেই বিশাল স্থাপনার একটি ইট আপনার অর্থে নির্মিত হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর যখন দেখবেন, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারতকারীরা সেখানে বিশ্রাম নিচ্ছেন, তখন আপনার মনে হবে—“হে আল্লাহ! এই মহৎ কাজে অন্তত একটি ইটের সমপরিমাণ হলেও আমার অংশ রয়েছে।” নিঃসন্দেহে এটি আনন্দের অনুভূতি।

এবার পরিবারকেও একই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখুন। প্রতিটি পরিবার ইসলামী সমাজের বিশাল কাঠামোর একটি ইটের মতো। সমাজের দৃঢ়তা ও সমৃদ্ধি নির্ভর করে তার পরিবারগুলোর সুস্থতার ওপর। সুস্থ ও ধর্মপরায়ণ পরিবার ছাড়া কোনো সমাজের প্রকৃত অগ্রগতি, সংস্কৃতির বিকাশ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha