রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:২৩
শহীদ নাসরুল্লাহর রক্ত প্রতিরোধের পথ অব্যাহত রাখার গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা

এক বিশিষ্ট মিসরীয় চিন্তাবিদ শহীদ নাসরুল্লাহর উত্তরাধিকার সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর পবিত্র রক্ত প্রতিরোধের পথ অব্যাহত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,বিশিষ্ট মিসরীয় চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী মুহাম্মাদ সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও শহীদ সাইয়্যেদ হাশেম সাফিউদ্দিনের শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এক বক্তব্যে মানবতা, নীতি ও আত্মত্যাগের প্রতি আনুগত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বাধীনতা ও মর্যাদার পথে শাহাদাতবরণকারী পবিত্রতম শহীদদের প্রতিচ্ছবি বিশ্লেষণ করেন।

তিনি বলেন, কিছু মানুষ চলে যাওয়ার পরও হারিয়ে যান না। কারণ তাঁরা যে প্রভাব রেখে যান, তা মানুষের স্মৃতি ও প্রজন্মের চেতনার মধ্যে থেকে যায়। তাঁদের জীবন মর্যাদা, দৃঢ়তা, দায়িত্ববোধ এবং জাতির প্রতিরক্ষার অর্থ নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করে, সেগুলোও মানুষের মধ্যে থেকে যায়।

মুহাম্মাদ সাইয়্যেদ আহমাদ আল-আহদ ওয়েবসাইটের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা আজ এমন একজন মানুষের কথা বলছি, যিনি সাধারণ মানুষের মতো পৃথিবী থেকে বিদায় নেননি; বরং তিনি রেখে গেছেন বীরত্বের এক উত্তরাধিকার, এমন এক অমোচনীয় চিহ্ন, যা সময় মুছে ফেলতে পারে না, এবং এমন এক স্মৃতি, যা তাঁর জাতি ও জনগণের হৃদয় ও মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদদের জীবন ও তাঁদের বেঁচে থাকার বছরসংখ্যা দিয়ে তাঁদের মূল্যায়ন করা হয় না; বরং তাঁরা যে অর্থ ও আদর্শ রেখে গেছেন, যে আত্মত্যাগ করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটময় সময়ে যে অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তার মাধ্যমে তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়।

এই মিসরীয় চিন্তাবিদ জোর দিয়ে বলেন, সুতরাং হজরত সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাত তাঁর কাহিনি ও তাঁর পথের সমাপ্তি নয়। কারণ দেহ বিলীন হয়ে যেতে পারে, কিন্তু অবস্থান ও আদর্শ অটুট থাকে। আর কোনো ন্যায়সঙ্গত আদর্শের প্রতিরক্ষায় যে রক্ত ঝরে, তা এক চিরন্তন স্মৃতিতে পরিণত হয়।

তিনি আরও বলেন, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ছিলেন একজন মহান বীর। তিনি জানতেন, কেবল কথার মাধ্যমে জাতি ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে না। মর্যাদা ও সম্মান এমন কিছু, যা আমাদের নিজেদেরই অর্জন করতে হয়।

ইতিহাস কখনো ভুলে যায় না-সংকটময় ও ভাগ্যনির্ধারক মুহূর্তে কারা সম্মানজনক অবস্থান গ্রহণ করেছিল এবং কারা শুধু দাঁড়িয়ে দেখেছিল।

ওই মিসরীয় চিন্তাবিদ বলেন, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ তাঁর যে বিষয়গুলোর প্রতিরক্ষা করা মূল্যবান বলে বিশ্বাস করতেন, সেই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

তিনি আমাদের জন্য শুধু শোক প্রকাশের চেয়েও বড় একটি দায়িত্ব রেখে গেছেন-তাঁর উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করা, তাঁর মূল্যবোধের পাহারা দেওয়া এবং তাঁর স্মৃতিকে প্রতিরোধের পথ অব্যাহত রাখার চালিকাশক্তিতে পরিণত করা।

প্রতিরোধের শহীদ নেতার সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মুহাম্মাদ সাইয়্যেদ আহমাদ বলেন: হে আমাদের পবিত্রতম শহীদ, আমরা বলব না যে তুমি চলে গেছ। কারণ যারা অনুপস্থিত, তারা বিস্মৃত হয়েছে; কিন্তু তুমি আমাদের হৃদয় ও স্মৃতিতে বেঁচে আছ।

আত্মত্যাগের কথা উচ্চারিত প্রতিটি শব্দে, সাহসের অর্থকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা প্রতিটি অবস্থানে এবং এমন প্রতিটি প্রজন্মের মধ্যে তুমি বেঁচে আছ-যে প্রজন্ম শিক্ষা লাভ করে যে, ভূখণ্ডগুলোর এমন কিছু মানুষ থাকে, যারা তাদের পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য কঠিন মূল্য পরিশোধ করে।

তিনি আরও বলেন: মৃত্যু তোমার দেহকে নিয়ে গেছে, কিন্তু তোমার উত্তরাধিকারকে নিতে পারেনি। তোমার জীবনের একটি মুহূর্তকে নিয়ে গেছে, কিন্তু তোমার জাতির স্মৃতিতে তোমার স্থানকে নিতে পারেনি।

তোমার প্রতি সালাম, যেদিন তুমি আমাদের মাঝে ছিলে; তোমার প্রতি সালাম, যেদিন তুমি সম্মুখসারিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে; তোমার প্রতি সালাম, যেদিন তুমি চলে গেলে; আর তোমার স্মৃতির প্রতি সালাম-যতদিন এই জাতির মধ্যে এমন একটি হৃদয় অবশিষ্ট থাকবে, যে আনুগত্যের অর্থ জানে।

এই মিসরীয় চিন্তাবিদ শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর সঙ্গে তাঁর পুনরায় অঙ্গীকারের কথা বলতে গিয়ে আরও জোর দিয়ে বলেন: আজ আমরা আপনার কাছে অঙ্গীকার করছি-আপনার স্মৃতি কোনো ক্ষণস্থায়ী উপলক্ষ হয়ে থাকবে না। বরং এটি এমন এক আমানত, যা আমরা কাঁধে বহন করব; এমন এক কাহিনি, যা আমরা বর্ণনা করব; এবং এমন এক মূল্যবোধ, যা আমরা আমাদের সন্তানদের মধ্যে সঞ্চারিত করব।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha