হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী এবং মিনাবের স্কুলের নিপীড়িত শহীদদের স্মরণে একটি আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তানের করাচির মালিরের জাফর তাইয়ার হাউজিং সোসাইটিতে হরিম-ই-বেলায়াত ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন করাচিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান কাসেম মোরাদি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ইসলামি প্রতিষ্ঠান ‘সুবহে জহুর’ ও ‘হায়দারি স্কুল’।
জ্ঞান ও সচেতনতার মাধ্যমে অগ্রগতির পথে তরুণ প্রজন্ম
করাচিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান কাসেম মোরাদি তাঁর বক্তব্যে ইসলামি সমাজগুলোতে কিশোর প্রজন্মের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তাদেরকে আশাব্যঞ্জক এবং ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্বশীল একটি প্রজন্ম হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি কিশোর প্রজন্ম ও ইসলামের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইমাম খোমেনি (রহ.) এবং শহীদ ইমামের বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে বলেন, আপনারাই সেই প্রজন্ম, যাদেরকে বিপ্লবের দুই ইমাম ইসলাম ও মুসলমানদের ভবিষ্যতের আশা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
করাচিতে ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সচেতনতা অর্জনের মাধ্যমে অগ্রগতি ও মর্যাদার পথ অব্যাহত রাখতে হবে এবং এ পথে শহীদদের আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে হবে।
মিনাবের শহীদ শিক্ষার্থীদের প্রতি বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব
মোরাদি তাঁর বক্তব্যে মিনাবের স্কুলের শহীদ শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের প্রকৃত পরীক্ষা হলো অগ্রগতি ও জ্ঞানার্জনের পথ অব্যাহত রাখা। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের আরও বেশি পরিশ্রম করে জ্ঞান ও শিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে হবে, নিজেদের পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং জ্ঞান ও বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে।
মোরাদি বলেন, শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ যেন শুধু স্মরণসভা ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। তাঁদের সম্মান জানানোর সর্বোত্তম উপায় হলো জ্ঞান, নৈতিকতা, সচেতনতা ও মানুষের সেবার পথে এগিয়ে যাওয়া।
পবিত্র প্রতিরক্ষা থেকে শিক্ষা
পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে মোরাদি এর তাৎপর্য এবং এর কয়েকটি শিক্ষা তুলে ধরেন। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসের বিভিন্ন উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি দৃঢ়তা, জাতীয় মর্যাদা রক্ষা, আত্মবিশ্বাস এবং চাপের মুখে প্রতিরোধের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তি ও সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ওপর নির্ভরতা, আত্মবিশ্বাস, ঐক্য ও দৃঢ়তার মাধ্যমে জাতিগুলো নিজেদের অগ্রগতির পথ অনুসরণ করতে পারে।
সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহর আদর্শ
মোরাদি তাঁর বক্তব্যের পরবর্তী অংশে শহীদ সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহর আদর্শ ও ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ব্যক্তিত্বে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন:
১- সাহস ও বীরত্ব
২- বিচক্ষণতা ও দূরদর্শী প্রজ্ঞা
৩- বেলায়াতের প্রতি আনুগত্য
তিনি স্বীকার করেন, এসব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা কিশোর প্রজন্মের জন্য-বিশেষ করে বর্তমান সমাজে যারা বিভিন্ন ধরনের আদর্শ ও মডেলের মুখোমুখি হচ্ছে সেই শিক্ষার্থীদের জন্য-অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারে।
শহীদ ও প্রতিরোধ নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে হায়দারি পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের তৈরি শহীদ ও প্রতিরোধ বিষয়ক বিভিন্ন রঙিন ও বিশেষ পোস্টার উপস্থিত দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়।
এসব শিল্পকর্মে শাহাদাত, আত্মত্যাগ, প্রতিরোধ এবং শহীদদের স্মৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুভূতি ফুটে ওঠে। একই সঙ্গে এগুলো দেখিয়ে দেয়, কিশোর প্রজন্ম শিল্প, চিত্র ও নিজস্ব সৃজনশীলতার ভাষায় বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধগুলোকে প্রকাশ করতে পারে।
এ ছাড়া প্রতিরোধের শহীদ এবং মিনাবের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণে অনুষ্ঠানে বিপ্লবী ও বীরত্বপূর্ণ সংগীত পরিবেশন করা হয়।
আপনার কমেন্ট