সোমবার ৫ অক্টোবর ২০২৬ - ১১:৪১
ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

ইসরাইলী অস্ত্রের বড় ক্রেতা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশসমূহ যেমন: আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরোক্কো যারা ১৯ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরাইলী অস্ত্রের বড় ক্রেতা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশ। তাহলে প্রমাণিত হয়ে গেল যে মধ্যপ্রাচ্যের এ সব আরব দেশ হচ্ছে ইসরাইলের পাচাটা গোলাম ও দাস।

অথচ সৌদীপন্থী ওয়াহাবী সালাফীরা বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশে ইরান ও ইয়ামানের হুথী আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে তুমুল অপপ্রচার করে বলছে হুথী-আনসারুল্লাহ ও ইরান নাকি ইসরাইলের ভাই,বেরাদর ও দোসর।

কিন্তু বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ইসরাইলী অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সাজসরঞ্জামের ক্রেতা হচ্ছে এ সব সুন্নী প্রধান আরব দেশের সরকার সমূহ!আর ইরান তো গত ২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইতরাইল (ইসরাইল) ও মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) বিরুদ্ধে জিহাদ ও যুদ্ধরত আছে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম সাইয়েদ আলী হুসাইনী খামেনেয়ী এবং বহু উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা সহ পাঁচ হাজারের অধিক শিয়া ইরানী মুসলমান শহীদ হয়েছেন।

ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

আর শীয়া যাইদী ইয়ামানের হুসী-আনসারুল্লাহ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, বারোজন মন্ত্রী এবং হাজার হাজার ইয়ামানী শিয়া ও সুন্নী মুসলমান ফিলিস্তিন ও গাযার বিরুদ্ধে ইতরাইলের বর্বর জঘন্য আগ্রাসন, যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ করার জন্য লোহিত সাগরে ইতরাইলের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলে সফল অবরোধ আরোপের অপরাধে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), যুরা (যুক্তরাজ্য) ও ইতরাইলের (ইসরাইল) বর্বর বোমাবর্ষণে শাহাদাত বরণ করেছেন।

আর ৮অক্টোবর ২০২৩ সাল থেকে গাযার বিরুদ্ধে ইতরাইলের (ইসরাইল) বর্বর আগ্রাসন, যুদ্ধ, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের প্রতিবাদে ইতরাইলের বিরুদ্ধে এখন (৩ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত লেবাননের ইমামীয়া শীয়া মুসলমান হিযবুল্লাহ আন্দোলন ইতরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদ ও যুদ্ধরত এবং হিযবুল্লাহর সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ সহ প্রায় ১০০০০ লেবাননী এই তিন বছরে ইয়াহুদী বাদী ইতরাইলের হাতে শাহাদাত বরণ করেছেন যাদের অধিকাংশই ইমামীয়া শীয়া মুসলমান।

ফিলিস্তিনের মুক্তি ও আযাদীর জন্য ইতরাইল (ইসরাইল) ও মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) বিরুদ্ধে ইরান, লেবানন,ইরাকও ইরানের শীয়া মুসলমানরা জিহাদ ও যুদ্ধ এবং হাজার হাজার শহীদ উৎসর্গ করে মাযুরার পাচাটা গোলাম পথভ্রষ্ট সৌদীদের দালাল সালাফী ওয়াহাবীদের দৃষ্টিতে ইত্রাইল ও ইয়াহুদীদের ভাই,মিত্র ও দোসর বনে গেলেন ওয়াহহাবী,সালাফী তাকফীরীদের দৃষ্টিতে!!!!!

তাহলে এখন সবাই বিচার করুন:কারা আসলে ইসরাইলের প্রকৃত ভাই ও দোসর?সুন্নী প্রধান আরব দেশগুলোর সরকারসমূহ নাকি যাইদী শিয়া প্রধান ইয়ামানের হুথী-আনসারুল্লাহ এবং ইমামীয়া শীয়া প্রধান ইরান ও হিযবুল্লাহ?

বর্বর মাযুরা ও ইতরাইলের পাচাটা গোলাম সৌদী,আমীরাতী কুয়েতী, কাতারী, ওমানী, জর্দানী, বাহরাইনী সরকার গুলো গাযায় ইতরাইলের (ইসরাইল) জঘন্য বর্বর আগ্রাসন,যুদ্ধ ও গণহত্যার বছরগুলোতে (৭অক্টোবর২০২৩ থেকে ১০অক্টোবর২০২৫) ইতরাইলের বিরুদ্ধে কোনো অবরোধ আরোপ করে নি এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পর্যন্ত ছুঁড়েও মারে নি ইতরাইলের দিকে।

ইয়ামানের হুথী-আনসারুল্লাহই ইতরাইলের বিরুদ্ধে ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত সফল অবরোধ আরোপ করে এবং মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইতরাইলের (ইসরাইল) প্রভুত অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করেছে।

অথচ বর্বর সৌদী সরকার ২০১৪ থেকে এ পর্যন্ত (৩অক্টোবর ২০২৬) দীর্ঘ বারো বছরের অধিক কাল ধরে ইয়ামানের জনগণের ৭০%-৮০%অর্থাৎ দেশটির জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সমর্থন পুষ্ট হুথী-আনসারুল্লাহর নেতৃত্বাধীন ইয়ামানের ওপর জল-স্থল-অন্তরীক্ষে ভয়াবহ প্রাণান্তকর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে রেখে ইয়ামানী জনগণকে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার জ্বালা দিয়ে তিলে তিলে হত্যা করার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা করেছে।

আনসারুল্লাহ কর্তৃক ইতরাইলের (ইসরাইল) ওপর ঐ দুই বছরের (৮অক্টোবর ২০২৩ থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৫) সফল অবরোধের সময়ও হুথী-আনসারুল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়ামানের ওপর অমানুষ বর্বর মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পাচাটা দাস সৌদীদের ভয়ানক সর্বাত্মক অবরোধ অব্যাহত ছিল।

কিন্তু হুথী-আনসারুল্লাহ ঐ সময় অপরাধী সৌদী আরবের ওপর অবরোধ আরোপ করে নি।এখন কেন আনসারুল্লাহ সৌদীদের ওপর অবরোধ আরোপ করতে বাধ্য হল? গত জুলাই মাসে শহীদ আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম সাইয়েদ আলী হুসাইনী খামেনেয়ীর দাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তেহরান থেকে ইয়ামানী আনসারুল্লাহ প্রতিনিধি দল এবং চিকিৎসা শেষে কিছু আহত ইয়ামানী নাগরিককে ইরানী প্লেন ইয়ামানের রাজধানী সানা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নিয়ে আসলে বিমান অবরোধের বাহানায় সৌদী আরব ইরানী উড়োজাহাজকে সানা এয়ারপোর্টে অবতরণ করতে বাধা দেয় এবং রানওয়েতে বোমাবর্ষণ করলে হুথী-আনসারুল্লাহ সরকার সৌদী আরবকে কঠোর ভাষায় সাবধান করে দেয় যে ইরানী প্লেনকে অবতরণ করতে না দিলে কঠোর জবাব দেবে ইয়ামান সৌদী আরবকে। অবশেষে ইরানী

উড়োজাহাজ ইয়ামানের অন্য এক বিমানবন্দরে নামতে বাধ্য হয়। এরপর ইয়ামানের ওপর পাপিষ্ঠ পাপাত্মা সৌদীদের আরোপিত অন্যায় অবরোধের অবসানের জন্য আনসারুল্লাহ সরকার সৌদী আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করে।

আর তখন থেকে আনসারুল্লাহ সরকারের বিরুদ্ধে সৌদী আরব ও তাদের ভাড়াটে চর ও এজেন্টরা যুদ্ধ শুরু করে যা এখনও চলছে এবং ইয়ামানী জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় ঐকমত্যের আনসারুল্লাহ সরকার সাম্প্রতিক যুদ্ধে বহু অঞ্চল সৌদীদের চর ও এজেন্টদের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করেছে।

এখন তৃতীয় বৃহত্তম ইয়ামানী শহর ত'য়েয্ মুক্ত করতে যাচ্ছে আনসারুল্লাহ এবং আদনের (এডেন) দিকে ধাবমান।মুক্ত অঞ্চলের ইয়ামানী গোত্র সমূহ আনসারুল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে সাহায্যের জন্য সৌদী আরব মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), যুরা (যুক্তরাজ্য), মিসর, ফাঁকিস্থান (পাকিস্তান) ও তুর্কিয়া এমনকি ইতরাইলের আঁচল ধরছে‌ ও তাদের স্মরণাপন্ন হচ্ছে।

সৌদী আরব কলম্বিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকান দেশসমূহ থেকে ভাড়াটে যোদ্ধা এবং যে দায়েশ ও সালাফী ওয়াহহাবী তাফীরী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সমূহ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল সেগুলো থেকেও লোক নিয়োগ করচ্ছে ইয়ামানের আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য।

যে সৌদী আরব ইয়ামানী জনগণের সঠিক ও প্রকৃত প্রতিনিধি আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিত ও  ব্যর্থ হয়ে দিশাহারা হয়ে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এক নম্বর দুশমন মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), ইতরাইল (ইসরাইল) ও যুরার (যুক্তরাজ্য) শরণাপন্ন হয়েছে সাহায্য চাওয়ার জন্য সেই সৌদী আরব আসলে ইয়াহুদী ইতরাইলের (ইসরাইল) ভাই ও দোসর হওয়ার যোগ্য তো নয়ই বরং মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), ইতরাইল (ইসরাইল) ও যুরার (যুক্তরাজ্য) পাচাটা গোলাম ও ক্রীতদাস ছাড়া আর কিছুই নয় (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: যুগান্তর ১৪-৯-২০২৬:হুথিদের ঠেকাতে ইসরাইলের সাহায্য চাইছে সৌদি আরব https://share.google/JEY5IPNrY8nsFqtsi)।

আর এ কারণেই এই ওয়াহহাবী সালাফী সৌদীরা গাদ্দার ও খায়েন (বিশ্বাসঘাতক) মুসলিম উম্মাহর সাথে গাদ্দারী ও খিয়ানত করার কারণে।আর এই গাদ্দার খায়েন সৌদীদের দ্বারা সব ধরনের অপকর্ম,দুষ্কর্ম,কুকর্ম, কুকীর্তি ও অপরাধ সংঘটিত হওয়া একান্ত স্বাভাবিক। তাই পবিত্র মক্কায় ড্রোন হামলা ও পবিত্র কা'বা শরীফে বোমা ফাটানোর চেষ্টা এবং মদীনা শরীফের মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কথিত ড্রোন হামলা  ইয়ামানের বীর মুজাহিদ হুথী-আনসারুল্লাহকে বদনাম করার উদ্দেশ্যে সৌদী গাদ্দার বিশ্বাসঘাতক এবং মাযুরা-ইতরাইলের (মার্কিন-ইসরাইল) যৌথ চক্রান্ত,ষড়যন্ত্র,নীলনকশা ও পরিকল্পনা।

যে সব তথাকথিত সুন্নী আরব সরকার ইতরাইলের (ইসরাইল) কাছ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় করেছে এবং  ইসরাইলের সাথে প্রকাশ্যে ঘোষিত ও গোপন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা মূলক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে তারা এবং তাদের ওয়াহাবী সালাফী তাকফীরী চেলা চামুণ্ডারা কিভাবে ও কোন্ মুখে শিয়া মুসলিম ইরান,ইয়ামান,ইরাক ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে ইয়াহুদীদের ভাই ও দোসর বলছে?!! এ তো বিরাট বড় অপবাদ ও সত্যের অপলাপ।

এখানে আরও একটা বিষয় উল্লেখ্য এবং তা হচ্ছে যে সম্মান,তা'যীম ও রূহানী আধ্যাত্মিক ফয়য ও বরকতে লাভের জন্য মহানবী (সা) এবং ওয়ালী-আওলিয়ার মাযার ছোঁওয়া ও চুম্বন করা, মহান আল্লাহর কাছে তাঁদের মাধ্যমে তাওয়াসসুল করা, তাঁদের কাছে তাঁদের শাফায়াত প্রার্থনা (ইস্তিশফা استشفاع) ও সাহায্য চাওয়া এই ওয়াহহাবী সালাফী তাকফীরী সৌদীদের দৃষ্টিতে শিরক, বি'আত ও হারাম।

কিন্তু যুদ্ধে হুথীদের কাছে মার খেয়ে হেরে গিয়ে এই ওয়াহহাবী সালাফী তাকফীরী সৌদী আরব মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র),যুরা (যুক্তরাজ্য),ইতরাইলের (ইসরাইল) কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে কিভাবে?

এখন গায়রুল্লাহর কাছে সাহায্য ভিক্ষার কারণে এদের (ওয়াহাবী সৌদীদের) শিরক হচ্ছে না?!!! কার্যতঃ সৌদী আরব ইতরাইল (ইসরাইল),মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)ও যুরার (যুক্তরাজ্য) কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে বড্ড বড় ধরনের অন্যায় ও শিরকই করে ফেলেছে।

তাই সৌদী আরব তৌহীদী রাষ্ট্র (দওলাতুত তাওহীদدولة التوحید) নয়। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম যে মুসলিম দেশ পাকিস্তান ও তুর্কিয়ার কাছে সৌদী আরবের সাহায্য প্রার্থনা বৈধ। কিন্তু কোন্ যুক্তিতে ইসলামের মহা ও চরম দুশমন বিধর্মী খ্রিষ্টান-নাসারা ও ইয়াহূদীদের কাছে সালাফী ওয়াহহাবী সৌদী আরব হুথীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাহায্য প্রার্থনা করেছে?!!!

তাই ওয়াহহাবী সালাফী তাকফীরী গোষ্ঠীদের উচিত ইরান, হুথী-আনসারুল্লাহ ও হিযবুল্লাহকে নয় বরং ওয়াহাবী সালাফী সৌদী আরবের তুমুল সমালোচনা ও নিন্দা করা।

 লেখা: মুহাম্মদ হুসাইন শাফাক

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha