৪ থেকে ৬ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তর্জাতিক বদিউজ্জামান সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। ‘বৈশ্বিক সংকটের কোরআনভিত্তিক সমাধান’ শীর্ষক সম্মেলনে বুথ রাজনৈতিক কারসাজি, করপোরেট প্রভাব ও ভোগবাদী সংস্কৃতির সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, এসব ব্যবস্থা ক্রমেই মানুষের চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে।
বক্তব্যের শুরুতে সুরা আল-বাকারার ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ তুলে বুথ বলেন, নিজেদের শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দাবি করলেও যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে, কোরআন তাদের নিন্দা করেছে।
হযরত মুসা (আ.) ও ফেরাউনের কোরআনিক বর্ণনার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করে তিনি বলেন, প্রাচীনকালে ক্ষমতা ধরে রাখতে আকর্ষণ ও ভয়কে যেভাবে ব্যবহার করা হতো, আধুনিক যুগে সেসব কৌশল আরও পরিশীলিত রূপ নিয়েছে।
ইসলাম গ্রহণের পথে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বুথ বলেন, তিনি যখন তাঁর দুই ছোট মেয়েকে জানান যে ইসলাম গ্রহণের কথা ভাবছেন, তখন তারা জানতে চেয়েছিল—তিনি কি তাদের মা হিসেবেই থাকবেন, মদ্যপান ছেড়ে দেবেন এবং শালীন পোশাক পরবেন?
বুথ বলেন, মেয়েদের এসব প্রশ্ন তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তাঁর মতে, প্রশ্নগুলো মানুষের স্বাভাবিক সহজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাহর শক্তির প্রতিফলন।
তিনি জানান, জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে চান, তা মেয়েদের বোঝানোর পর তারা ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়।
আধুনিক বিশ্বের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুসলিমদের দাওয়াহর মাধ্যমে ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান জানানোর পরামর্শ দেন বুথ। তাঁর মতে, এ আহ্বান হতে হবে সঠিক দিকনির্দেশনা, উত্তম আচরণ ও সহমর্মিতার মাধ্যমে; ক্ষতিকর বলে বিবেচিত কর্মকাণ্ড অনুকরণের মাধ্যমে নয়।
বক্তব্যের শেষে প্রজ্ঞা, সাহস ও রহমতের জন্য প্রার্থনা করেন লরেন বুথ। একই সঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য এবং ফিলিস্তিনের মুক্তির আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: ইলখা (ILKHA)
আপনার কমেন্ট