শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬ - ০৯:৪৭
ইহুদিদের বর্ণনায় তাদের রাষ্ট্রের পতনের ইঙ্গিত, যা কোরআনের প্রতিশ্রুতিকে সমর্থন করে: লেবাননের সুন্নি আলেম

লেবাননের বিশিষ্ট সুন্নি আলেম ও আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ উলামা ইউনিয়নের প্রধান শেখ মাহের হামুদ বলেছেন, জায়নবাদী ও অজায়নবাদী—সব ইহুদিই তাদের রাষ্ট্রের পতন অনিবার্য বলে বিশ্বাস করে। তাদের বিভিন্ন লেখায়ও এ বিষয়ে ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: আল-আকসা তুফানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে লেবাননের সাইদায় শেখ মাহের হামুদের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘স্থিতিশীলতা ও আনুগত্য’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ মাহের হামুদ বলেন, “আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, জায়নবাদী হোক বা অজায়নবাদী—সব ইহুদিই তাদের রাষ্ট্রের পতন অনিবার্য বলে বিশ্বাস করে। তারা এ রাষ্ট্রের আয়ুষ্কাল ৮০ বছর নির্ধারণ করেছে। ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড বেন-গুরিয়ন থেকে শুরু করে এহুদ বারাকের লেখায়ও বিষয়টি স্পষ্ট।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ইহুদিদের বর্ণনাগুলো বিশ্বাস করি, কারণ সেগুলোতে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তাদের বইগুলোতে উল্লেখ আছে, লেবাননে প্রবেশকারী একটি সেনাবাহিনী বেকা উপত্যকার মাঝামাঝি অবস্থিত সুলতান ইয়াকুব গ্রামে এসে থেমে যাবে। এটি এমন একটি ছোট গ্রাম, যার নামও অনেকে জানেন না। ১৯৮২ সালে ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছিল। সুতরাং, ইনশাআল্লাহ, এ বিষয়ে ইহুদিদের বর্ণনাগুলোও সত্য হবে। এতে পবিত্র কোরআন ও নবীজির হাদিসে বর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়।”

আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ উলামা ইউনিয়নের প্রধান আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননের ধ্বংসযজ্ঞের জন্য প্রতিরোধ আন্দোলনকে দায়ী করে যেসব গণমাধ্যম বারবার প্রচার চালাচ্ছে, তাদের সমালোচনা করা জরুরি। এসব গণমাধ্যম গাজার ধ্বংসযজ্ঞের জন্যও প্রতিরোধ আন্দোলনকে দায়ী করে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে তারা জায়নবাদীদের অমানবিক অপরাধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যাকে আড়াল করে সেগুলোর দায় প্রতিরোধ আন্দোলনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।

শেখ হামুদ বলেন, লেবাননের প্রতি আনুগত্যের অধিকার কারও একচেটিয়া নয়। কেউ কেউ দাবি করেন, গাজার প্রতি সমর্থন জানানো লেবাননের প্রতি আনুগত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ এ দাবি মানবিকতা ও লেবাননের মৌলিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, যারা লেবাননের সংবিধান প্রণয়নের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছেন, অথচ জায়নবাদবিরোধী লেখক মিশেল শিহার লেখাগুলো ভুলে গেছেন, তাদের সমালোচনা করা প্রয়োজন। মিশেল শিহা সতর্ক করে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনে জায়নবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে লেবাননও টিকে থাকতে পারবে না। কারণ, জায়নবাদী রাষ্ট্র বর্ণবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত; অন্যদিকে লেবাননের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সমঝোতার ওপর।

সভায় অন্য বক্তারাও বলেন, ৭ অক্টোবরের ঘটনা বিশ্বপরিসরে অনেক লক্ষ্য অর্জন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, ফিলিস্তিন ইস্যুর গুরুত্ব এবং ইসরায়েলের অপরাধ সম্পর্কে বিশ্বের বহু জাতির মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি।

বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আইনি ও মানবিক বিচারের মুখোমুখি করেছে, জায়নবাদীদের সহযোগী শাসকগোষ্ঠীগুলোর ষড়যন্ত্র উন্মোচন করেছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে তথাকথিত ‘আব্রাহামিক ধর্ম’-এর ধারণাসহ এসব উদ্যোগকে জনসাধারণের নিন্দার মুখে অসহায় করে তুলেছে।

সভা শেষে বক্তারা বলেন, যুদ্ধে বিজয় কেবল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না; বরং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন এবং যুদ্ধের একটি পর্যায়ের সমাপ্তির ভিত্তিতেও তা মূল্যায়ন করা হয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha