রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:৪৬
না জেনে ইসরায়েলি পণ্য কেনা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কী?

ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পণ্য কেনার পর সেগুলোর উৎস সম্পর্কে জানা না থাকলে, তা ব্যবহার করার শরয়ি বিধান কী—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে মারজায়ে তাকলিদরা বলেছেন, সম্ভব হলে পণ্য ফেরত দিয়ে মূল্য ফিরিয়ে নিতে হবে। আর পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ার দায়িত্বও পালন করতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবা কেনাবেচার শরয়ি বিধান সম্পর্কে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মারজায়ে তাকলিদদের ফতোয়ায় বলা হয়েছে, যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এ শাসকগোষ্ঠীকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে, তা জায়েজ নয়। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কর্তব্য।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

সম্মানিত ভাই ও প্রিয়জনদের প্রতি সালাম।

ইসরায়েলি অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর পণ্য কেনাবেচা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনায় আমরা আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। আজ যে বিষয়টি তুলে ধরতে চাই, তা হলো—কখনো কখনো কেউ বলেন: “আমরা একটি পণ্য কিনেছি, কিন্তু জানতাম না যে এটি ইসরায়েলি কোম্পানি বা ইসরায়েলি অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না। কেনাকাটা শেষ হওয়ার পর জানতে পেরেছি, পণ্যটি ওই শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কোম্পানির। যেহেতু কেনার সময় বিষয়টি জানা ছিল না, তাই এখন পণ্যটি ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা আছে কি না?”

এ প্রশ্নের জবাবে সম্মানিত মারজায়ে তাকলিদরা বলেছেন, কোনো পণ্যের উৎস সম্পর্কে না জেনে সেটি কেনার পর যদি ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে তা ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ, যে প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্যটি কেনা হয়েছে, সেখানে গিয়ে সেটি ফেরত দিয়ে মূল্য ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে তা করতে হবে।

তবে পণ্য ফেরত দেওয়ার সুযোগ না থাকলে—যা অনেক ক্ষেত্রেই ঘটে—সেটি ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ, যে কেনাকাটা করা উচিত ছিল না, তা অজ্ঞতাবশত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ক্রেতা পণ্যটির মালিক হয়েছেন। তাই এখন তিনি সেটি ব্যবহার করতে পারবেন।

আরেকটি বিষয় হলো, কখনো কেউ জানেন যে কোনো পণ্য ইসরায়েলি অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, কিন্তু তিনি নিজে সেটি কেনেননি। উদাহরণস্বরূপ, তিনি কারও বাড়িতে দাওয়াতে গেলেন। সেখানে খাবার টেবিলে এমন কোনো পানীয় বা খাদ্যদ্রব্য রাখা হয়েছে, যা ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে তিনি জানেন। কিন্তু বাড়ির মালিক হয়তো বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, অথবা এ সম্পর্কে জানতেন না।

এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, ওই ব্যক্তি কি সেই পানীয় পান করতে বা খাবার খেতে পারবেন?

এর জবাবে বলা হয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অন্যায় কাজে বাধা দেওয়া (নাহি আনিল মুনকার) আবশ্যক। প্রথমে বাড়ির মালিককে জানাতে হবে যে, এ ধরনের পণ্য কেনা যথাযথ হয়নি।

দ্বিতীয়ত, যদি বোঝা যায় যে ওই পণ্য ব্যবহার না করলে—যেমন, সংশ্লিষ্ট পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকলে—বাড়ির মালিক ভবিষ্যতে আর সেটি কিনবেন না এবং এর পরিবর্তে অন্য পানীয় কিনবেন, যা আপনি বা তাঁর অন্য অতিথিরা ব্যবহার করতে পারবেন, তাহলে ওই পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

অর্থাৎ, এ পরিস্থিতিতে পানীয় পান না করা, খাবার না খাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহণ না করা—এসবই অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ার বাস্তব প্রয়োগ হতে পারে।

তবে কোনো ক্ষেত্রে পণ্য ব্যবহার না করা যদি অন্যায় কাজে বাধা দেওয়ার শামিল না হয়, তাহলে অন্যের কেনা ওই পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ, এখানে যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে, ফিকহের পরিভাষায় তা হুরমতে তাকলিফি—অর্থাৎ, কাজটি করা নিষিদ্ধ হলেও এর ফলে পণ্যের মালিকানা বাতিল হয়ে যায় না। তাই পণ্যটির মালিক সেটি ব্যবহার করতে পারেন।

ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha