রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:১২
ইসলামি মাজহাবগুলোর দৃষ্টিতে তাকাত্তুফ (নামাজে হাত বাঁধা)

ইসলামের প্রাথমিক যুগে কিছু মুসলিম মাজুসদের মধ্যে তাদের স্থানীয় নেতা ও প্রধান ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি বিশেষ পদ্ধতি লক্ষ্য করেন এবং তা পছন্দ করেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, চতুর্থ পর্ব

তৃতীয়ত-নামাজে হাত বাঁধার প্রচলন সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

ইসলামের প্রাথমিক যুগে কিছু মুসলিম মাজুসদের মধ্যে তাদের স্থানীয় নেতা ও প্রধান ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি বিশেষ পদ্ধতি লক্ষ্য করেন এবং তা পছন্দ করেন। মাজুসদের এই সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতির মধ্যে ছিল এক হাতের তালু অপর হাতের ওপর রাখা।

কারণ, এভাবে হাত রাখা তাদের কাছে বিনয়, আনুগত্য ও নম্রতার প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হতো। পরবর্তীতে প্রাথমিক যুগের কিছু মুসলিম সাহাবিও এই সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতিতে প্রভাবিত হন।

তাঁরা এটিকে আল্লাহ তাআলার সামনে বিনয় ও একাগ্রতার প্রকাশ হিসেবে বিবেচনা করে, এবং এটিকে নিজেদের নামাজে একটি সুন্নত হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপর মানুষকে নামাজের মধ্যে এক হাত অপর হাতের ওপর রাখার জন্য শক্তভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়-যেমনটি সাহল ইবনু সা‘দের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

[আন-নাস্‌স ওয়াল-ইজতিহাদ, পৃ. ২১৩; রিসালাতুত তাকরীব, সংখ্যা ৬২, পৃ. ৬০]

এভাবে এক পর্যায়ে মানুষকে নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখার নির্দেশ দেওয়া হতো। [আল-মুআত্তা-ইমাম মালিক, পৃ. ১৩৩; সহিহুল বুখারি, খণ্ড ১, পৃ. ১৭৮]

উপরের আলোচনাগুলো থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা মূলত কিছু ব্যক্তির পছন্দ ও বিবেচনার ভিত্তিতে গৃহীত একটি পদ্ধতি। সুতরাং এটিকে শরিয়তের স্বতন্ত্র দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না এবং নামাজের মধ্যে এটিকে শরিয়তসম্মত বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও বৈধ নয়।

কারণ, এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের যে পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।  রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজে দুই হাত স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে রাখতেন (ইরসাল)।

অতএব, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের পদ্ধতির বিপরীতে কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ বা ইজতিহাদ গ্রহণ করা হলে তা ‘নসের বিপরীতে ইজতিহাদ’ (الاجتهاد في مقابل النص) হিসেবে গণ্য হবে।

অথচ মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন:

«مَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا»

রাসূল তোমাদের যা দিয়েছেন, তা গ্রহণ করো; আর তিনি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকো।

কিন্তু অবাকের বিষয় যে-কিছু মানুষ এই আয়াতের নির্দেশনার বিপরীত পন্থা অবলম্বন করেছেন এবং আয়াতের পরিবর্তে এমন নীতি গ্রহণ করেছেন, বলে মনে হয় যে:

সাহাবিগণ তোমাদের যা দিয়েছেন, তা গ্রহণ করো!

 এটি অত্যন্ত আশ্চর্য ও বিস্ময়কর একটি বিষয়।

চতুর্থত-এ বিষয়ে ইমাম মুহাম্মদ ইবনু রুশদ আল-কুরতুবির মতামত:-

ইমাম মুহাম্মদ ইবনু রুশদ আল-কুরতুবি তাঁর বিদায়াতুল মুজতাহিদ ও নিহায়াতুল মুকতাসিদ গ্রন্থে নামাজে এক হাতের ওপর অপর হাত রাখার বিষয়ে আলেমদের মতভেদ উল্লেখ করে বলেন:

«اختلف العلماء في وضع اليدين إحداهما على الأخرى في الصلاة...»

নামাজে এক হাতের ওপর অপর হাত রাখার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালিক ফরজ নামাজে এভাবে হাত রাখা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) মনে করতেন; তবে নফল নামাজে তা অনুমোদন করতেন।

অন্যদিকে একদল আলেম মনে করেছেন যে, এটি নামাজের সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত-এবং এ মতটিই অধিকাংশ আলেমের (জুমহুরের) মত।

তাদের মতভেদের কারণ হলো-রাসূলুল্লাহ (সা.) কীভাবে নামাজ আদায় করতেন, সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কিছু বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু সেসব রেওয়ায়েতে তিনি ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখতেন-এমন কথা উল্লেখ করা হয়নি।

আবার অন্য কিছু রেওয়ায়েতে প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষকে নামাজে এভাবে হাত রাখার নির্দেশ দেওয়া হতো। আবু হুমাইদের হাদিসেও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের বর্ণনার মধ্যে এ বিষয়টির উল্লেখ এসেছে।

ফলে একদল আলেম মনে করেছেন, যেসব রেওয়ায়েতে হাত রাখার কথা এসেছে, সেগুলো এমন অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করেছে যা অন্য রেওয়ায়েতগুলোতে নেই। আর যখন কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় অতিরিক্ত কোনো বিষয় প্রমাণিত হয়, তখন সেই অতিরিক্ত বিষয়টিও গ্রহণ করা উচিত।

অন্যদিকে আরেকদল আলেম মনে করেছেন, যেসব রেওয়ায়েতে এই অতিরিক্ত বিষয়টি নেই, সেগুলোই গ্রহণ করা অধিক যুক্তিসঙ্গত। কারণ এ ধরনের রেওয়ায়েতের সংখ্যা বেশি। তাছাড়া তাদের মতে, এক হাতের ওপর অপর হাত রাখা নামাজের মূল ক্রিয়াগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি নামাজের সময় সহায়তা গ্রহণের একটি পদ্ধতি।

এই কারণেই ইমাম মালিক নফল নামাজে তা অনুমোদন করেছেন, কিন্তু ফরজ নামাজে তা অনুমোদন করেননি।

[ বিদায়াতুল মুজতাহিদ ও নিহায়াতুল মুকতাসিদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৭ ]

পঞ্চমত-নামাজে হাত ছেড়ে রাখাই মূলনীতি:

আমরা যে আলোচনা করেছি, তা থেকে বোঝা যায় যে, নামাজে মূলনীতি হলো দুই হাত স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে রাখা (ইরসাল)-যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজ আদায় করতেন। এপক্ষে  নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য :

ক. আহলে সুন্নাতের অধিকাংশ আলেমের মধ্যেই নামাজে হাত বাঁধার (তাকফীর) পদ্ধতি পরবর্তীতে প্রচলিত হয়; রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এটি প্রচলিত ছিল না।

অতএব, উরের উপস্থাপিত বক্তব্য অনুযায়ী, শরিয়তের মূলনীতি হলো নামাজে দুই হাত স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে রাখা (ইরসাল), এক হাতের ওপর অপর হাত রাখা (তাকফীর) নয়। এই ভিত্তিতে একজন মুসলিমের উচিত নামাজে দুই হাত ছেড়ে রাখা, এর পক্ষে নিম্নলিখিত কারণ উল্লেখযোগ্য:

১. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের পদ্ধতি অনুসরণ:

যেমনটি বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজে তাঁর দুই হাত স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে রাখতেন। আর মহান আল্লাহ বলেন:

﴿مَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا﴾

রাসূল তোমাদের যা দিয়েছেন, তা গ্রহণ করো; আর তিনি তোমাদের যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকো।

সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের পদ্ধতিই অনুসরণ করা উচিত।

২. মাজুসদের সঙ্গে সাদৃশ্যের কারণে নিষেধ:

 নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞামূলক বর্ণনা রয়েছে, কারণ এটিকে মাজুসদের আমলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলা হয়েছে। এবং ইসলামে নামাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের সাদৃশ্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে।

৩. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর এর প্রচলন:

 রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখার পদ্ধতি প্রচলিত হয়। যদি কোনো আমল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে শরিয়তের অংশ না থাকে এবং পরবর্তীতে ধর্মীয় আমল হিসেবে সংযোজিত হয়, তাহলে তা বিদআত হিসেবে গণ্য হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রচলিত একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে:

«كُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ»

প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণতি জাহান্নাম।

[কানযুল উম্মাল, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২১]

খ. মানুষকে নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হতো এবং কখনো কখনো এ ব্যাপারে তাদের বাধ্য করা হতো। এখানে প্রশ্ন হলো-যদি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকেই এটি নামাজের প্রচলিত পদ্ধতি হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে মানুষকে কেন এভাবে হাত রাখার নির্দেশ দিতে হতো?

এ প্রসঙ্গে সাহল ইবনু সা‘দের বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে:

«إِنَّهُ قَالَ: كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ أَنْ يَضَعَ الرَّجُلُ الْيَدَ الْيُمْنَى عَلَى ذِرَاعِهِ الْيُسْرَى فِي الصَّلَاةِ»

তিনি বলেন, মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হতো যে, কোনো ব্যক্তি যেন নামাজে তার ডান হাতটি বাম হাতের বাহুর ওপর রাখে। 

[আল-মুআত্তা, পৃ. ১৩৩; সহিহুল বুখারি, খণ্ড ১, পৃ. ১৭৮]

অর্থাৎ এই বর্ণনার শব্দ «كَانَ النَّاسُ يُؤْمَرُونَ»-মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হতো-বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কারণ এখানে সরাসরি বলা হয়নি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন; বরং বলা হয়েছে, মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হতো।

এখানে প্রশ্ন ওঠে?

যদি নামাজে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকেই মুসলিমদের মধ্যে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও সর্বজনীন নামাজের পদ্ধতি হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে মানুষকে আবার এভাবে হাত রাখার নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন কেন দেখা দিল?

অর্থাৎ, বর্ণনাটির ভাষা থেকে অন্তত এটুকু প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে-এই নির্দেশটি কার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল এবং কোন সময় থেকে তা প্রয়োগ করা হচ্ছিল?

গ. কিছু ইসলামি মাজহাব ব্যক্তিরা বলেন, নামাজে হাত বাঁধা না ফরজ আর না ওয়াজিব, বরং এটি সুন্নত। যেমনটি বলা হয়েছে যে, এটি নামাজের মূল পদ্ধতির সঙ্গে পরবর্তীতে যুক্ত একটি অতিরিক্ত আমল, যেটিকে অধিকাংশ আলেম পছন্দনীয় মনে করেছেন। এ বিষয়ে ইবনে রুশদের আলোচনাও উল্লেখ করা হয়েছে।

[বিদায়াতুল মুজতাহিদ ও নিহায়াতুল মুকতাসিদ, খণ্ড ১, পৃ. ১৩৭]

ঘ. আবার বহু ইসলামি ফিকহি মতামতে নামাজে হাত বাঁধাকে আবশ্যিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। উদাহরণস্বরূপ,

ইমাম মালিক: মালিকি মাজহাবের ইমাম-ফরজ নামাজে এটিকে অনুমোদন করতেন না; তবে নফল নামাজে তা গ্রহণযোগ্য মনে করতেন।

ইবাদি মাজহাব: ফরজ নামাজে এক হাতের ওপর অপর হাত রাখাকে অনুমোদন করে না।

জায়দি মাজহাব: ফরজ নামাজে হাত বাঁধাকে অনুমোদন করে না।

ইমামিয়া শিয়া মাজহাব: নামাজে হাত বাঁধা কোনো অবস্থাতেই অনুমোদিত নয়। তাঁদের মতে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এ পদ্ধতি প্রচলিত ছিল না। এ কারণেই নামাজে হাত বাঁধা নিষেধ, এবং এ সম্পর্কে বহু রেওয়ায়েত রয়েছে। যেসব রেওয়ায়েত, এটিকে বিদআত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এটি প্রচলিত ছিল না। পাশাপাশি এটিকে মাজুসদের নামাজের পদ্ধতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলেও কিছু বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, বর্ণিত হয়েছে:

«لَا يَجْمَعُ مُسْلِمٌ يَدَيْهِ فِي صَلَاتِهِ وَهُوَ قَائِمٌ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَتَشَبَّهُ بِأَهْلِ الْكُفْرِ الْمَجُوسِ»

কোনো মুসলিম আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করার সময় তার দুই হাত একত্রে রাখবে না; কারণ এতে সে মাজুসদের-অর্থাৎ কাফির সম্প্রদায়ের-সাদৃশ্য গ্রহণ করে।

আরেকটি বর্ণনায় এসেছে:

«وَلَا تُكَفِّرْ فِي صَلَاتِكَ فَإِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ الْمَجُوسُ»

তুমি নামাজে ‘তাকফীর’ করো না; কারণ এটি মাজুসরা করে।

আরেক বর্ণনায় এসেছে:

«أَوْ أَنَّ ذَلِكَ تَكْفِيرُ أَهْلِ الْكِتَابِ»

অথবা এটি আহলে কিতাবের তাকফীরের পদ্ধতি।

এ ধরনের আরও কিছু রেওয়ায়েতে নামাজে হাত বাঁধা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

[রিসালাতুত তাকরীব, সংখ্যা ৬২, পৃ. ৬০]

ঙ. উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি থেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে,-নামাজের মূল পদ্ধতি হলো দুই হাত স্বাভাবিকভাবে নিচে ছেড়ে রাখা (ইরসাল), ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা নয়।

কারণ, হাত ছেড়ে রাখার জন্য আলাদা কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই-এটিই মূলনীতি এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আমলও এমনই ছিল।

অন্যদিকে, ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখার (তাকফীর) জন্য দলিলের প্রয়োজন, কারণ এটি মূল পদ্ধতির অতিরিক্ত একটি বিষয়।

এ বিষয়ে সাইয়্যিদ শরীফ আল-মুরতাদা (রহ.) বলেন:

«إِنَّ مَنْ لَمْ يَضَعْ إِحْدَى يَدَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى فِي أَنَّهُ غَيْرُ عَاصٍ وَلَا مُبْتَدِعٍ وَلَا قَاطِعٍ لِلصَّلَاةِ، وَإِنَّمَا الْخِلَافُ فِي مَنْ وَضَعَهُمَا، فَالْأَوْلَى وَالْأَحْوَطُ إِرْسَالُ الْيَدَيْنِ»

যে ব্যক্তি নামাজে এক হাত অপর হাতের ওপর রাখে না, এর মানে এই নয় যে, সে গুনাহগার, বিদআতকারী কিংবা তার নামাজ বাতিলকারী। বরং নামাজে এক হাত অপরের ওপর রাখা সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, অতএব, উত্তম ও অধিক সতর্কতা হলো, দুই হাত স্বাভাবিকভাবে ছেড়ে রাখা। [রাসায়িলুশ শরীফ আল-মুরতাদা, খণ্ড ১, পৃ. ২১৯]

অনুবাদ: হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা গোলাম মুস্তাফা নাজাফী

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha