হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আজ ১০ রবীউস সানী মহানবীর (সা) পবিত্র আহলুল বাইতের (আ) পবিত্র মা'সূম বারো ইমামের ৭ম মা'সূম ইমাম হযরত মূসা ইবনে জা'ফার আল-কাযিমের (আ) কন্যা এবং ৮ম মা'সূম ইমাম হযরত আলী ইবনে মূসা রিযার (আ) ভগ্নি হযরত ফাতিমা মা'সূমার (আ) শাহাদত সম ওফাত বার্ষিকী।
এই দিন তিনি ২০১হিজরী সালে পবিত্র কোম নগরীতে ১৭ দিন অবস্থান করার পর ইন্তেকাল করেন। তাঁর এই শাহাদত সম ওফাত দিবসে সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক শোক ও তাসলিয়াত।
হযরত ইমাম হুসাইনের (আ) কাছে তাঁর বোন হযরত যাইনাব বিনতে আলী (আ) যেমন ছিলেন ঠিক তেমনি ছিলেন ইমাম রিযার কাছে হযরত ফাতিমা মা'সূমা।আর এজন্য তাঁকে যাইনাবুর রিযা (ইমাম রিযার যাইনাব) বলা হয়।হযরত ফাতিমা মা'সূমা (আ) ১৭৩ হিজরীতে পবিত্র মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি দুই মা'সূম ইমাম হযরত ইমাম মূসা কাযিম (আ) ও ইমাম রিযার (আ) তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হন এবং অতি শৈশব হতেই তিনি সকল চারিত্রিক গুণ ও পূর্ণতা এবং ধর্ম সংক্রান্ত অগাধ পাণ্ডিত্য ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
একদা বেশ কিছু শরয়ী ধর্মীয় বিষয়ক প্রশ্ন ও মসলা মাসায়েলের সঠিক জবাব জানার জন্য আহলুল বাইতের (আ) অনুসারী কতিপয় ব্যক্তি পবিত্র মদীনায় ইমাম মূসা কাযিমের (আ) বাসভবনে আসেন।
কিন্তু ইমাম তখন সফরে থাকায় এবং আগমনকারীদের হাতে সময় না থাকার জন্য এ প্রশ্ন গুলোর লিখিত জবাব দেন হযরত ফাতিমা মাসূমা (আ) এবং আগুন্তুকগণ প্রশ্নগুলোর জবাব নিয়ে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
পথিমধ্যে ইমাম কাযিমের (আ) সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়।তখন তাঁরা তাঁদের মদীনায় আগমনের কারণ এবং তাঁদের দ্বীনী প্রশ্ন ও মসলা-মাসায়েলের জবাব যে হযরত ফাতিমা মাসূমা (আ) লিখিত দিয়েছেন তা ইমাম মূসা কাযিমকে (আ) বলেন।
ইমাম মূসা কাযিম (আ) জবাব গুলো দেখতে চাইলে তাঁরা তা দেখান এবং ইমাম কাযিম (আ) জবাব গুলো পড়ে তিন বার বলেছিলেন 'ফাদাহা আবূহা (তাঁর পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক)!' এ থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনি (ফাতিমা মাসূমা) ছিলেন ঐ অতি শৈশব কাল হতেই পবিত্র কুরআন,সুন্নাহ ও শরিয়ত সংক্রান্ত গভীর জ্ঞানের অধিকারী ও বিশেষজ্ঞ।
পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ, শরিয়ত ও ফিকহ শাস্ত্র সংক্রান্ত সুক্ষ্ম ও গভীর পাণ্ডিত্য ও জ্ঞান না থাকলে মানুষের ধর্মীয় মসলা মাসায়েলের সঠিক জবাব দেওয়া একদম অসম্ভব। আর এ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তাঁর নিজ ভ্রাতা ইমাম রিযা (আ) যেমন আলিম-ই আল-ই মুহাম্মাদ অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদের আহলুল বাইতের (আ) বিদ্বান জ্ঞানী আলেম উপাধিতে ভূষিত ছিলেন ঠিক তেমনি তিনি (ফাতিমা মাসূমা) ছিলেন আহলুল বাইতের (আ) বিদুষী আলিমা নারী।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে হযরত ইমাম হুসাইনের (আ) বোন হযরত যাইনাবও (আ) দ্বীন সংক্রান্ত অগাধ পাণ্ডিত্য ও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁকে আক্বীলা-ই বনী হাশিম (বনী হাশিমের বুদ্ধিমতী নারী) বলা হয়।
১৭৯ হিজরীতে যালিম আব্বাসীয় খলীফা হারূন ইমাম মূসা কাযিমকে (আ) মদীনা থেকে বলপূর্বক বাগদাদে এনে সিন্দী ইবনে শাহিকের কুখ্যাত কারাগারে বন্দী করে রাখে।এখানে তিনি হিজরী ১৮৩ হিজরী পর্যন্ত (আ) কারারুদ্ধ ছিলেন এবং ঐ বছরই তাঁকে খলীফার নির্দেশে বিষ প্রয়োগ করা হলে কারাগারেই তিনি শাহাদত বরণ করেন।
হযরত ফাতিমা মাসূমা শৈশবে ইয়াতীম ও পিতৃ স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলে হযরত ইমাম আলী রিযার (আ) তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হন। উল্লেখ্য যে ইমাম রিযা ও হযরত ফাতিমা মা'সূমা একই মায়ের সন্তান ছিলেন। তাঁদের মায়ের নাম ছিল নাজমা বা খাইযুরান আল-মুরসীয়াহ্ যিনি আন্দালুসিয়ার (অধুনা স্পেন) মুর্সিয়া নগরীর অধিবাসী ছিলেন (অধিকাংশ রাবীর মতে)।
কোনো কোনো রাবী তাঁকে ( নাজমা) উত্তর আফ্রিকার নূবিয়া অঞ্চলের অধিবাসীও বলেছেন। তিনি (নাজমা) ছিলেন ধর্ম (দ্বীন) ও বিবেক-বুদ্ধির (আকল) দিক থেকে সর্বোত্তম নারীদের অন্তর্ভুক্ত।
দুই পবিত্র মাসূম ইমামের তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হওয়ার কারণে হযরত ফাতিমা মাসূমা (আ) অসাধারণ উন্নত ও পূতপবিত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও পূর্ণতা ব্যঞ্জক নৈতিক গুণাবলীর অধিকারী পূণ্যবতী নারীতে পরিণত হয়েছিলেন। আর এ কারণেই স্বয়ং তাঁর ভ্রাতা ইমাম রিযা (আ) তাঁকে মা'সূমা (নিষ্পাপ নারী) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি মাসূমা নামেই খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।
হযরত ফাতিমা মাসূমা (আ) আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের শীর্ষে পৌঁছে ছিলেন বিধায় নিষ্পাপ মাসূম ইমামদের (আ) থেকে তার মাযার যিয়ারতের দু'আ (যিয়ারত নামা) বর্ণিত হয়েছে যেখানে তার প্রকৃত স্বরূপ, পরিচিতি ও সুউচ্চ রূহানী আধ্যাত্মিক মাকাম এবং উম্মাহর শাফা'আত কারীর (শাফী'আহ شفیعه) মর্যাদার পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর সংক্রান্ত মশহুর মাসনূন যিয়ারত নামার এক স্থানে বর্ণিত হয়েছে:
আসসালামু আলাইকি ইয়া বিনতা রাসূলিল্লাহ (আপনার ওপর সালাম হে রাসূলাল্লাহর কন্যা) আসসালামু আলাইকি ইয়া বিনতা ফাতিমাতা ওয়া খাদীজাহ্ (আপনার ওপর সালাম হে হযরত ফাতিমা ও হযরত খাদীজার কন্যা) আসসালামু আলাইকি ইয়া বিনতা আমীরিল্ মু'মিনীন্ আপনার ওপর সালাম হে আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলীর (আ) কন্যা আসসালামু আলাইকি ইয়া বিনতাল হাসানি ওয়াল হুসাইন আপনার ওপর সালাম হে ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনের কন্যা আসসালামু আলাইকি ইয়া বিনতা ওয়ালীয়িল্লাহ্ আপনার ওপর সালাম হে আল্লাহর ওয়ালীর কন্যা (ইমাম মূসা আল কাযিমের কন্যা) আসসালামু আলাইকি ইয়া উখতা ওয়ালীয়িল্লাহ্ আপনার ওপর সালাম হে আল্লাহর ওয়ালীর ভগ্নি (ইমাম আলী ইবনে মূসা রিযার বোন)
আসসালামু আলাইকি ইয়া 'আম্মাতা ওয়ালীয়িল্লাহ্ আপনার ওপর সালাম হে আল্লাহর ওয়ালীর ফুপি (ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-জাওয়াদের ফুপি) আসসালামু আলাইকি ইয়া বিনতা মূসা ইবনে জা'ফার ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আপনার ওপর সালাম হে ইমাম মূসা ইবনে জাফারের কন্যা এবং আপনার ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত সমূহ বর্ষিত হোক ইয়া ফাতিমাহ্ ইশফা'য়ী লী ফিল্ জান্নাহ্ হে ফাতিমা! আমার জন্য বেহেশতে শাফা'আত করুন ফাইন্না লাকি ইন্দাল্লাহি শা'নাম্ মিনাশ শা'ন্ কারণ,মহান আল্লাহর কাছে আপনার এক বিরাট শা'ন ও মর্যাদা আছে।
উক্ত যিয়ারত নামার এ অংশ থেকে হযরত ফাতিমা মা'সূমার (আ) বংশ পরিচয় এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর (আ) সুউচ্চ আধ্যাত্মিক রূহানী মাকাম, শা'ন ও শাফা'আত করার মর্যাদা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়ে যায়।
আর এ কারণেই ইমাম রিযা (আ) কোমে হযরত ফাতিমা মা'সূমার (আ) মাযার যিয়ারতের ফযীলত সম্পর্কে বলেছেন: যে ব্যক্তি তাঁর (ফাতিমা মা'সূমা) মাযার যিয়ারত করে,সে জান্নাতে দাখিল হবে (দ্রঃ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান অনূদিত শাওয়াহিদুন নবুওত [নবুওতের প্রমাণপঞ্জী],পৃ:২৭২)।
ইমাম রিযা (আ) বলেছেন:যে ব্যক্তি কোমে ফাতিমা মা'সূমাকে যিয়ারত করে তার পুরস্কার হচ্ছে বেহেশত (দ্রঃ কামিলুয যিয়ারত) হযরত ফাতিমা মা'সূমার দাদা হযরত ইমাম জা'ফার সাদিক্ব (আ) বলেছেন: 'মহান আল্লাহর একটি হারাম (অতি সম্মানিত, পবিত্র ও সংরক্ষিত এলাকা বা স্থান) আছে এবং তা হচ্ছে পবিত্র মক্কা শরীফ;হযরত রাসূলুল্লাহরও (সা) একটি হারাম আছে এবং তা হচ্ছে পবিত্র মদীনা; হযরত আলীরও (আ) একটি হারাম আছে এবং তা হচ্ছে কূফা (যার অন্তর্ভুক্ত নাজাফ-ই আশরাফ); আর কোম হচ্ছে ছোট কূফা এবং বেহেশতের ৮ দরজার তিনটি দরজাই কোমের দিকে উন্মুক্ত ও খোলা রয়েছে।কোমে আমার এক বংশধর নারী মৃত্যু বরণ করবে যার নাম হবে ফাতিমা বিনতে মূসা এবং তাঁর শাফা'আতের বদৌলতে আমার সকল অনুসারীরা বেহেশতে প্রবেশ করবে।'
ইমাম সাদিক্ব (আ) অন্যত্র বলেছেন:যে ব্যক্তি ফাতিমা মাসূমার সুউচ্চ মাকাম,মর্যাদা ও শা'নের সম্যক পরিচিতি (মারিফাত) ও জ্ঞান নিয়ে তাঁর (ফাতিমা মাসূমা) মাযার যিয়ারত করে তার পুরস্কার হবে বেহেশত।
আহলুল বাইতের (আ) নবম মা'সূম ইমাম হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-জাওয়াদ (আ) বলেছেন:যে ব্যক্তি কোমে আমার ফুপুকে (ফাতিমা মা'সূমা) যিয়ারত করে তার পুরস্কার হচ্ছে বেহেশত (দ্রঃ বিহারুল আনওয়ার, আ:৪৮,পৃ:৩০৭)।
মদীনা থেকে হযরত ফাতিমা মাসূমার (আ) হিজরত:
অত্যাচারী যালেম আব্বাসীয় খলীফা মা'মূন ২০০ হিজরীতে ইমাম আলী ইবনে মূসা রিযাকে (আ) বলপূর্বক মদীনা থেকে পারস্যের মার্ভ্ নগরীতে নিয়ে গেলে ২০১ হিজরীতে হযরত ফাতিমা মা'সূমা স্বীয় ভ্রাতা ইমাম রিযার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য কতিপয় ভাই ও ভ্রাতুস্পুত্রের সাথে মার্ভের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
কোমের নিকটবর্তী সাভেহ নামক স্থানে পৌঁছলে হযরত ফাতিমা মা'সূমার (আ) কাফেলার ওপর যালেম আব্বাসীয় প্রশাসন দুর্বৃত্তদের লেলিয়ে দেয় এবং তারা উক্ত কাফেলা আক্রমণ করে।তখন এক রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও যুদ্ধ হয় এবং হযরত মাসূমার ভাই ও ভ্রাতুস্পুত্ররা এবং কাফেলার অনেকেই শাহাদত বরণ করেন এবং হযরত ফাতিমা মা'সূমাও (আ) আহত হন এবং আব্বাসীয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে খাদ্যে বিষ মিশিয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত করে।এরফলে তিনি অসুস্থ এবং ভাই, ভ্রাতুষ্পুত্র এবং কাফেলার লোকদের শাহাদাতে খুবই শোকাহত হয়ে পড়েন।এরপর তিনি কোমে আগমন করতে চাইলে কোম বাসীদের একটি দল কোমের জননেতা মূসা ইবনে খাযরাজ আশ'আরীর নেতৃত্বে সাভেহ অঞ্চলে এসে হযরত ফাতিমা মাসূমাকে শত্রুমুক্ত করে পবিত্র কোম নগরীতে নিয়ে আসেন। তিনি পবিত্র কোম নগরীতে মূসা ইবনে খাযরাজের গৃহে ১৭ দিন মেহমান ছিলেন।
এই সতেরো দিন তিনি ইবাদত বন্দেগীতে মগ্ন ছিলেন এবং কোমের জনগণকে ইমাম রিযার (আ) ইমামত ও বেলায়ত এবং তাঁকে মামূনের পরে খিলাফতের উত্তরাধিকারী ঘোষণা সংক্রান্ত খলীফা মামূনের দূরভিসন্ধি, প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত করে বক্তৃতা ও বক্তব্য প্রদান করতে থাকেন।
এই ১৭ দিন ধরে তীব্র অসুস্থতার মধ্যেও কোমবাসীদেরকে বিশেষ করে মহিলাদেরকে খাঁটি ইসলামের শিক্ষা দান, ওয়ায-নসিহত করেন এবং কোমের মুহাদ্দিস ও আলেমদের কাছে মহানবীর (সা) বিশুদ্ধ সহীহ হাদীস বর্ণনা করেন।
অবশেষে ২০১ হিজরীর ১০ রবীউস সানী কোমবাসীদেরকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।তাঁর শাহাদত সম ওফাতে কোমবাসীরা শোক প্রকাশ ও আযাদারী করতে করতে পূর্ণ মর্যাদা সহকারে তাঁর শেষকৃত্য ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
স্মর্তব্য যে ইমাম রিযা (আ) ছদ্মবেশে অলৌকিক ভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে হযরত ফাতিমা মা'সূমাকে (আ) নিজ হাতে কবরে শায়িত ও সমাহিত করে সেখান থেকে মার্ভে প্রত্যাবর্তন করেন। অথচ জনগণ ইমাম রিযাকে (আ) চিনতে পারে নি। এখন কোমে হযরত ফাতিমা মা'সূমার (আ) পবিত্র মাযার আহলুল বাইতের (আ) ভক্ত প্রেমিক ও অনুসারীদের যিয়ারতগাহ। এই মাযার শরীফকে কেন্দ্র করে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা ও গবেষণা কেন্দ্র হাওযা-ই ইলমীয়াহ গড়ে উঠেছে।
হযরত ফাতিমা মাসূমার মাযার কমপ্লেক্সের মসজিদ সমূহে সম্মানিত মারজা-ই তাকলীদগণ মুজতাহিদ গড়ে তোলার উচ্চতর শিক্ষা দার্স -ই খারেজ দান করছেন। ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি হযরত ইমাম খোমেইনী কোমের এই হাওযা-ই ইলমীয়ায় স্বনাম ধন্য ওস্তাদ, শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করে মুজতাহিদ ও মার্জা-ই তাকলীদ হন।
তিনি এই কোম নগরী থেকে বিশ্ব লুটেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাচাটা ভৃত্য ও দাস তাগুতী শাহানশাহী সরকারের বিরুদ্ধে কিয়াম, আন্দোলন ও বিপ্লব করে ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থা কায়েম করেন যা আজ বিশ্বের সকল মুস্তাদাফ ও মযলূম জনতাকে বিশ্ব লুটেরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে আদর্শিক ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং এই বিপ্লবের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রামকারী দলসমূহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রাম, জিহাদ ও যুদ্ধে লিপ্ত আছে।ইরান গতবছর (২০২৫) থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ব লুটেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ণ ইসলামী জযবা ও অনুপ্রেরণা নিয়ে জিহাদ ও যুদ্ধ করছে।
ইসলামী বিপ্লবের শহীদ রাহবার (সর্বোচ্চ নেতা) হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম খামেনেয়ী এই কোম নগরীর হাওযা-ই ইলমীয়ায় শিক্ষাগ্রহণ করেছেন ও বিকশিত হয়েছেন।আর ইসলামী বিপ্লবের বর্তমান রাহবার (সর্বোচ্চ নেতা) হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উযমা ইমাম সাইয়েদ মুজতাবা খামেনেয়ীও নিজ শহীদ পিতার মতো এই কোম নগরীর হাওযা-ই ইলমীয়ায় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন ও বিকশিত হয়েছেন।
বিশ্বগ্রাসী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম,জিহাদ ও যুদ্ধের মূল চালিকা শক্তি ও পথিকৃৎ হযরত ফাতিমা মা'সূমার (আ) এই কোম নগরী। আহলুল বাইতের (আ) এই বিদূষী নারীর (আ) আধ্যাত্মিক রূহানী ফয়য ও বরকতে পবিত্র কোম নগরী আহলুল বাইতের (আ) হারাম (সংরক্ষিত ও সম্মানিত এলাকা) ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।আজ তাঁর বদান্যতা (করম) ও ওয়াসীলায় কোমের হাওযা-ই ইলমীয়াহ্ বিশ্ববাসীর জন্য খাঁটি তৌহীদী মুহাম্মাদী ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়েছে।
পরিশেষে হযরত ফাতিমা মা'সূমার (আ) শাহাদাত সম ওফাত দিবসে আমরা তাঁর শাফা'আত প্রার্থী এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি হযরত ফাতিমা মা'সূমাকে আমাদের শাফা'আতকারী করে দেন।
ইয়া ফাতিমাতুশফায়ী লানা ফীল জান্নাহ ফাইন্না লাকি ইন্দাল্লাহি শা'নাম্ মিনাশ্ শা'ন্
یا فاطمة اشفعي لنا في الجنة فإنّ لک عند الله شأناً من الشأن.
হে ফাতিমা মা'সূমা! আমাদের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে শাফা'আত করুন;কারণ মহান আল্লাহর কাছে আপনার এক বিরাট মর্তবা ও শা'ন আছে।
ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট