বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:৩৩
বাহরাইনের সাম্প্রতিক এক বিস্ময়কর চিত্র: অ্যানিমেশন উৎসবের অনুমতি আছে, কিন্তু শিয়া ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ!

বাহরাইনে সবকিছুরই অনুমতি আছে, কোনো বিধিনিষেধ নেই-শুধু শিয়াদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ছাড়া। শিয়াদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি ইসলামী উপলক্ষে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘মিরআত আল-বাহরাইন’-এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাহরাইনে শিয়াদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে সরকার কঠোরতা দেখায়। দেশটির মানুষ কয়েক দশক ধরে যেসব ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন, সেগুলোর বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অথচ বাহরাইনের সমাজের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে বিবেচিত বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে সরকার নীরব থাকে; বরং তথাকথিত ‘উন্মুক্ততা ও উদারতার’ নীতির আওতায় সেগুলো আয়োজনে সহযোগিতা করে।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হলো, সম্প্রতি বাহরাইনের ‘আল-দানা’ কমপ্লেক্সে টানা তৃতীয় বছরের মতো জাপানি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন।

প্রকাশিত ছবি ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে এমন কিছু অদ্ভুত সাজসজ্জা ও পোশাকের দৃশ্য উঠে এসেছে, যেগুলোর সঙ্গে বাহরাইনের মানুষ আগে পরিচিত ছিলেন না। অন্যদিকে, দেশটির সরকারি গণমাধ্যম এই অনুষ্ঠানকে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে আদান-প্রদান এবং বহির্বিশ্বের প্রতি উন্মুক্ততার একটি ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনটিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার সহনশীলতা ও উন্মুক্ততার অজুহাতে বাহরাইনের ঐতিহ্যবাহী সমাজের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পশ্চিমা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানকে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে।

অথচ বাহরাইনের শতাব্দীপ্রাচীন ইসলামী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

একই সঙ্গে ধর্মীয় আলেমদের সঙ্গে ঘৃণাপূর্ণ ভাষা, তলব ও কারাবাসের মাধ্যমে আচরণ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, মূল সমস্যা সাংস্কৃতিক উন্মুক্ততা কিংবা বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি স্বাগত জানানোর মধ্যে নয়; বরং সমস্যা হলো এই বাছাই করা উন্মুক্ততা, যেখানে ক্ষমতাসীনদের পছন্দের বিষয়গুলোর জন্য দরজা খোলা রাখা হয়, অথচ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যে নীতি বিদেশি অনুষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যাপক সুযোগ তৈরি করে, সেই নীতির অধীনে একটি সাধারণ শোকানুষ্ঠানের জন্য কেন সংকীর্ণতা দেখানো হয়? যে উন্মুক্ততা অপরিচিত পোশাক ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাকে স্বাগত জানায়, সেই উন্মুক্ততার মধ্যেই যখন বাহরাইনের মানুষ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পতাকা উত্তোলন করেন এবং তাঁদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ধর্মীয় আচার পালন করেন, তখন কেন সরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে সক্রিয় করা হয়?

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সরকার যদি সত্যিই উন্মুক্ততা ও সহনশীলতায় বিশ্বাস করে, তাহলে শিয়াদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে ‘নিরাপত্তা ইস্যু’ হিসেবে বিবেচনা করা বন্ধ করা উচিত। একই সঙ্গে হুসাইনি মিম্বর, হুসাইনিয়া, মর্সিয়াপাঠক ও ধর্মীয় বক্তাদের এমন নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় জড়ানো বন্ধ করা উচিত, যেগুলোর পরিণতিতে তলব, জিজ্ঞাসাবাদ ও কারাবাসের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

প্রতিবেদনটির উপসংহারে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা সবকিছুকে ‘সংস্কৃতি’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, অথচ বাহরাইনের মানুষের ধর্মীয় স্মৃতি ও ঐতিহ্য থেকে উঠে আসা বিষয়গুলোকে ‘হুমকি’ হিসেবে দেখা হবে-এটি উন্মুক্ততার নীতি নয়; বরং উন্মুক্ততার আড়ালে সাম্প্রদায়িক বাছাইয়ের নীতি।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha