হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকট অব্যাহত থাকা এবং ইসরায়েলি সমাজে বিভাজন আরও গভীর হওয়ার প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে হিব্রু গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্লেষণ প্রকাশিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলি বিশ্লেষক রুগেল আলফার হারেৎজ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে পূর্বাভাস দিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল ইসরায়েলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বুধবার প্রকাশিত নিবন্ধে রুগেল আলফার লিখেছেন, নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই ইসরায়েলের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্টুডিওতে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে জনমত জরিপগুলো সঠিক প্রমাণিত হলে কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে।
তিনি বলেন, জনমত জরিপের ফলাফলকে সামনে রেখে কয়েকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কি দ্বিতীয় দফায় গড়াবে? ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট, যিনি এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী, তিনি কি আরব দলগুলোর বাইরের সমর্থন নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন, যার মাধ্যমে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে?
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলো কি নেসেটের (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) স্পিকারকে পরিবর্তন করে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করবে? এসব আইনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন একটি আইন, যার মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিংবা বর্তমানে বিচারাধীন কোনো ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হওয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হবে।
নির্বাচনে হারলে ফলাফল মেনে নেবেন না নেতানিয়াহু
নিবন্ধের লেখক জোর দিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে তাঁর বক্তব্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল তাঁর অনুকূলে না গেলে তিনি তা মেনে নেবেন না; বরং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলবেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ালেও তা অর্থহীন হয়ে পড়বে। কারণ, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সমঝোতা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম নন।
এই ইসরায়েলি বিশ্লেষকের ভাষায়, এর ফলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া আর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে না। এমন পরিস্থিতিতে বলা যায়, ইসরায়েল গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে।
৬ জানুয়ারির মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা
রুগেল আলফার ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেছেন, ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবর নির্ধারিত নির্বাচনের পরের দিনটি ২৮ অক্টোবর হবে না; বরং তা হবে ‘৬ জানুয়ারি’।
এখানে তিনি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকেরা মার্কিন কংগ্রেস ভবনে হামলা চালিয়েছিল।
তাঁর আশঙ্কা, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্পের সমর্থকেরা যেভাবে কংগ্রেস ভবনে হামলা চালিয়েছিল, নেতানিয়াহু নির্বাচনে পরাজিত হলে ইসরায়েলেও একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কাও রয়েছে
ইসরায়েলি এই বিশ্লেষক আরও বলেছেন, আরেকটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলিদের আবারও আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতে বাধ্য হতে হবে।
তাঁর মতে, এর অর্থ হবে নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অভ্যন্তরীণ ঐকমত্যের অভাব এবং দ্রুত একটি নতুন ও ব্যাপক আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া।
তিনি উল্লেখ করেন, নেতানিয়াহু প্রকৃতপক্ষে একটি লোকদেখানো নির্বাচন আয়োজন করতে চান। কারণ, তিনি কেবল সেই ফলাফলই মেনে নেবেন, যা তাঁর ব্যক্তিগত স্বার্থের অনুকূলে যাবে। ফলে ইসরায়েলে একটি প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আশা করা উচিত নয়।
অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মুক্তি পেতে নতুন যুদ্ধের পথে নেতানিয়াহু?
নিবন্ধের শেষাংশে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা শুরু থেকেই এমন ছিল এবং এখন তা সবার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তিনি জয়ী হলে সেটি তাঁর জন্য ভালো; আর পরাজিত হলে তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলবেন। এভাবে তিনি ইসরায়েলি সমাজ ও মন্ত্রিসভাকে আরও দুর্বল করে তুলবেন।
লেখকের আশঙ্কা, অতীতের মতোই অভ্যন্তরীণ সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু আবারও একটি নতুন আঞ্চলিক যুদ্ধের আশ্রয় নিতে পারেন।
আপনার কমেন্ট