শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬ - ০৯:৩৯
হযরত জয়নাব কুবরা (সা.আ.)-এর জীবন ও ফজিলতের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

হযরত জয়নাব কুবরা (সা.আ.)’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি হাদিসের বর্ণনাকারী ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্ব ২:

হাদিসের বর্ণনাকারী

হযরত জয়নাব কুবরা (সা.আ.)’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি হাদিসের বর্ণনাকারী ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মরহুম তাবারসির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে:

إنّ زينب عليها السّلام روت أخبارا كثيرة عن امّها الزهراء عليها السّلام‏.

নিশ্চয়ই হযরত জয়নাব (সা.আ.) তাঁর মা হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর কাছ থেকে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(আল-হায়েরি, শাইখ মুহাম্মদ মাহদি, শাজারাতু তুবা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯২; প্রকাশক: মানশুরাতুল মাকতাবাতিল হায়দারিয়্যাহ ও মাতবুআতুহা, নাজাফ আশরাফ; পঞ্চম সংস্করণ, মুহাররম ১৩৮৫ হিজরি)

বিভিন্ন গ্রন্থের কিছু রেওয়ায়েত গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, দালায়িলুল ইমামাহ গ্রন্থে এমন একটি সনদ উল্লেখ করা হয়েছে, যার অন্যতম রেওয়ায়েতকারী হলেন হযরত জয়নাব কুবরা (সা.আ.)।

রেওয়ায়েতটিতে বলা হয়েছে:

حدثنا أبو الجارود ، قال : حدثنا أبو الحجاف، عن زينب ابنة علي، عن فاطمة بنت رسول الله ( عليهم السلام )، قالت : قال رسول الله (صلى الله عليه وآله) لعلي (عليه السلام) : أما إنك - يا بن أبي طالب - وشيعتك في الجنة.

আবু জারুদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু হাজ্জাফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি হযরত আলী (আ.)-এর কন্যা জয়নাবের সূত্রে, আর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কন্যা হযরত ফাতিমার (সা.আ.) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হযরত ফাতিমা (সা.আ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আলী (আ.)-কে বলেছিলেন: হে আবু তালিবের পুত্র! জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তুমি এবং তোমার শিয়ারা জান্নাতে থাকবে।

(আত-তাবারি, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির ইবনে রুস্তম (পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর লেখক), দালায়িলুল ইমামাহ, পৃষ্ঠা ৬৮; সম্পাদনা: ইসলামি গবেষণা বিভাগ, মুআসসাসাতুল বি'সাত; প্রকাশক: মারকাযুত তাবাআতি ওয়ান-নাশর, মুআসসাসাতুল বি'সাত, কোম; প্রথম সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি)

এ ছাড়া ইলালুশ শারায়ি গ্রন্থেও এ বিষয়ে একটি রেওয়ায়েত পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে:

عن أحمد بن محمد بن جابر عن زينب بنت على قالت : قالت فاطمة عليها السلام في خطبتها: لله فيكم عهد قدمه إليكم.

আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাবিরের সূত্রে হযরত আলী (আ.)-এর কন্যা জয়নাব (সা.আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, হযরত ফাতিমা (সা.আ.) তাঁর ভাষণে বলেছিলেন: তোমাদের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অঙ্গীকার রয়েছে, যা তিনি আগেই তোমাদের কাছে পেশ করেছেন।

(শাইখ সাদুক, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন (মৃত্যু: ৩৮১ হিজরি), ইলালুশ শারায়ি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪৮; সম্পাদনা ও ভূমিকা: সাইয়্যেদ মুহাম্মদ সাদিক বাহরুল উলুম; প্রকাশক: মানশুরাতুল মাকতাবাতিল হায়দারিয়্যাহ ও মাতবাআতুহা, নাজাফ)

ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টির মর্যাদা

হযরত জয়নাব (সা.আ.)’র ধৈর্য ও আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্টির মর্যাদা বোঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, কারবালার প্রান্তরে যখন তিনি তাঁর ভাইয়ের পবিত্র দেহের কাছে পৌঁছালেন, তখন তিনি সেই পবিত্র দেহটি দুহাতে তুলে ধরে মহান আল্লাহর দরবারে আরজ করলেন:

ثُمَّ بَسَطَتْ يَدَيْهَا تَحْتَ بَدَنِهِ الْمُقَدَّسِ وَرَفَعَتْهُ نَحْوَ السَّمَاءِ، وَقَالَتْ: إِلَهِي تَقَبَّلْ مِنَّا هَذَا الْقُرْبَانَ.

অতঃপর তিনি তাঁর ভাইয়ের পবিত্র দেহের নিচে দুহাত প্রসারিত করে তাঁকে আকাশের দিকে তুলে ধরলেন এবং বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এই কোরবানি কবুল করুন।

(আল-হাররানি, সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ নূরুল্লাহ, আওয়ালিমুল উলূম ওয়াল-মাআরিফ ওয়াল-আহওয়াল মিনাল আয়াতি ওয়াল-আখবার ওয়াল-আকওয়াল, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৯৫৩; গবেষণা ও সম্পাদনা: সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বাকির আল-মুওয়াহহিদ আল-আবতাহি আল-ইসফাহানি; প্রকাশক: মুআসসাসাতুল ইমাম আল-মাহদি (আ.), ১৪১৩ হিজরি)

অতুলনীয় ইবাদত

এই অতুলনীয় মহীয়সী নারীর ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মপদ্ধতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাঁর ইবাদতও তাঁর সম্মানিতা মা হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)’র মতোই ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং সর্বজনবিদিত।

হযরত জয়নাব (সা.আ.)’র রাত্রিকালীন নামাজ সম্পর্কে আল্লাহর চতুর্থ হুজ্জাত, হযরত ইমাম জয়নুল আবেদিন (আ.) বলেছেন:

مَا رَأَيْتُ عَمَّتِي تُصَلِّي اللَّيْلَ عَنْ جُلُوسٍ إِلَّا لَيْلَةَ الْحَادِيَ عَشَرَ.

আমি আমার ফুফুকে বসে রাত্রিকালীন নামাজ আদায় করতে দেখিনি, শুধু মহররমের এগারোতম রাত ছাড়া।

অর্থাৎ, হযরত জয়নাব সালামুল্লাহি আলাইহা কখনো তাঁর তাহাজ্জুদ ও নফল ইবাদত পরিত্যাগ করেননি। এমনকি সেই শোকাবহ রাতেও নয়, যে রাতে তিনি তাঁর সব প্রিয়জনকে হারিয়েছিলেন এবং সেদিন একের পর এক অসহনীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

(আল-বাহরানি, সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ নূরুল্লাহ, আওয়ালিমুল উলূম ওয়াল-মাআরিফ ওয়াল-আহওয়াল মিনাল আয়াতি ওয়াল-আখবার ওয়াল-আকওয়াল, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৯৫৩; গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ বাকির আল-মুওয়াহহিদ আল-আবতাহি আল-ইসফাহানি; প্রকাশক: মুআসসাসাতুল ইমাম আল-মাহদি (আ.), ১৪১৩ হিজরি)

এ ছাড়া আল্লাহর চতুর্থ হুজ্জাত হযরত ইমাম জয়নুল আবেদিন (আ.) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কারবালার বিপর্যয় ও দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও হযরত জয়নাব (সা.আ.) তাঁর রাতের নফল নামাজ পরিত্যাগ করেননি।

তিনি বলেছেন:

إِنَّ عَمَّتِي زَيْنَبَ مَعَ تِلْكَ الْمَصَائِبِ وَالْمِحَنِ النَّازِلَةِ بِهَا فِي طَرِيقِنَا إِلَى الشَّامِ مَا تَرَكَتْ نَوَافِلَهَا اللَّيْلِيَّةَ.

নিশ্চয়ই আমার ফুফু জয়নাব (সা.আ.), শামের পথে আমাদের ওপর নেমে আসা এত বিপর্যয় ও কঠিন পরীক্ষার মধ্যেও তাঁর রাতের নফল নামাজগুলো পরিত্যাগ করেননি।

(আল-বাহরানি, সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ নূরুল্লাহ, আওয়ালিমুল উলূম ওয়াল-মাআরিফ ওয়াল-আহওয়াল মিনাল আয়াতি ওয়াল-আখবার ওয়াল-আকওয়াল, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৯৫৩; গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ বাকির আল-মুওয়াহহিদ আল-আবতাহি আল-ইসফাহানি; প্রকাশক: মুআসসাসাতুল ইমাম আল-মাহদি (আ.), ১৪১৩ হিজরি)

মরহুম বাহরানি কয়েকজন ঐতিহাসিক ও গবেষকের উদ্ধৃতি দিয়ে হযরত ইমাম জয়নুল আবেদিন (সা.আ.)’র বক্তব্য এভাবেও উল্লেখ করেছেন:

إنّ عمّتي زينب كانت تؤدّي صلواتها من قيام، الفرائض و النوافل عند سير القوم بنا من الكوفة إلى الشام، و في بعض المنازل كانت تصلّي من جلوس.

আমার ফুফু হযরত জয়নাব (সা.আ.), আমাদের কাফেলাকে কুফা থেকে শামের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় ফরজ ও নফল-সব নামাজই দাঁড়িয়ে আদায় করতেন। তবে পথের কিছু বিরতিস্থলে তিনি বসে নামাজ আদায় করতেন।

তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন:

أصلّي من جلوس لشدّة الجوع و الضعف منذ ثلاث ليال، لأنّها كانت تقسّم ما يصيبها من الطعام على الأطفال، لأنّ القوم كانوا يدفعون لكلّ واحد منّا رغيفا واحدا من الخبز في اليوم و الليلة.

গত তিন রাত ধরে প্রচণ্ড ক্ষুধা ও দুর্বলতার কারণে আমি বসে নামাজ আদায় করছি। কারণ, আমার ভাগে যে খাবারটুকু আসে, তা আমি শিশুদের মধ্যে ভাগ করে দিই। কেননা, এই লোকেরা (ইয়াজিদের কর্মচারীরা) আমাদের প্রত্যেককে দিন-রাতে মাত্র একটি করে রুটির টুকরো দিত।

(বাহরানি, সাইয়্যেদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ নূরুল্লাহ, আওয়ালিমুল উলূম ওয়াল-মাআরিফ ওয়াল-আহওয়াল মিনাল আয়াতি ওয়াল-আখবার ওয়াল-আকওয়াল, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৯৫৩; গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ বাকির আল-মুওয়াহহিদ আল-আবতাহি আল-ইসফাহানি; প্রকাশক: মুআসসাসাতুল ইমাম আল-মাহদি (আ.), ১৪১৩ হিজরি)

এমনকি হযরত জয়নাব (সা.আ.)’র ইবাদতের মর্যাদা এতই উচ্চ ছিল যে, হযরত আবা আব্দিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.) তাঁর কাছে দোয়া প্রার্থনা করতেন।

হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর বোন হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর সঙ্গে শেষ বিদায়ের সময় তাঁকে বলেছিলেন:

إنّ الحسين عليه السّلام لمّا ودّع اخته زينب عليها السّلام وداعه الأخير قال لها: يا اختاه، لا تنسيني في نافلة الليل.

নিশ্চয়ই, হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) যখন তাঁর বোন হযরত জয়নাব (সা. আ.)-এর কাছ থেকে শেষবারের মতো বিদায় নিচ্ছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন, হে আমার বোন! তোমার রাতের নফল নামাজে আমাকে ভুলে যেয়ো না।

(বাহরানি, সাইয়্যেদ আবদুল্লাহ ইবনে সাইয়্যেদ নূরুল্লাহ, আওয়ালিমুল উলূম ওয়াল-মাআরিফ ওয়াল-আহওয়াল মিনাল আয়াতি ওয়াল-আখবার ওয়াল-আকওয়াল, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৯৫৩; গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ বাকির আল-মুওয়াহহিদ আল-আবতাহি আল-ইসফাহানি; প্রকাশক: মুআসসাসাতুল ইমাম আল-মাহদি (আ.), ১৪১৩ হিজরি)

প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ বিচক্ষণতা

আহলে সুন্নাতের গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করলে দেখা যায়, হযরত জয়নাব (সা.আ.)’র প্রখর বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও মহত্ত্বের কথা সুন্নি আলেম ও লেখকরাও স্বীকার করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ, ইবনে হাজার আসকালানি তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞা সম্পর্কে লিখেছেন:

زينب بنت على بن أبي طالب بن عبد المطلب الهاشمية سبطة رسول الله صلى الله عليه وسلم أمها فاطمة الزهراء قال بن الأثير إنها ولدت في حياة النبي صلى الله عليه وسلم وكانت عاقلة لبيبة جزلة زوجها أبوها بن أخيه عبد الله بن جعفر فولدت له أولادا وكانت مع أخيها لما قتل فحملت إلى دمشق وحضرت عند يزيد بن معاوية وكلامها ليزيد بن معاوية حين طلب الشامي أختها فاطمة مشهور يدل على عقل وقوة جنان.

জয়নাব বিনতে আলী ইবনে আবি তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমিয়্যাহ ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৌহিত্রী। তাঁর মা ছিলেন হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)। ইবনে আসির বলেছেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ নারী। তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর ভাইয়ের পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের সঙ্গে বিবাহ দেন। তাঁর গর্ভে কয়েকজন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর ভাই (ইমাম হুসাইন আ.) যখন শহীদ হন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এরপর তাঁকে দামেস্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার দরবারে উপস্থিত হন। যখন একজন সিরীয় ব্যক্তি ইয়াজিদের কাছে তাঁর বোন ফাতিমাকে চেয়েছিল, তখন ইয়াজিদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন সুপরিচিত। এই ঘটনা তাঁর প্রজ্ঞা ও অসাধারণ সাহসিকতার প্রমাণ বহন করে।

(ইবনে হাজার আসকালানি আশ-শাফেয়ি, আহমাদ ইবনে আলী আবুল ফাজল (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি), আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিস সাহাবাহ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৬৮৪; সম্পাদনা: আলী মুহাম্মদ আল-বিজাবি; প্রকাশক: দারুল জিল, বৈরুত; প্রথম সংস্করণ, ১৪১২ হিজরি/১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ)

এ ছাড়া ইবনে আসির-ও হযরত জয়নাব (সা.আ.)’র ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে লিখেছেন:

زَيْنبُ بنتُ عَليّ بن أبي طالب ... وكانت زينبُ امرأةً عاقلة لبيبة جَزْلَةً زوَّجَها أبوها علي رضي الله عنهما من عبد الله بن أخيه جعفر ... وكانت مع أخيها الحسين رضي الله عنه لما قتل، وحُمِلت إلى دمشق، وحَضَرت عند يزيد بن معاوية، وكلامهما ليزيد حين طلب الشامي أُختها فاطمة بنت علي من يزيد، مشهور مذكور في التواريخ، وهو يدل على عقل وقوة جَنَان.

জয়নাব বিনতে আলী ইবনে আবি তালিব... তিনি ছিলেন একজন বুদ্ধিমতী, প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ নারী। তাঁর পিতা আলী (আ.) তাঁকে তাঁর ভাই জাফরের পুত্র আব্দুল্লাহর সঙ্গে বিবাহ দেন।

ইমাম হুসাইন (আ.) যখন শহীদ হন, তখন জয়নাব তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এরপর তাঁকে দামেস্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার দরবারে উপস্থিত হন। যখন একজন সিরীয় ব্যক্তি ইয়াজিদের কাছে আলী (আ.)-এর কন্যা ফাতিমাকে চেয়েছিল, তখন জয়নাব ও ইয়াজিদের মধ্যে যে কথোপকথন হয়েছিল, তা ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে সুপরিচিত ও লিপিবদ্ধ রয়েছে। এই ঘটনা তাঁর প্রজ্ঞা এবং অসাধারণ সাহসিকতার প্রমাণ বহন করে।

(ইবনে আসির আল-জাজরি, ইজ্জুদ্দিন ইবনে আসির আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ (মৃত্যু: ৬৩০ হিজরি), আসাদুল গাবাহ ফি মাআরিফাতিস সাহাবাহ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৪৬; সম্পাদনা: আদিল আহমাদ আর-রিফায়ি; প্রকাশক: দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, লেবানন; প্রথম সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি/১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ)

সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ মানসিকতা

হযরত আমিরুল মুমিনিন আলী (সা.আ.)’র পরিবারের সাহসিকতা ও বীরত্ব সর্বজনবিদিত। বিভিন্ন যুদ্ধে তাঁর অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতা সর্বজনস্বীকৃত। খায়বারের যুদ্ধসহ বিভিন্ন যুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদান অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।

এই একই সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ মানসিকতা হযরত জয়নাব (সা.আ.)র পবিত্র সত্তার মধ্যেও বিদ্যমান ছিল। এ প্রসঙ্গে শাইখ সাদূক লিখেছেন:

ثُمَّ إِنَّ ابْنَ زِيَادٍ لَعَنَهُ اللَّهُ دَعَا بِعَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ ع وَ النِّسْوَةِ وَ أَحْضَرَ رَأْسَ الْحُسَيْنِ ع وَ كَانَتْ زَيْنَبُ ابْنَةُ عَلِيٍّ ع فِيهِمْ فَقَالَ ابْنُ زِيَادٍ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي فَضَحَكُمْ وَ قَتَلَكُمْ وَ أَكْذَبَ أَحَادِيثَكُمْ فَقَالَتْ زَيْنَبُ ع الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَكْرَمَنَا بِمُحَمَّدٍ وَ طَهَّرَنَا تَطْهِيراً إِنَّمَا يَفْضَحُ اللَّهُ الْفَاسِقَ وَ يُكَذِّبُ الْفَاجِرَ قَالَ كَيْفَ رَأَيْتِ صُنْعَ اللَّهِ بِكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ قَالَتْ كَتَبَ إِلَيْهِمُ الْقَتْلَ فَبَرَزُوا إِلَى مَضَاجِعِهِمْ وَ سَيَجْمَعُ اللَّهُ بَيْنَكَ وَ بَيْنَهُمْ فَتَتَحَاكَمُونَ عِنْدَهُ فَغَضِبَ ابْنُ زِيَادٍ لَعَنَهُ اللَّهُ عَلَيْهَا.

এরপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক ইবনে জিয়াদের ওপর! সে হযরত আলী ইবনে হুসাইন (আ.) ও নারীদের ডেকে পাঠাল এবং হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর পবিত্র মস্তক সেখানে উপস্থিত করা হলো। তাঁদের মধ্যে হযরত আলী (আ.)-এর কন্যা হযরত জয়নাব (সা.আ.)-ও ছিলেন।

ইবনে জিয়াদ বলল, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তোমাদের লাঞ্ছিত করেছেন, তোমাদের হত্যা করেছেন এবং তোমাদের বক্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণিত করেছেন।

হযরত জয়নাব (সা.আ.) বললেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন এবং যথাযথভাবে পবিত্র করেছেন। আল্লাহ কেবল পাপাচারীকেই অপদস্থ করেন এবং অসত্যবাদীকেই মিথ্যা প্রমাণিত করেন।

ইবনে জিয়াদ বলল, আহলে বাইতের প্রতি আল্লাহর আচরণ তুমি কেমন দেখলে?

তিনি উত্তর দিলেন, তাঁদের ভাগ্যে শাহাদাত নির্ধারিত ছিল, তাই তাঁরা তাঁদের শাহাদাতের স্থানে উপস্থিত হয়েছেন। অচিরেই আল্লাহ তোমাকে তাঁদের সঙ্গে একত্র করবেন। তখন তোমরা তাঁর দরবারে বিচারপ্রার্থী হবে। এ কথা শুনে ইবনে জিয়াদ তাঁর ওপর ক্রুদ্ধ হলো।

এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, হযরত জয়নাব (সা.আ.) শত্রুর ক্ষমতা ও ভয়ভীতির সামনে মাথা নত করেননি; বরং দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরেছিলেন।

(শাইখ সাদূক, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন (মৃত্যু: ৩৮১ হিজরি), আল-আমালি, পৃষ্ঠা ১৬৫ ও ১৬৭; সম্পাদনা ও প্রকাশনা: ইসলামি গবেষণা বিভাগ, মুআসসাসাতুল বি'সাত, কোম; প্রথম সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি)

ইয়াজিদের দরবারে হযরত জয়নাব (সা.আ.)-এর নির্ভীক প্রতিবাদ

শাইখ সাদূক একই গ্রন্থে আরও একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন। হযরত ফাতিমা বিনতে আলী (সা.আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে:

عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ عَلِيٍّ ع أَنَّهَا قَالَتْ لَمَّا أُجْلِسْنَا بَيْنَ يَدَيْ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ رَقَّ لَنَا أَوَّلَ شَيْءٍ وَ أَلْطَفَنَا ثُمَّ إِنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الشَّامِ أَحْمَرَ قَامَ إِلَيْهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ هَبْ لِي هَذِهِ الْجَارِيَةَ تُعِينُنِي وَ كُنْتُ جَارِيَةً وَضِيئَةً فَأُرْعِبْتُ وَ فَرِقْتُ [فَزِعْتُ] وَ ظَنَنْتُ أَنَّهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ فَأَخَذْتُ بِثِيَابِ أُخْتِي وَ هِيَ أَكْبَرُ مِنِّي وَ أَعْقَلُ فَقَالَتْ كَذَبْتَ وَ اللَّهِ وَ لُعِنْتَ مَا ذَاكَ لَكَ وَ لَا لَهُ فَغَضِبَ يَزِيدُ فَقَالَ بَلْ كَذَبْتِ وَ اللَّهِ لَوْ شِئْتُ لَفَعَلْتُهُ قَالَتْ لَا وَ اللَّهِ مَا جَعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ لَكَ إِلَّا أَنْ تَخْرُجَ مِنْ مِلَّتِنَا وَ تَدِينَ بِغَيْرِ دِينِنَا فَغَضِبَ يَزِيدُ ثُمَّ قَالَ إِيَّايَ تَسْتَقْبِلِينَ بِهَذَا إِنَّمَا خَرَجَ مِنَ الدِّينِ أَبُوكِ وَ أَخُوكِ فَقَالَتْ بِدِينِ اللَّهِ وَ دِينِ أَبِي وَ أَخِي وَ جَدِّي اهْتَدَيْتَ أَنْتَ وَ جَدُّكَ وَ أَبُوكَ.

হযরত ফাতিমা বিনতে আলী (সা.আ.) বলেন: যখন আমাদের ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার সামনে বসানো হলো, তখন প্রথমে সে আমাদের প্রতি কিছুটা সদয় হলো এবং কোমল আচরণ করল। এরপর শামের এক লালচেহারার ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলল, হে আমিরুল মুমিনিন! এই তরুণীকে আমাকে দিয়ে দিন, সে আমার সেবায় থাকবে।

আমি ছিলাম একজন সুন্দরী তরুণী। এ কথা শুনে আমি ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়লাম। আমার মনে হলো, সে সত্যিই এমন কিছু করে বসতে পারে। তাই আমি আমার বড় বোনের কাপড় আঁকড়ে ধরলাম। তিনি আমার চেয়ে বয়সে বড় এবং অধিক বিচক্ষণ ছিলেন।

আমার বোন সেই শামী ব্যক্তিকে বললেন, আল্লাহর কসম, তুমি মিথ্যা বলেছ এবং অভিশাপের যোগ্য হয়েছ! এ অধিকার তোমারও নেই, আর তারও নেই।

এ কথা শুনে ইয়াজিদ ক্রুদ্ধ হয়ে বলল, বরং আল্লাহর কসম, তুমিই মিথ্যা বলেছ! আমি চাইলে তা করতে পারি।

আমার বোন বললেন, না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তোমাকে এ অধিকার দেননি। তুমি যদি আমাদের ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ না করো, তবে তোমার জন্য তা বৈধ নয়।

এ কথা শুনে ইয়াজিদ আরও ক্রুদ্ধ হলো। সে বলল, তুমি আমার সামনে এমন কথা বলছ? তোমার পিতা ও ভাই-ই তো ধর্ম থেকে বেরিয়ে গেছে!

আমার বোন জবাব দিলেন, আল্লাহর ধর্ম, আমার পিতা, আমার ভাই ও আমার পিতামহের ধর্মের মাধ্যমেই তুমি, তোমার পিতা ও তোমার পিতামহ হিদায়াত লাভ করতে পারতে।

(শাইখ সাদূক, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন (মৃত্যু: ৩৮১ হিজরি), আল-আমালি, পৃষ্ঠা ১৬৫ ও ১৬৭; সম্পাদনা ও প্রকাশনা: ইসলামি গবেষণা বিভাগ, মুআসসাসাতুল বি'সাহ, কোম; প্রথম সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি)

হযরত জয়নাব (সা.আ.)’র এই দৃঢ় অবস্থান ও নির্ভীক বক্তব্য তাঁর অসাধারণ সাহসিকতা, প্রজ্ঞা এবং সত্যের প্রতি অবিচলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি অন্যায়ের সামনে নতিস্বীকার করেননি; বরং অত্যাচারী শাসকের দরবারেই সাহসের সঙ্গে সত্য প্রকাশ করেছেন।

আশ্রয়স্থল ও বিপদাপদে নির্ভরতার কেন্দ্র

হযরত জয়নাব (সা.আ.)’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি ছিলেন মানুষের আশ্রয়স্থল ও নির্ভরতার কেন্দ্র। এমনকি আহলে সুন্নাতের আলেমরাও তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং তাঁকে নিজেদের বিপদাপদ থেকে মুক্তির আশ্রয় হিসেবে গণ্য করতেন। এ প্রসঙ্গে আহলে সুন্নাতের আলেম শাবলানজি, শাইখ আব্দুর রহমান আজহুরির উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন:

قال الشيخ عبد الرحمن الآجهوري المقري في كتابه مشارق الأنوار: قد حصل لي في سنة سبعين ومائة بعد الألف كرب شديد من كروب الزمان فتوجهت الى مقام السيدة زينب المذكورة وانشدتها هذه القصيدة فانجلي عني الكرب ببركتها وهي: آل طه لكم علينا الولاء ... الخ.

শাইখ আব্দুর রহমান আল-আজহুরি আল-মুকরি তাঁর মাশারিকুল আনওয়ার গ্রন্থে লিখেছেন: ১১৭০ হিজরি সালে আমি সময়ের নানা বিপদাপদের মধ্যে এক কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম। তখন আমি উল্লিখিত সাইয়্যিদা জয়নাবের মাজারে গমন করি এবং তাঁর উদ্দেশে এই কবিতাটি আবৃত্তি করি। তাঁর বরকতে আমার সেই বিপদ দূর হয়ে যায়। কবিতাটি হলো:

‘হে আলে ত্বহা! তোমাদের প্রতি আমাদের রয়েছে ভালোবাসা ও আনুগত্য...’-ইত্যাদি।”

(শাবলানজি, নূরুল আবসার, পৃষ্ঠা ১১৫; প্রকাশক: মাতবাআতু মুস্তাফা মুহাম্মদ, মিসর; প্রকাশকাল উল্লেখ নেই)

হযরত আবা আব্দিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর মর্মান্তিক বিপর্যয়ের বর্ণনাকারী

কারবালার হৃদয়বিদারক বিপর্যয় ও দুঃখ-কষ্টের বিবরণ ভাষায় সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। একদিকে ছয় মাসের শিশু থেকে শুরু করে বনি হাশিমের উজ্জ্বল চাঁদ হযরত আব্বাস (আ.) এবং আল্লাহর হুজ্জাত হযরত আবা আব্দিল্লাহ আল-হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাত; অন্যদিকে পানির সংকট, আহলে বাইতের সদস্যদের ওপর নির্যাতন ও অসহনীয় দুর্ভোগ-এসবই ছিল এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির অংশ। ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে যা লিপিবদ্ধ হয়েছে, তা আহলে বাইতের ওপর নেমে আসা বিপর্যয় এবং ইয়াজিদি বাহিনীর অত্যাচার ও অপরাধের সামান্য অংশমাত্র।

পুরুষদের হত্যা এবং নারীদের বন্দি করে নিয়ে যাওয়া ছিল সেই সময়ের নিকৃষ্টতম কর্মকাণ্ডগুলোর অন্যতম। কারবালায় হযরত জয়নাব কুবরা (সা.আ.) তাঁর ভাই হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর রক্তাক্ত দেহের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় যে হৃদয়বিদারক শোক প্রকাশ করেছিলেন, তা কুররা ইবনে কায়েস এভাবে বর্ণনা করেছেন:

قَالَ قُرَّةُ بْنُ قَيْسٍ فَلَمْ أَنْسَ قَوْلَ زَيْنَبَ ابْنَةِ عَلِيٍّ ع حِينَ مَرَّتْ بِأَخِيهَا صَرِيعاً وَهِيَ تَقُولُ يَا مُحَمَّدَاهْ صَلَّى عَلَيْكَ مَلِيكُ السَّمَاءِ هَذَا حُسَيْنٌ بِالْعَرَاءِ مُرَمَّلٌ بِالدِّمَاءِ مُقَطَّعُ الْأَعْضَاءِ يَا مُحَمَّدَاهْ وَبَنَاتُكَ سَبَايَا وَذُرِّيَّتُكَ قَتْلَى تَسْفِي عَلَيْهِمُ الصَّبَا. فَأَبْكَتْ كُلَّ صَدِيقٍ وَعَدُوٍّ.

কুররা ইবনে কায়েস বলেন: আমি কখনো ভুলতে পারব না আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)-এর কন্যা হযরত জয়নাবের সেই হৃদয়বিদারক কথাগুলো, যা তিনি তাঁর ভাই হুসাইন (আ.)-এর নিথর দেহের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন।

হে মুহাম্মদ! হে আল্লাহর রাসুল! আকাশের অধিপতি আপনার প্রতি রহমত বর্ষণ করুন!

হে আমার মহান নানা! এই যে আপনার হুসাইন-উন্মুক্ত প্রান্তরে পড়ে আছেন, রক্তে সিক্ত, তাঁর দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন!

হে মুহাম্মদ! আপনার কন্যারা আজ বন্দি! আপনার বংশধররা নিহত! আর মৃদুমন্দ বাতাস তাঁদের এই পবিত্র দেহগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে! তাঁর এই হৃদয়বিদারক শোকগাথা শুনে বন্ধু ও শত্রু-সকলেই কেঁদে উঠেছিল।

(ইবনে নুমা আল-হিল্লি, জাফর ইবনে মুহাম্মদ, মুসিরুল আহযান, পৃষ্ঠা ৮৪; প্রকাশক: মাদরাসাতুল ইমাম আল-মাহদি (আ.), তৃতীয় সংস্করণ, ১৪০৬ হিজরি)

অনুরূপ রেওয়ায়েত আহলে সুন্নাতের কয়েকটি গ্রন্থেও পাওয়া যায়।

(আরও দেখুন: আল-বালাযুরি, আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে জাবির (মৃত্যু: ২৭৯ হিজরি), আনসাবুল আশরাফ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪২৪; আল-জামিউল কাবিরের মুদ্রিত সংস্করণ অনুসারে)

শাহাদাত

পরিশেষে, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের সর্বাধিক প্রিয়জনদের হারানোর বেদনা, বছরের পর বছর দুঃখ-কষ্ট সহ্য করা, ইমামতের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং উমাইয়া শাসকগোষ্ঠী ও ইয়াজিদি বাহিনীর অন্যায়-অত্যাচার উন্মোচনের পর সেই মজলুম মহীয়সী নারী হযরত জয়নাব (সা.আ.) ৬৩ হিজরির ১৫ রজব ইন্তেকাল করেন এবং শাহাদাতবরণ করেন বলে এই লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুবাদ: মজিদুল ইসলাম শাহ

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha