হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্ব ৪
মহানবীর (সা.) সুন্নাহ ও হাদীস চর্চা, সংকলন ও সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার অতি ভয়ঙ্কর ও করুণ পরিণতি রাসূলুল্লাহর (সা.) সকল সুন্নাহর বিকৃতি (তাহরীফ تحریف) ও পরিবর্তন সাধন (তাঘয়ীর تغییر): বনী উমাইয়া খিলাফত প্রশাসন যা হচ্ছে আসলেই শাজারাতুন খাবীসাহ্ ( شجرة خبيثة) বা খবীস অপবিত্র বিষবৃক্ষ তুল্য তা শুধু বানোয়াট মিথ্যা হাদীস জা'ল ও তৈরি করেই ক্ষান্ত হয়নি বরং মহানবীর প্রতিটি পবিত্র সুন্নাহয় এতটা বিকৃতি ও পরিবর্তন সাধন করেছিল যে নামাযও তা থেকে রেহাই পায় নি।
এ ব্যাপারে নিম্নোক্ত রেওয়াতটি প্রণিধানযোগ্য: ৪৮৭---আমাদেরকে রবী' বলেছেন: আমাদেরকে আশ-শাফি'ঈ বলেছেন: আমাদেরকে ইব্রাহীম, ওয়াহাব ইবনে কাইসান থেকে বলেছেন।
তিনি (ওয়াহাব ইবনে কাইসান) বলেছেন: আমি ইবনুয যুবাইরকে খুতবার আগে (ঈদের) নামায শুরু করতে দেখেছি, তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহর (সা.) সকল সুন্নাহর পরিবর্তন (বিকৃতি সাধন) করা হয়েছে এমনকি নামাযেরও।
كُلُّ سُنَنِِ رَسُوْلِ اللّٰهِ (ص) قَدْ غُيِّرَتْ حتَّى الصَّلَوٰةُ
এ রেওয়ায়েতটি বায়হাক্বী মা'রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার গ্রন্থে পূর্ণ সনদ সহ উল্লেখ করেছেন।
দ্রঃ কিতাবুল উম্ম, কিতাবু সালাতিল ঈদাইন, খ:৩, পৃ:৪৬,খুতবার আগে নামায শুরু করা সংক্রান্ত উপাধ্যায়, হাদীস নং ১৯১৩,পৃ:৫৯,খ:২
নামায ধর্মের স্তম্ভ (الصلوة عماد الدين)। শরিয়তে নামাযের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত হয়েছে: নিশ্চয়ই নামায অশ্লীলতা (চরিত্র হনন কারী অশ্লীল কাজকর্ম তথা লাম্পট্য, ব্যভিচার, যিনা, চরিত্রহীনতা, কুকর্ম অর্থাৎ ফাহশা فحشا) ও মন্দ গর্হিত কাজ (মুনকার منکر) থেকে (মুসল্লীদেরকে) বিরত রাখে (সূরা-ই আনকাবূত:৪৫)
إن الصلوة تنهى عن الفحشاء و المنكر
নামায সকল আমল কবূল হওয়ার মূল চাবিকাঠি। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
قالَ الصّادِقُ عليه السلام: اَوَّلُ مايُحاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ الصَّلاةُ، فَاِنْ قُبِلَتْ قُبِلَ سائِرُ عَمَلِهِ، وَاِذا رُدَّتْ رُدَّ عَلَيْهِ سائِرُ عَمَلِهِ. [ وسائل الشيعه، ج 3، ص 22 .]
ইমাম সাদিক্ব (আ) বলেন: (কিয়ামত দিবসে) বান্দাকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ে হিসাব দিতে হবে তা হলো (তার) নামায। যদি তা কবুল ও গৃহীত হয় তাহলে তার সকল আমল কবুল ও গৃহীত হবে।আর যদি তা (নামায) প্রত্যাখ্যাত (রদ/মারদূদ) হয় তাহলে তার অন্য সকল আমল প্রত্যাখ্যাত হবে। (দ্রঃ ওয়াসাইলুশ শীয়া,খ:৩,পৃ:২২, হাদীস নং ৪৪৪০)
নামায এবং দ্বীন ও শরিয়তের বিধিবিধান সমূহে বনী উমাইয়ার অযাচিত হস্তক্ষেপের আরো কিছু নমুনা:
ঈদের নামাযের খুতবা ঈদের নামাযের আগে প্রদান:
ইসলামী শরিয়তের বিধান হচ্ছে আযান ও ইকামাত ছাড়াই ঈদের নামায পড়া শেষ করার পর খুতবা প্রদান।
আর এ বিধানই রাসূলুল্লাহ (সা.) ও প্রথম চার খলীফার আমলে প্রচলিত ছিল। কিন্তু মুয়াবিয়া খিলাফত দখল করার পর ঈদের নামাযে আযান এবং ঈদের নামাযের আগে খুতবার প্রদানের ঘৃণ্য বিদ'আতের প্রবর্তন করে যা ছিল ইসলামী শরীয়ত ও নামাযে অযাচিত হস্তক্ষেপ ও পরিবর্তন সাধন।
আর যুহরী বলেছেন: "ঈদে নামাযের আগে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি খুতবার প্রবর্তন ও প্রচলন করে সে ছিল মুয়াবিয়া।" আর এ বর্ণনাটা আব্দুর রাযযাক স্বীয় গ্রন্থ আল-মুসান্নাফে পূর্ণ সনদসহ উল্লেখ করেছেন। আর সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব বলেছেন: "ঈদের নামাযের আগে সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি আযানের প্রবর্তন ও প্রচলন করে সে ছিল মুয়াবিয়া।"
আর এ বর্ণনাটি ইবনু আবী শাইবাহ্ পূর্ণ সনদ সহ (স্বীয় গ্রন্থে) উল্লেখ করেছেন এবং তিনি (সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব) বলেছেন: "সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি (নামাযের) তাকবীরের সংখ্যা কমায় ও হ্রাস করে সে ছিল মুয়াবিয়া। আর এ বর্ণনাটি ইবনু আবী শাইবাহ ইখরাজ (স্বীয় গ্রন্থে পূর্ণ সনদ সহ উল্লেখ) করেছেন।
(দ্রঃ তারীখুল খুলাফা,পৃ:২০০)
জুমার নামায শুক্রবারের স্থলে বুধবারে পড়া এবং হযরত আলীকে লানত দেওয়ার জঘন্য ঘৃণ্য বিদ'আতী প্রথার প্রবর্তন ও প্রসার: তার (মুয়াবিয়া) প্রতি তাদের (শাম ও দামেশক বাসীদের) আনুগত্য (ইতা'আত) সংক্রান্ত বিবরণ ও খবর এসে পৌঁছেছে যে সিফফীনের রণাঙ্গণের দিকে তাদের (শাম ও দামেশক বাসীদের) যাত্রা করার সময় সে (মুয়াবিয়া) তাদেরকে নিয়ে বুধবার জুমার নামায পড়েছিল এবং তারা (শাম বাসীরা) তার (মুয়াবিয়া) জন্য যুদ্ধে নিজেদের মস্তক পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিল, তাকে (মুয়াবিয়া) তারা নিজেদের মাথায় তুলে বহন করে (যুদ্ধের ময়দানে) নিয়ে গিয়েছিল এবং তারা (শাম বাসীরা) আমর ইবনে আসের (ফালতু ও অসার) এ কথা ও এ অপযুক্তিও বিশ্বাস করে নিয়েছিল যে "আলীই আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে হত্যা করেছেন।
কারণ তিনি (আলী) তার নিজের সাহায্যার্থে (অর্থাৎ নিজ স্বার্থে) তাঁকে (আম্মার) রণাঙ্গণের দিকে বের (প্রেরণ) করেছিলেন।" এরপর তার (মুয়াবিয়া) প্রতি তাদের (শামবাসীদের অন্ধ) আনুগত্য এতটাই তুঙ্গে ও চরমে পৌঁছেছিল যে তারা আলীকে লা'নত দেওয়া (নিজেদের ) প্রথা ও সুন্নতে (ঐতিহ্য)
পরিণত করেছিল যার ওপর তাদের শিশুরা বড় হত ও গড়ে উঠত (যুবক হত যৌবনে পদার্পণ করত) এবং তাদের বয়স্ক ও বৃদ্ধরা মৃত্যু বরণ করত। (দ্রঃ মুরূজুয যাহাব,খ:৩,পৃ:৪১)
জারজ অবৈধ যিনা-ব্যভিচারের ফসল বা সন্তান (হারামযাদা) যিয়াদ ইবনে আবীহিকে আবূ সুফিয়ানের বৈধ স্বীকৃত পুত্র বলে ঘোষণা: মুয়াবিয়া ৪৩ হিজরী সালে (হারামযাদা জারজ) যিয়াদ ইবনে আবীহিকে আবূ সুফিয়ানের উত্তরাধিকারী অর্থাৎ (শরয়ী বৈধ) সন্তান বলে ঘোষণা দেয় যা ছিল এমন এক বিষয় ও ঘটনা যে ক্ষেত্রে যিনা ব্যভিচারের ফসল জারজ সন্তানকে তার যিনাকারী (ব্যভিচারী) পিতামাতার বৈধ সন্তান ও উত্তরাধিকারী বলে গণ্য করা ও স্বীকৃতি দেওয়া হারাম হওয়া সংক্রান্ত মহানবীর (সা.) বিধানের পরিবর্তন ঘটানো হয়; আর সা'আলিবী এবং অন্যরাও এ ঘটনাটা উল্লেখ করেছেন (দ্রঃ তারীখুল খুলাফা,পৃ:১৯৬)।
আল্লামা মাস'ঊদীর ইতিহাস গ্রন্থে এতদ প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারসংক্ষেপ: মুয়াবিয়া কতিপয় ব্যক্তি এবং ঘটনাবলী ও বিষয়াদির শুরু ও উৎপত্তি সংক্রান্ত সবচেয়ে জ্ঞাত ও বিশেষজ্ঞ আবূ মারয়াম সালূলীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যিয়াদ ইবনে আবীহিকে (নিজ পিতার পুত্র যিয়াদ অর্থাৎ পিতৃ পরিচয়হীন জারজ যিয়াদ) আবূ সুফিয়ানের বৈধ পুত্র সন্তান বলে ঘোষণা করে।আবূ মারয়াম সালূলী সাক্ষ্য দিয়েছিল যে সে জাহিলিয়াতের যুগে আবূ সুফিয়ান ও যিয়াদের মা সুমাইয়াকে যিনা ও ব্যভিচার করার ব্যাপারে একত্রিত করেছিল (অর্থাৎ তাদের যিনা ও ব্যভিচারের ব্যবস্থা করেছিল)।
সুমাইয়া ঐ সময় তায়েফে পতাকা ধারিনী (গণিকা, বেশ্যা ও পতিতা) ছিল এবং হারিস ইবনে কালাদাকে বেশ্যাবৃত্তি থেকে লব্ধ আয়ের কর প্রদান করত। সে তায়েফের যে মহল্লা বা স্থানে বেশ্যা ও পতিতারা থাকত সেখানে বসবাস করত এবং ঐ স্থানটি ছিল শহরের আবাসিক এলাকার বাইরে যা হাররাতুল বাঘায়া (حارة البغایا) নামেও খ্যাত ছিল। (স্বীকৃতি প্রদানের জন্য আয়োজিত) এক অনুষ্ঠানে আবূ মারয়াম সালূলীর প্রকাশ্য শাহাদতের (সাক্ষ্য) ভিত্তিতে মুয়াবিয়া যিয়াদ ইবনে আবীহিকে আবূ সুফিয়ানের বৈধ সন্তান বলে ঘোষণা করেছিল।
তখন উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুমাইয়ার দাসী সাফীয়ার ভাই ইউনুস ইবনে উবাইদ ইবনে আসাদ ইবনে আল্লাজ আস-সাকাফী উঠে প্রতিবাদ করে বলেছিল,"হে মুয়াবিয়াহ্! রাসূলুল্লাহ ফয়সালা ও রায় দিয়েছেন যে
স্বামী-স্ত্রীর ফরাশ বা বিছানায় অর্থাৎ শরিয়ত সিদ্ধ বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই সন্তান বৈধ এবং যিনাকারী ও ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (অর্থাৎ ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিনীর সন্তানের বৈধতা নেই) [ الولد للفراش وللعاهر الحجر] এবং আপনি আবূ সুফিয়ানের যিনা ও ব্যভিচার সংক্রান্ত আবূ মারয়াম সালূলীর সাক্ষ্যের (শাহাদত) ভিত্তিতে ফয়সালা করলেন যে,যানী ও ব্যভিচারীর জন্য সন্তান বৈধ এবং স্বামী-স্ত্রীর শরয়ী বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে জন্ম নেওয়া সন্তান বৈধ নয়!!! আর আপনার এ ফয়সালা, রা'য় ও সিদ্ধান্ত মহান আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাহর পরিপন্থী।
তখন মুয়াবিয়া প্রতিবাদকারীকে শাসিয়ে বলেছিল,"হয় তুমি এ ধরনের কথা বলা থেকে অবশ্যই নিবৃত হবে ও বিরত থাকবে নতুবা আমি তোমার দফা রফা করে দেব .......।(দ্রঃ মুরূরুয যাহাব, খ:৩,পৃ:১৪-১৬)।
ক্বায়েদাতুল ফিরাশ (قاعدة الفراش স্বামী স্ত্রীর ফিরাশ বা বিছানার ক্বায়েদা বা নিয়ম ও সূত্র) হচ্ছে অত্যন্ত মশহুর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিক্বহী ক্বায়েদা যা যিনা-ব্যভিচারের সম্ভাবনা অথবা স্ত্রীর গর্ভাশয়ে প্রাক্তন স্বামীর বীর্য থেকে যাওয়ার সম্ভাবনার ভিত্তিতে ভূমিষ্ঠ সন্তানের বংশ ও পিতৃপরিচয় নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তা নিরসন এবং উক্ত সন্তানকে জন্মদাত্রী ঐ মহিলার স্বামী যার ফিরাশ বা বিছানায় বা বিবাহবন্ধনে ঐ সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হয়েছে তার সাথে সম্পর্কিত করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।
সুতরাং স্বামী-স্ত্রীর ফিরাশ বা বিছানা যে ভূমিষ্ঠ সন্তানের বৈধ (হালালযাদা) হওয়া এবং তার পিতৃ ও বংশ পরিচয়ের আমারাহ্ (চিহ্ন ও নিদর্শন) সেটার ভিত্তিতে ভূমিষ্ঠ সন্তানের নসব (পিতৃ ও বংশ পরিচয়) সংক্রান্ত সন্দেহ (শক্ক্ ও শুবহা) হলে সেই সন্তানের পিতৃ ও বংশ পরিচয় (নসব) প্রতিষ্ঠিত (সাবিত ثابت) হয় এই কায়েদা ও সূত্রের ভিত্তিতে।এই ফিক্বহী ক্বায়েদা ও সূত্রের দলীল হচ্ছে শিয়া-সুন্নী নির্বিশেষে সকল মুসলমানের মধ্যে বিদ্যমান মশহুর (প্রসিদ্ধ) বরং মুতাওয়াতির (অকাট্যভাবে বর্ণিত ও প্রতিষ্ঠিত)
হাদীস: আল-ওয়ালাদু লিল-ফিরাশি ওয়া লিল্'আহিরিল্ হাজার্ ( الولد للفراش و للعاهر الحجر) অর্থাৎ নারীর ভূমিষ্ট সন্তান (স্বামী অথবা মনিবের) বিছানার (অর্থাৎ শরিয়ত সিদ্ধ বৈধ বৈবাহিক অথবা প্রভু (মালিক)-দাসীর সম্পর্কের ফল) এবং ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (বঞ্চনা, নিষিদ্ধতা ও বাধা)।
(দ্রঃ ওসায়িলুশ শী'আ, খ:১৭, পৃ:৫৬৬,
মুলা'আনা ও এতদসদৃশের মীরাসের অধ্যায় সমূহ, অধ্যায় ৮, হাদীস নং ৪;সহীহ মুসলিম, কিতাবুর রিদ্বা', আল-ওয়ালাদু লিল-ফারাশ ওয়া তাওয়াক্কিশ শুবুহাত্ অধ্যায়-১০, হাদীস নং
৩৬৩০-৩৬৩২পৃ:৫৩২-৫৩৩؛ সুনানুন নাসায়ী, কিতাবুত তালাক, বাচ্চা (শিশু) অর্থাৎ সন্তানকে ফিরাশ বা বিছানার (অর্থাৎ স্বামী বা প্রভুর) সাথে সম্পৃক্ত করা যদি ফিরাশের (বিছানা) মালিক (স্বামী বা প্রভু [অর্থাৎ দাসীর মালিক বা মওলা]) তাকে নিজের সন্তান বলে স্বীকার না করে----সংক্রান্ত অধ্যায়(৪৮),পৃ:৫৯১-৫৯২, হাদীস নং ৩৪৮২,৩৪৮৩,৩৪৮৪,৩৪৮৫,৩৪৮৬,৩৪৮৭;সুনানু ইবনে মাজাহ, কিতাবুন নিকাহ্,পৃ:৩৩৫, হাদীস নং ২০০৪,২০০৫,২০০৬,২০০৭;
সহীহুল বুখারী, কিতাবুল মুহিরিবীন মিন আহলিল কুফরি ওয়ার রিদ্দাহ্,লিল্ আহিরিল হাজার (ব্যভিচারীর জন্য পাথর) সংক্রান্ত অধ্যায়,পৃ:১৭০৯, হাদীস নং ৬৮১৭ ও ৬৮১৮;
সুনানু আবী দাঊদ, কিতাবুত তালাক, আল-ওয়ালাদু লিল-ফিরাশ (সন্তান ফিরাশ বা বিছানার) সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদীস নং ২২৭৩,২২৭৪,পৃ:৪২৪-৪২৫
আর এই ক্বায়েদা ও সূত্র সংক্রান্ত বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: আল-ক্বাওয়ায়িদ: মিআতু ক্বয়েদা ফিক্বহীয়াহ্, পৃ:১৮৯-১৯০।
নি: সন্দেহে মুয়াবিয়া কর্তৃক জারজ হারামযাদা অবৈধ সন্তান যিয়াদ ইবনে আবীহিকে ব্যভিচারী যানী আবূ সুফিয়ানের শরয়ী বৈধ সন্তান বলে স্বীকৃতি দান সম্পূর্ণ ঘৃণ্য, হারাম (নিষিদ্ধ) ও অবৈধ কাজ যা মুসলিম সমাজে বিশেষ করে শাসক শ্রেণীর মধ্যে যিনা ও ব্যভিচারের প্রসার এবং নিজেদের খেয়াল-খুশি ও মর্জি মাফিক শরিয়তের বিধিবিধান পরিবর্তনের চাবিকাঠি ও সুযোগ প্রদান করেছে এবং পরবর্তী খলীফাগণ ও শাসক বর্গকে শরিয়তের আইন-কানুন লঙ্ঘন এবং তাতে অযাচিত অবৈধ হস্তক্ষেপ করার সাহস ও ইন্ধন জুগিয়ে যাচ্ছে।
এমন কাজ যে খলীফা ও শাসক করবে তার খলীফা থাকা ও শাসন করার যোগ্যতাই থাকবে না।আজ মুসলিম সমাজ ও দেশসমূহে শরিয়ত বিরোধী যে সব কর্মকাণ্ড ও কার্যকলাপের প্রচলন করা হয়েছে বা হচ্ছে সেগুলোর মূলে রয়েছে কুলাঙ্গার মুয়াবিয়া, তৎপরবর্তী উমাইয়া বংশীয় খলীফা এবং আব্বাসীয় খলীফাদের শরিয়ত বিরোধী কুকীর্তি ও অপকর্ম সমূহ।
আর এ থেকে প্রমাণিত হয় যে মুসলিম উম্মাহ কর্তৃক মহানবীর (সা) পবিত্র আহলুল বাইতকে (আ) বাদ দিয়ে অন্যদেরকে খিলাফতের আসনে অধিষ্ঠিত করে মহানবীর সকল সুন্নাহ এমনকি নামাযের পরিবর্তন ও বিকৃতি সাধন করার দরূন এই উম্মাহ হালাক (ধ্বংস) হওয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে।আর ইতমধ্যে এতদসংক্রান্ত হাদীসও সহীহ আল- বুখারী থেকে পেশ (উদ্ধৃত) করা হয়েছে।
চলবে...
ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান
আপনার কমেন্ট