হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, নয়াদিল্লিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক বিজ্ঞান অনুষদের ইরানবিদ্যা মিলনায়তনে মহান ফারসি কবি হাফিজ শিরাজির সাহিত্যিক ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা স্মরণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ফারসি সংস্কৃতি ও সাহিত্যে হাফিজ শিরাজির অবস্থান এবং তাঁর চিন্তাধারা ও রচনাবলি ইরান ও ভারতের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা নাতে শরিফ পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে সুরভিত করে তোলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান মোহসেন আলী ফারসি সাহিত্যের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং এই ভাষার মহান সাহিত্যিকদের রচনাবলি তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এরপর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাবেক প্রধান আব্দুর রহিম, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রধান আলিম আশরাফ খান এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক বিজ্ঞান ও ভাষা অনুষদের প্রধান ইকতেদার মুহাম্মদ খান বক্তব্য দেন। তাঁরা হাফিজ শিরাজির সাহিত্যিক, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন।
ইকতেদার মুহাম্মদ খান বলেন, ধর্ম ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে ইরানিরা মূল্যবান অবদান রেখেছেন।
নয়াদিল্লিতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর ফরিদুদ্দিন ফরিদআসর তাঁর বক্তব্যে ইরানি জনগণ ও ফারসিভাষীদের কাছে হাফিজের অবস্থান তুলে ধরেন এবং এই কবির ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণ বিশ্লেষণ করেন।
হাফিজের কবিতা ও চিন্তাধারার বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি তাঁর কাব্যজগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য আধুনিক সাহিত্যিক পদ্ধতিগুলোও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি ইরান ও ভারতের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মানবিক, আধ্যাত্মিক ও নৈতিক চিন্তাধারার প্রসার এবং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান আরও গভীর করার ক্ষেত্রে হাফিজ শিরাজির অনন্য অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মজহার আসিফ সাদি, আমির খসরু ও হাফিজের মতো মহান গজল রচয়িতাদের কবিতায় ফারসি গজলের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা গজল আবৃত্তি করেন এবং হাফিজ শিরাজি সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের সাহিত্যিক ও শৈল্পিক দক্ষতার পরিচয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ভারতীয় ফারসি কবি মেহেদি বাকের খান তাঁর রচিত একটি ফারসি গজল আবৃত্তি করেন।
আপনার কমেন্ট