বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬ - ১১:১৩
ইরানকে বাদ দিয়ে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব: ওমান

ইরান, ইরাক ও পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্যদেশকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি। তিনি বলেছেন, ইরানকে বাদ দিয়ে গড়ে তোলা নিরাপত্তাব্যবস্থা স্বভাবতই অস্থিতিশীল এবং তা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: সোমবার যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে ‘পারস্য উপসাগরে অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি ইরানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করে দেশটিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিদেশি শক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন।

আল বুসাইদি বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থা একটি ভুল ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত—আর তা হলো, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে মৌলিক বৈরিতা রয়েছে। অথচ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ অঞ্চলের দেশগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করেছে।

তিনি বলেন, ৯ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যা, তিন হাজার বছরের ইতিহাস এবং পারস্য উপসাগরের উপকূলরেখার প্রায় অর্ধেকের অধিকারী ইরানকে বাদ দিয়ে কার্যকর কোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েক দশক ধরে বিদেশি সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতারও সমালোচনা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক চুক্তি, গোয়েন্দা সহযোগিতা, নৌবাহিনীর মোতায়েন এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব ব্যবস্থার কিছু সুফল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এর রাজনৈতিক মূল্য ছিল উল্লেখযোগ্য।

আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে বাইরের শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা কীভাবে জটিলতা তৈরি করেছে, তা বোঝাতে তিনি ইরানের পরমাণু ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল নিয়ে আলোচনার উদাহরণ দেন।

আল বুসাইদি জানান, ২০২৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ দফা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও তিন দফা পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছিল ওমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের আগে সেই সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তি সম্পাদিত হয়নি।

তিনি আরও জানান, সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির প্রাথমিক কাঠামো প্রণয়নে ওমান ও ইরানের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কিছু রাজনৈতিক বাধা রয়েছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে ১৯৭৬ সালে উত্থাপিত পারস্য উপসাগরের উপকূলবর্তী আটটি দেশের যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব দেন আল বুসাইদি। তাঁর মতে, একটি অনাক্রমণ চুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি হতে পারে।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে সামরিক অঙ্গীকারের পরিবর্তে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের ভূমিকা বাড়ানো উচিত। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব নিজেরাই নিতে হবে; বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha