মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্সের সিনেটে ২২৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিপক্ষে ভোট দেন ১০৫ জন সিনেটর। জনসমাগমস্থলে সহিংসতা ও ভাঙচুরের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং সেই অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করাই বিলটির মূল উদ্দেশ্য।
গত মে মাসে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ের পর প্যারিস সাঁ-জারমাঁর (পিএসজি) সমর্থকদের মধ্যে সংঘটিত সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে বিলটি উত্থাপন করা হয়। পরে চলতি মাসে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সময় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় এতে আরও কিছু বিধান যুক্ত করা হয়।
বিল অনুযায়ী, সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী করা যেতে পারে, এমনকি তাঁরা সরাসরি ভাঙচুরে অংশ না নিলেও। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ইউরো বা প্রায় ১১ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে সরকার।
এ ছাড়া ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক সহায়তার অর্থের একটি অংশ জব্দ বা কেটে নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
বিলটির পাশাপাশি একটি সংশোধনীও অনুমোদন করেছে সিনেট। এর আওতায় জনশৃঙ্খলা গুরুতরভাবে বিঘ্নিত করতে পারে—এমন অনলাইন কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে সহিংসতা, ভাঙচুর বা দাঙ্গায় উসকানি দেয়—এমন কনটেন্টের ক্ষেত্রে এ বিধান কার্যকর হবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো ২৪ ঘণ্টা সময় পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা অপসারণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে ব্লক করা বা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া বিক্ষোভের ওপর নতুন প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞাসহ আরও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাও অনুমোদন করেছে সিনেট।
বিলটি এখন পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে উত্থাপন করা হবে। সেখানে পরবর্তী আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষে বিলটির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে।
আপনার কমেন্ট