বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬ - ২০:৩০
শাহাদাতের চেতনায় উজ্জীবিত জাতি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: হুতি নেতা

ইয়েমেনের বিপ্লবী নেতা সাইয়্যেদ আবদুল মালিক আল-হুতি বলেছেন, শাহাদাতের চেতনায় উজ্জীবিত জাতিকে জালিম ও স্বৈরশাসকেরা কখনো অপমানিত করতে বা তাদের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মুসলিম উম্মাহকে জুলুম ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইয়েমেনের শহীদ দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন আবদুল মালিক আল-হুতি। তাঁর বক্তব্যে শাহাদাতের চেতনা, মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব, জিহাদ, ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ উঠে আসে।

আল-হুতি বলেন, শহীদ দিবস পালনের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের জনগণ শাহাদাতের চেতনাকে আরও জাগ্রত করে। এই চেতনা জাতিকে ভয়ের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কর্মতৎপরতা, গতিশীলতা ও কার্যকারিতা বাড়ায়।

তিনি বলেন, শাহাদাতের চেতনায় উজ্জীবিত থাকলে জালিম ও স্বৈরশাসকেরা মুসলিম উম্মাহকে অপমানিত করতে কিংবা তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না।

শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরে আল-হুতি বলেন, আল্লাহর পথে শহীদরা উদারতা, আত্মত্যাগ, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দৃঢ়তার অনুকরণীয় আদর্শ। তাঁদের জীবন থেকে মুসলিম উম্মাহ ধৈর্য, আত্মত্যাগ এবং জুলুম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে অবিচল থাকার শিক্ষা পায়।

ইয়েমেনের এই নেতা বলেন, শত্রুরা মুসলিম উম্মাহর ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, তাদের সম্পদ দখল এবং ভূখণ্ড দখলের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। মর্যাদা, নিরাপত্তা ও প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি জাতিকে এমন শক্তি ও সামর্থ্য অর্জন করতে হবে, যাতে নিজেদের লক্ষ্য করে চালানো যেকোনো আগ্রাসনের মোকাবিলা করা যায়।

আল-হুতি বলেন, জালিম, অপরাধী ও দুষ্কৃতকারীদের অনিষ্ট থেকে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করতে জিহাদ প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, জিহাদ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং স্বৈরাচারী শক্তির আধিপত্য থেকে মুক্ত করার একটি উপায়। এর অন্যতম লক্ষ্য ও ফল হলো সমাজে সত্য, ন্যায়বিচার ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে আল-হুতি দাবি করেন, ব্রিটিশ দখলদারত্ব এবং পরবর্তী সময়ে ইহুদিবাদী দখলদারত্বের আগে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে ইহুদি জনগোষ্ঠী বা ব্রিটেনের বিরুদ্ধে বিশেষ কোনো অবস্থান ছিল না। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের স্বার্থ ও অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে ব্রিটিশরা এবং ইহুদিবাদীরা শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের দুর্বল জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

শহীদদের মর্যাদা সম্পর্কে তিনি বলেন, আল্লাহর অন্যতম বড় অনুগ্রহ হলো, শহীদরা আনন্দ, সুসংবাদ ও পরম সন্তুষ্টির অবস্থায় থাকেন।

মুসলিম উম্মাহর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে আল-হুতি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে উম্মাহ নিজেদের পবিত্র দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে। এই অবহেলার সুযোগে জালিম, স্বেচ্ছাচারী ও অত্যাচারীরা সমাজে জুলুম ও দুর্নীতি ছড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জালিম ও অত্যাচারীরা পৃথিবীকে অন্যায়, নিপীড়ন, অনিষ্ট ও দুর্নীতিতে ভরিয়ে তুলেছে। তাদের কর্মকাণ্ড মানবসমাজের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে এবং মানুষকে নানা সংকট, দুর্ভোগ ও যন্ত্রণার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে আল-হুতি বলেন, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করে নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কসহ লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha