হাওজা নিউজ এজেন্সি: কোম সফরে আলেমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে শত্রুপক্ষ এখন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে।
জেনারেল জালালি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র, নৌ ও ড্রোন সক্ষমতার অসম প্রতিক্রিয়া এবং ইরানি জনগণের সুসংহত প্রতিরোধের মুখে শত্রুপক্ষের সামরিক শক্তি প্রত্যাশিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তারা সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ, আতঙ্ক সৃষ্টি ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে জনগণ ও কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
এ পরিস্থিতিতে বিচক্ষণতার সঙ্গে ভোগব্যয়, অপচয় পরিহার এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনারেল জালালি বলেন, যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি সরকার ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যক্রম ও জনসেবা সচল রাখার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত মেরামত করে স্বাভাবিক সেবা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় জনসেবা অব্যাহত রাখা এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষায় জনগণের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জালালি বলেন, পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং খাদ্যসামগ্রীর অপচয় রোধের মাধ্যমে জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। বিশেষ করে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার জরুরি। একই সঙ্গে ঘরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পণ্য মজুত করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।
দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের প্রস্তুতি ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশ রক্ষায় জনগণের এই অঙ্গীকার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার, সরকারকে সহযোগিতা এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অংশগ্রহণের মাধ্যমেও জনগণ এই দায়িত্ব পালন করতে পারে।
আপনার কমেন্ট