হাওজা নিউজ এজেন্সি: শুক্রবারের জুমার নামাজের খুতবায় তিনি এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ জাওয়াদ হাজ আলী আকবারি বলেন, ওয়াশিংটন বারবার আলোচনার কথা বলছে, চিঠি পাঠাচ্ছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। কিন্তু ইরানি জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের এসব কৌশলের ফাঁদে পা দেবে না।
তিনি বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, ইরানের জনগণ তা এখনো ভুলে যায়নি। তাই ওয়াশিংটন যখন আলোচনার প্রস্তাব দেয়, তখন এর পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
পবিত্রতা ও শালীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, চারিত্রিক পবিত্রতা মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যতম ভিত্তি। মানুষ যখন নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তখনই সে কল্যাণের পথে এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবারব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিয়ে সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ শালীন জীবনযাপন কেবল নৈতিক উপদেশ নয়, বরং একটি সুস্থ ও আদর্শ সমাজ গঠনের ভিত্তি। যে সমাজে শালীনতা ও লজ্জাশীলতার চর্চা বেশি, সে সমাজের মানুষ তত বেশি সুখী হয়।
শিশুদের ছোটবেলা থেকেই চারিত্রিক পবিত্রতা ও শালীনতার শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে মা-বাবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শালীনতা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের ভেতর থেকেই গড়ে ওঠে। আইন মূলত তাদের জন্য, যারা নৈতিকতার পথ থেকে বিচ্যুত হয়।
ইরানের তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে তেহরানের এই ইমাম বলেন, শত্রুরা দেখতে পাবে, ইরানের তরুণেরা শহীদদের পথ অনুসরণ করতে প্রস্তুত। সর্বোচ্চ নেতা গত ৪০ দিনে তরুণদের উদ্দেশে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন, যা দেশের অগ্রগতির পথনির্দেশনা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৭০ বছর ধরে ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। সরাসরি সংঘাতে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির পরিচয় নয়, বরং দুর্বলতার প্রকাশ। মার্কিন আলোচনার প্রস্তাবের মধ্যেও বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণও প্রস্তুত রয়েছে।
পারমাণবিক অস্ত্রনীতি পুনর্বিবেচনার দাবি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আলোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা সর্বোচ্চ নেতার কাছে পেশ করা উচিত। সর্বোচ্চ নেতা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সবাই তা মেনে নেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ পারমাণবিক নীতিমালা পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, এ দাবি আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং জনগণের সচেতন উপলব্ধির প্রতিফলন।
আপনার কমেন্ট