বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬ - ১২:০৫
অপমান-লাঞ্ছনা নয়, মুসলমানদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন চায় ইসলাম: আয়াতুল্লাহ তাবাতাবায়ি নেজাদ

ইসলাম মুসলমানদের সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের শিক্ষা দেয়। অপমান-লাঞ্ছনার চেয়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা উত্তম বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসফাহানের জুমার নামাজের ইমাম ও ওয়ালি ফকিহের প্রতিনিধি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ ইউসুফ তাবাতাবায়ি নেজাদ। তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে শহীদদের আত্মত্যাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোরগাব শহরের জুমার নামাজের ইমাম, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আলেমদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগ, জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং জিহাদের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

হযরত ফাতিমা যাহরা (সা. আ.)-এর শাহাদাতের দিনগুলো উপলক্ষে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে আয়াতুল্লাহ তাবাতাবায়ি নেজাদ শাহাদাতকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ মর্যাদা অর্জনের জন্য যোগ্যতা ও উপযুক্ততা থাকা প্রয়োজন।

ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আট বছরব্যাপী ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দেশটির কাছে যদি বর্তমানের মতো ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থাকত, তাহলে যুদ্ধ অনেক কম সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত।

অপমান-লাঞ্ছনা নয়, মুসলমানদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন চায় ইসলাম: আয়াতুল্লাহ তাবাতাবায়ি নেজাদ

পবিত্র কোরআনের ‘তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত রাখো’—আয়াতটি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি ও জিহাদের চেতনা শত্রুর মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা সৃষ্টি করে।

যুদ্ধের সময় নৈতিক নীতিমালা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইসফাহানের জুমার নামাজের ইমাম বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে ইরান শত্রুপক্ষের ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করেনি।

শহীদদের আত্মত্যাগকে দেশের নিরাপত্তার শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ ও আত্মনিবেদন ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে এবং দেশটির ভূখণ্ডে স্থলপথে হামলা চালানো থেকে শত্রুকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-এর বাণীর আলোকে জিহাদকে সর্বোত্তম আমলগুলোর অন্যতম উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ তাবাতাবায়ি নেজাদ বলেন, ইসলাম মুসলমানদের মর্যাদা ও সম্মান চায়। অপমান ও লাঞ্ছনার জীবনযাপনের চেয়ে সম্মানজনক জীবন অনেক উত্তম।

তিনি আরও বলেন, শত্রুকে বুঝতে হবে, ইরানের প্রতিরক্ষায় জনগণই প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ব্যক্তি ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালালেও জনগণের সমর্থন ও প্রতিরক্ষার সংকল্প নষ্ট করা সম্ভব নয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha