হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হাওজা ইলমিয়া আহলে বাইত (আ.) হুগলির প্রিন্সিপাল হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ডক্টর মোহসিন রেজা আবদী তিনি তার জুমার খুতবায় বলেন, মৃত্যু মানুষের জীবনের সমাপ্তি নয়; বরং এটি অনন্ত পরকালীন জীবনের প্রথম ধাপ।
তিনি বলেন, ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে মহান আল্লাহ সবাইকে পুনরুত্থিত করবেন। এরপর সংঘটিত হবে মহাপ্রলয় বা কিয়ামত। সেদিন সমগ্র বিশ্বজগতের বর্তমান ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং সকল মানুষকে পুনরায় জীবিত করে মহান আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হবে।
ডক্টর মোহসিন রেজা আবদী বলেন, পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমে কিয়ামতের সূচনা হবে। এরপর মহান আল্লাহর নির্দেশে সমস্ত মৃত মানুষ পুনরায় জীবিত হবে এবং হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। সেদিন কেউ নিজের ক্ষমতা, সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা পার্থিব প্রভাবের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। প্রত্যেক মানুষকে তার জীবদ্দশায় সম্পাদিত প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষের আমলনামা তার হাতে তুলে দেওয়া হবে। যারা দুনিয়াতে সৎকর্ম করেছে, তারা ডান হাতে আমলনামা পাবে; আর যারা পাপ ও অবাধ্যতায় লিপ্ত ছিল, তাদের বাম হাতে অথবা পেছন দিক থেকে আমলনামা দেওয়া হবে। মানুষের ছোট-বড় প্রতিটি কাজের যথাযথ হিসাব নেওয়া হবে। এমনকি কোনো কাজই মহান আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে থাকবে না।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ডক্টর মোহসিন রেজা আবদী বলেন, সেদিন মানুষের আমল ওজন করার জন্য মিজান স্থাপন করা হবে। কারও প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান লাভ করবে। মানুষের হাত-পা ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও তার কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। ফলে কেউ নিজের অপরাধ অস্বীকার করে পার পাবে না।
ডক্টর মোহসিন রেজা আবদী বলেন, ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়ামতের বিচারপর্বের পর মানুষকে সিরাত অতিক্রম করতে হবে। এরপর মহান আল্লাহর ন্যায়বিচার ও রহমতের ভিত্তিতে মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে। যারা ঈমান, সৎকর্ম, তাকওয়া ও আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করেছে, তারা জান্নাতের নিয়ামত লাভ করবে। অন্যদিকে যারা কুফর, জুলুম, পাপাচার ও অবাধ্যতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করেছে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি।
পরিশেসে তিনি বলেন, কিয়ামতের দিনের এই বিবরণ মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং পরকালই মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য। তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত মৃত্যুর আগেই নিজের জীবনকে সংশোধন করা, আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল হওয়া, মানুষের অধিকার রক্ষা করা, অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত থাকা এবং পরকালের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করা। কারণ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষ নিজের কর্মের ফল প্রত্যক্ষ করবে এবং মহান আল্লাহর ন্যায়বিচারের সম্মুখীন হবে।
আপনার কমেন্ট