হাওজা নিউজ এজেন্সি: লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম কমান্ডারদের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বক্তৃতায় বলেছেন, “আমাদের অবশ্যই মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং তাকে পরাজিত করতে জিহাদ করতে হবে। আমরা আত্মসমর্পণ করব না এবং পরাজিতও হব না এবং আমরা মিথ্যার আধিপত্য মেনে নেব না।
শেখ নাঈম কাসেম বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর (দখলদার সরকারের প্রধানমন্ত্রী) সহযোগিতায় রাজনৈতিক গণহত্যা করতে চান, যিনি (নেতানিয়াহু) গাজা উপত্যকায় মানব গণহত্যা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তাতে ব্যর্থ হন। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান খুবই বিপজ্জনক। সে ফিলিস্তিন এবং এর জনগণকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে চায়।
লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব বলপন, শেখ রাগিব হারবের হত্যার সময় থেকে শহীদ সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভির হত্যার সময় পর্যন্ত প্রতিরোধ অনেক অগ্রগতি করেছে। শহীদ কমান্ডাররা শুধুমাত্র খাঁটি মুহাম্মদী ইসলামের পথে চলেছেন। তাদের পথ হল ইসলামী প্রতিরোধের পথ। ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদ শহীদ কমান্ডারদের অগ্রাধিকার ছিল।
তিনি বলেন, শহীদ কমান্ডারদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল তারা আধ্যাত্মিক ও ঈমানী দিকগুলিকে সামরিক দিকগুলির সাথে মিশ্রিত করেছেন।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত বিপজ্জনক
আল-মানার এর রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম শহীদ কমান্ডারদের স্মরণে বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের গাজার নির্যাতিত জনগণের বিরুদ্ধে পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জোর দিয়ে বলেছেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তিনি ফিলিস্তিনের আদর্শকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে চান।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা (ফিলিস্তিন সম্পর্কে) স্বপ্ন এবং কল্পনা মাত্র এবং এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব বলেন, মার্কিন পরিকল্পনা আরব ও মুসলিম দেশগুলির জন্য একটি হুমকি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক নীরবতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি উৎসাহ ছিল।
তিনি যোগ করেন, ট্রাম্প শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের মুখোমুখি হতে চান।
শেখ নাঈম কাসেম জোর দিয়েছেন যে আমরা ফিলিস্তিনিদের যেকোনো স্থানে স্থানান্তরকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করি। সবাইকে যেকোনো উপায়ে ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থন করতে হবে।
শহীদ সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি মুজাহিদদের জন্য একটি আদর্শ ছিলেন
আল-মানার নেটওয়ার্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম শহীদ কমান্ডারদের স্মরণে বক্তৃতায় বলেন, শহীদ “রাগিব হারব” ছিলেন একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় মানুষ এবং তিনি সাহসিকতার সাথে ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।
শেখ কাসেম যোগ করেন, ১৯৮২ সালের আক্রমণে ইহুদিবাদী শাসনের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে সম্পূর্ণভাবে উৎখাত করা, যাতে পরে লেবানন এবং অঞ্চলে প্রতিরোধকেও শেষ করা যায়।
হিজবুল্লাহর মহাসচিব শহীদ সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভিকে মুজাহিদদের জন্য একটি আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যিনি সর্বদা যুদ্ধের সামনের সারিতে থাকতেন। তিনি বলেন, শহীদ মুসাভি সর্বদা বিজয়ে বিশ্বাসী ছিলেন এবং বলতেন- “আমাদের হত্যা কর, এতেই আমাদের জনগণ আরও বেশি সচেতন হবে।”
তিনি শেখ রাগিব হারবের হত্যার সময় থেকে শহীদ আব্বাস মুসাভির হত্যার সময় পর্যন্ত প্রতিরোধের দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ ইমাদ মুগনিয়াহও ছিলেন একজন অত্যন্ত সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তি।
উল্লেখ্য যে লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রতি বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি শহীদ কমান্ডারদের স্মরণ করে, যাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিরোধের শহীদ নেতা সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি, প্রতিরোধের শহীদ নেতা শেখ রাগিব হারব এবং মহান জিহাদী কমান্ডার হাজ ইমাদ মুগনিয়াহ (হাজ রিদওয়ান)।
১৯৮২ সালের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে উৎখাত করা
আল-মানার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক একটি জরুরি খবরে রিপোর্ট করেছে: লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব “নাঈম কাসেম” শহীদ কমান্ডারদের বার্ষিকীতে বক্তৃতায় বিশ্ববাসী এবং সমস্ত নির্যাতিতদের প্রতি ইমাম মাহদী (আজাল্লাহু তায়ালা ফারজাহু শরীফ)-এর জন্মবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব জোর বলেছেন, ১৯৮২ সালের (ইহুদিবাদীদের) আক্রমণের লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে উৎখাত করা এবং লেবানন ও অঞ্চলে প্রতিরোধকে শেষ করা।
আপনার কমেন্ট