হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিবি মুনিরা সাদাত কামরানি, ফিরদুনকেনারের হজরত আমেনা (সালামুল্লাহ আলাইহা) ধর্মীয় বিদ্যালয়ের পরিচালক, হাওজা নিউজের প্রতিবেদকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জিয়ারত সফরের বিষয়ে বলেন: পবিত্র স্থানগুলোর জিয়ারতের মূল লক্ষ্য হলো জ্ঞান ও মারেফাত বৃদ্ধি করা। কেননা এই সফর বিশেষ এক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে— এমনকি কারবালা ও নাজাফের নাম শুনলেই হৃদয়ে এক অদ্ভুত আবেগ সৃষ্টি হয়, যা মানুষকে এক অদৃশ্য আকর্ষণের দিকে টেনে নেয়। তবে এসব সফরের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দিকই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন: জিয়ারত সফর মানুষকে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যায় এবং এটি আহলে বাইতের (আ.) নূরানি সত্তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সবচেয়ে কাছের ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইমামদের জীবনী ও ইতিহাস অধ্যয়ন করা মূল্যবান, তবে এগুলো প্রকৃত মারেফাত অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়।
তিনি আরও বলেন: প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত তার ইমামের সঙ্গে নিজের অঙ্গীকার নবায়ন করা। কেননা আহলে বাইত (আ.)-এর বারবার সাক্ষাৎ ও জিয়ারতের মাধ্যমে মানুষ বরকত অর্জন করে। কারণ এসব স্থানই হলো ফেরেশতাদের অবতরণস্থল, যাতায়াতের স্থান এবং মহান আল্লাহর রহমতের অবতরণকেন্দ্র। ইবনে কাওলেওয়াই রচিত কামেল আল-জিয়ারাত গ্রন্থে ইমামদের জিয়ারতের ফজিলত ও পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন যে ফিরদুনকেনারের হজরত আমেনা (সালামুল্লাহি আলাইহা) ধর্মীয় বিদ্যালয় পরপর পাঁচ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য কারবালার জিয়ারতের ব্যবস্থা করে আসছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন: এটি ঈমানকে দৃঢ় করার একটি সুযোগ, কারণ নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ পুনর্মূল্যায়ন এবং আহলে বাইত (আ.)-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন মানুষকে পার্থিব আসক্তি থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করে। এটি আত্মিক উন্নতির এক গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা জিয়ারতকারীদের প্রশান্তি ও নূরানিয়াতের দিকে পরিচালিত করে এবং শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক উন্নতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আপনার কমেন্ট